বিশ্বকাপ থেকে বিদায়,আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেনের পর বিদায় নিলো ব্রাজিল : বাংলাদেশে বিশ্বকাপ বলে আর কিছুই রইল না!

ক্রাইমবার্তা রিপোট  বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেনের পর বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো ব্রাজিল। বাংলাদেশে তুলনামূলক বেশি সমর্থক আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের। সেই দিক থেকে বললে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ উন্মাদনা শেষ।

জার্মানি

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ণ জার্মানি। দুই হার ও এক জয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ করেন মেসুথ ওজিলরা।

আর্জেন্টিনা

জিতলে কোয়ার্টারে হারলে বাড়ি-এমন সমীকরণ নিয়ে কাজান এরিনায় মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয় ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনা।

পর্তুগাল

দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। আজ শুক্রবার সেই উরুগুয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়ে সেমিতে চলে যায় ফ্রান্স।

খান নয়ন নামে একজন তার ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘যেদিন জার্মানি হেরেছিল সেদিন অফসোস হচ্ছিল এমনটি নাও হতে পারত। এরপর আর্জেন্টিনার পরাজয়ে বেশ ব্যাথিত হয়েছিলাম। আমাকে বারবার বাংলাদেশের মানুষের ইমোশনকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল। এই আর্জেন্টিনা ঘিরেই তো ৬৫% মানুষের বিশ্বকাপ। ইটালি-হল্যান্ড কে শুরু থেকে ভিষণ মিস করেছি।

আজ যখন ব্রাজিল হারল, মনে হল বাঙ্গালীর ফুটবল উন্মাদনা বলে আর কিছুই রইল না…

এখন মনে হচ্ছে, ফুটবলের রঙ’টাই মিস করব পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে। পাগল ফুটবল জাতি কে অভিনন্দন। তোমরা না থাকলে বিশ্বকাপ না খেলেও, বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ নিতে পারতাম না। জয় হোক কিউট ফুটবল সাপোর্টারদের।

 

খেলল ব্রাজিল, জিতল বেলজিয়াম

ব্রাজিল,

অধিকাংশ সময় বল পায়ে থাকল, স্কিল মুগ্ধতা ছড়ালো, দেখার মতো মুহুর্মুহু আক্রমণ হলো। তবু কাঙ্ক্ষিত গোল এলো না। গোটা ম্যাচে কী দুর্দান্তই না খেলল ব্রাজিল! অথচ হেরে মাঠ ছাড়তে হলো। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘটল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কাজান এরিনায় মুখোমুখি হয় ব্রাজিল-বেলজিয়াম। আক্রমণাত্মক সূচনা করে ব্রাজিল। সূচনালগ্নে নান্দনিক ফুটবলের পসরা সাজায় সেলেকাওরা। ফলে সুযোগ আসতেও বিলম্ব হয়নি। তবে ৮ মিনিটে তা কাজে লাগাতে পারেননি থিয়াগা সিলভা।

পরেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে ব্রাজিল। কিন্তু ১৩ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। কর্নার থেকে কেভিন ডি ব্রুইনার ক্রসে ফার্নান্দিনহোর আত্মঘাতী গোলে লিড পায় রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা।

পিছিয়ে পড়ে গোল পেতে মরিয়া হয়ে পড়ে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ শিবিরে একের পর এক আক্রমণ হানতে থাকে দলটি। কিন্তু বিধিবাম! তা-ই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় দলটির জন্য। আরেকটি গোল হজম করে এর খেসারত গুনতে হয় তাদের। ৩১ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ফেলাইনির কাছ থেকে বল পান লুকাকু। মাঝমাঠ থেকে তা একাই টেনে চারজনকে কাটিয়ে বল বাড়ান ডি ব্রুইনার দিকে। ডি বক্সের বাইরে থেকে অসামান্য দক্ষতায় দূরপাল্লার বুলেটগতির শটে তা জালে বল জড়ান তিনি। এতে স্কোরলাইন হয় বেলজিয়াম ২-০ ব্রাজিল।

