পরিবেশগত সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সবুজ বিল্পব ঘটাতে হবে : শিবির :আজ সারাদেশে এক লক্ষ গাছ লাগাবে সংগঠনটি

ক্রাইমবার্তা রিপোট: আজ সারাদেশে এক লক্ষ গাছ লাগাবে  ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হুমকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। যা ইতিমধ্যেই এক ভয়াবহ সমস্যায় রুপ নিয়েছে। শুধুমাত্র গাছ লাগানোর মাধ্যমে এই বিপর্যয় অনেকটা রোধ করা সম্ভব। পরিবেশের ক্ষতিকর দিক থেকে রক্ষা পেতে এবং সবুজ-শ্যামলীময় করে তুলতে বেশী করে গাছ লাগাতে হবে। এতে করে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দেশ আর্থিক ভাবেও লাভবান হবে। প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর বিকল্প নেই।

তিনি আজ বুধবার রাজধানীতে ছাত্র শিবিরের উদ্যোগে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০১৮’ উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন। সকাল ৯টায় গাছের চারা রোপণ ও বিতরণের মাধ্যমে সপ্তাহ ব্যাপি এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক আব্দুল জলিল আকন্দ, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য জামিল মাহমুদ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি আজিজুল ইসলাম সজীব সহ কেন্দ্র ও মহানগরীর বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচি সফল করার আহবান জানিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, একটি দেশের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বনাঞ্চল খুবই জরুরী। কিন্তু দেশের বনাঞ্চলের পরিমান মাত্র ১৭ শতাংশ। যেখানে দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার। তার উপর জাতির অমূল্য সম্পদ সুন্দরবনকে পরিকল্পিত ভাবে হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার দলীয় লোকদের কর্তৃক অব্যাহতভাবে বনাঞ্চল দখল ও নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের ফলে প্রতিদিনই অবশিষ্ট বনাঞ্চল কমে যাচ্ছে। বনাঞ্চল কমছে সারা বিশ্বেই। ফলে সারা বিশ্বেই পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। আরো বিপদজনক বিষয় হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেসব দেশ পরিবেশগত ভাবে হুমকির মুখে আছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এরপরেও এদিকটায় সরকার তেমন নজর দিচ্ছে না। প্রতিনিয়ত যে হারে গাছ কাটা হচ্ছে সে হারে গাছ লাগানো হচ্ছে না। ফলে প্রতিবছর আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশকে প্রতিবছরই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করতে হয়। এসব প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বেশী করে গাছ লাগাতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশটা আমাদের সকলের। তাই দেশকে রক্ষা করতে হবে সকলে মিলে। ছাত্রশিবির শত প্রতিকূলতা মধ্যেও জাতীয় দায়িত্ববোধ কখনোই ভূলে যায়নি। ছাত্র শিবির বিভিন্ন সময়ে গরীব ও অদম্য মেধাবীদের সহায়তা, মেধাবী ছাত্রদের সংবর্ধনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শীতবস্ত্র বিতরণ, পথ শিশুদের পাশে থাকা এবং পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগনোসহ বিভিন্ন প্রকার সমাজ কল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও দু:খজনক ভাবে এসব কল্যাণমূলক কাজ করতে গিয়ে ছাত্র শিবিরকে বরাবরই সরকার সৃষ্ট প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি এবং রাখব ইনশাআল্লাহ। আমরা সরকারসহ দেশের আপামর ছাত্র জনতাকে সমাজ ও দেশের কল্যাণে ছাত্রশিবিরের গঠনমূলক কাজে সহযোগিতা করার আহবান জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, ১১জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত সপ্তাহ ব্যাপি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হবে। বিশেষ করে ১৩ জুলাই সকাল ১০টায় সারাদেশে একযোগে ১ লক্ষ গাছের চারা রোপনের ঘোষণা করা হয়েছে। সার্বিক ভাবে কর্মসূচি সফল করতে নিম্নোক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে, র‌্যালি, বৃক্ষরোপন (প্রত্যেক জনশক্তি একটি করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপন করবে), গাছর চারা বিতরণ (প্রত্যেক জনশক্তি ২