এরপর দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে বেলজিয়াম। ঘন ঘন আক্রমণে ব্রাজিল শিবিরে ত্রাস ছড়ান বেলজিয়ানরা। তবে আর গোলের দেখা পায়নি তারা। মাঝে মাঝে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠেছে নেইমার-মার্সেলোরা। তবে তাদের আক্রমণগুলো ছিল একেবারে অগোছালো। ফলে গোল পায়নি তারাও।

স্বভাবতই গোল পেতে বিরতির পর বেলজিয়ামের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সেলেকাওরা। একের এক আক্রমণে রেড ডেভিলদের ব্যতিব্যস্ত রাখে তারা। এবার তাদের আক্রমণ আলোর মুখও দেখে। ৭৬ মিনিটে দুর্দান্ত হেডে লক্ষ্যভেদ করে ব্যবধান কমান অগাস্টো রেনোতো। এতে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ব্রাজিল।

লড়াইয়ের ফেরার সুযোগও পায় তারা। তবে শেষদিকে ডি বক্সে নেইমারের বাড়ানো বল নাগালে পেয়েও তা ঠিকানায় পাঠাতে পারেননি কুতিনহো। এদিন যেন ফুটবল দেবীও তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। না হলে একেবারে অন্তিমলগ্নে নেইমারের অনন্যাসাধারণ শটটি বা কেন দেবদূত হয়ে ঠেকিয়ে দেবেন বেলজিয়াম গোলরক্ষক কর্তোয়া? স্বাভাবিকভাবেই হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তিতের শিষ্যদের। এর মধ্য দিয়ে স্বপ্নের হেক্সা (ষষ্ঠ শিরোপা) মিশন ব্যর্থ হলো তাদের।

ম্যাচ পরিসংখ্যান

ডিসিপ্লিন ব্রাজিল বেলজিয়াম
বল দখল ৫৯% ৪১%
ফাউল ১৪ ১৬
হলুদ কার্ড
শটস ২৪ ১০
শটস অন টার্গেট ১০
ফ্রি কিক ১৬ ১৪
কর্নার কিক
অফসাইড
সেভস
বিকল্প খেলোয়াড়
শটস প্রতিহত

২৮ বছর পর সেমিতে ওঠার হাতছানি ইংল্যান্ডের সামনে

ইংল্যান্ড,

হ্যারি কেনদের ওপর চাপটা ছিল প্রবল। ইতিহাস চোখ রাঙিয়ে বলছিল, নকআউট ম্যাচের চাপ নিতে পারে না ইংল্যান্ড। টাইব্রেকার নামের গোলকধাঁধার উত্তর জানা নেই ইংলিশদের। সেই চাপ সামলেই বদলে যাওয়া নতুন ইংল্যান্ড দিনবদলের বারতা দিয়ে একযুগ পর পা রেখেছে বিশ্বকাপের শেষ আটে। দ্বিতীয় রাউন্ডে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে মানসিক বাধার দেয়াল গুঁড়িয়ে দিয়েছেন কেনরা। তাতে স্বস্তি মিলেছে, তবে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার সময় এখনও আসেনি।

সামনে এখন আরও সম্ভাবনাময় নতুন দিগন্ত, যা উন্মোচিত করতে পেরোতে হবে আরও কঠিন বাধা। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার হাতছানি ইংল্যান্ডের সামনে। অনাগত সম্ভাবনাকে মুঠোবন্দি করার মিশনে আজ সামারায় শেষ আটের যুদ্ধে চেনা শত্র“ সুইডেনের মুখোমুখি ইংল্যান্ড। একই দিনে সোচিতে শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক রাশিয়ার প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। চারটি দলই ইউরোপের।

আজ তাই যাদেরই বিদায় ঘটুক, ইউরোপের জয় নিশ্চিত। কাগজে-কলমে গায়ে ফেভারিটের তকমা সাঁটিয়ে নামবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। নামের প্রতি সুবিচারের পাশাপাশি একটু ভাগ্যের সহায়তা পেলে তাদের জয় প্রত্যাশিত। অবশ্য চার দলের তিনটিই শেষ আটে পা রেখেছে টাইব্রেকার নামের ভাগ্য-পরীক্ষায় জিতে। শুধু সুইডেন জিতেছিল নির্ধারিত সময়ে। সুইডিশদের গোনায় না ধরাটা তাই বোকামিই হবে। ধারে-ভারে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাশিয়ার বড় শক্তি দর্শক সমর্থন ও লড়াকু মানসিকতা।

ইংল্যান্ডের তরুণ দলটি এবার বেশ সুন্দর ফুটবল খেলছে। আক্ষরিক অর্থেই দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন হ্যারি কেন। তিন ম্যাচে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ২৪ বছর বয়সী টটেনহ্যাম তারকা। সুইডেনের বিপক্ষেও তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে ইংল্যান্ড। নিন্দুকরা অবশ্য কেনের কীর্তিকে বড় করে দেখতে নারাজ। কারণ ইংল্যান্ড অধিনায়কের ছয় গোলের তিনটিই এসেছে পেনাল্টি থেকে।

কিন্তু এই বিশ্বকাপেই মেসি, রোনাল্ডোরা হাড়ে হাড়ে বুঝেছেন পেনাল্টি থেকে গোল করা কতটা কঠিন। অধিনায়কের মতো গোটা দলের মানসিক দৃঢ়তার কারণেই এবার টাইব্রেকার দুর্ভাগ্যকে পেছনে ফেলতে পেরেছে ইংল্যান্ড। এর আগে বিশ্বকাপে আটটি কোয়ার্টার ফাইনালের ছয়টিতে হারার বিবর্ণ রেকর্ডও এখন চোখ রাঙাতে পারছে না ইংলিশদের। ১৯৬৬ সালের পর দেশকে আরেকটি বিশ্বকাপ এনে দেয়ার বড় স্বপ্নই দেখছে থ্রি লায়নরা।

সুইডেন-বাধা পেরোনোর আগেই তা জানিয়ে দিলেন ইংলিশ ডিফেন্ডার জন স্টোনস, ‘আমরা জানি, বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই। সুইডেন যথেষ্ট ভালো দল না হলে এতদূর আসতে পারত না। তবে আমি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। আমরা এখানে বিশ্বকাপ জিততেই এসেছি। ট্রফিটা নিয়েই আমরা দেশে ফিরতে চাই।’

সুইডেন শিরোপা-স্বপ্ন না দেখলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের আন্ডারডগ মানতে নারাজ। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দু’দলের শেষ আট দেখায় ইংল্যান্ডের জয় মোটে একটি। দলে কোনো বড় তারকা না থাকার পরও ‘দশে মিলে করি কাজ’ দর্শনে আস্থা রেখে এত দূর চলে এসেছে সুইডিশরা। চার ম্যাচের তিনটিতে কোনো গোল হজম করেনি। বাজিমাত করেছে চকিত প্রতিআক্রমণে।

এবার ইংলিশ মিডিয়ার হাঁকডাকের দাঁতভাঙা জবাব দিতে চান সুইডিশ অধিনায়ক আন্দ্রেয়াস গ্রাংকভিস্ত, ‘ইংল্যান্ড নাকি জয়ের ব্যাপারে ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত! শুনেই আমার হাসি পাচ্ছে। মাঠেই আমরা বুঝিয়ে দেব বলার চেয়ে করাটা কত কঠিন।’

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রাশিয়ার অবশ্য হারানোর কিছু নেই। এরই মধ্যে প্রত্যাশা ছাপিয়ে গেছে তারা। শেষ ষোলোতে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিলেও লুকা মডরিচের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কার্যত কোনো আশা নেই স্বাগতিকদের। নিখাঁদ রক্ষণাত্মক খেলে স্পেনের মতো আটকে রাখা যাবে না ক্রোটদের। ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ স্পেনের চেয়ে ঢের ক্ষুরধার। তবে এবার যে হারে অঘটন ঘটছে তাতে উপসংহারে কাউকে এগিয়ে বা পিছিয়ে রাখার মোটেও নিরাপদ নয়।

Facebook Comments
Please follow and like us: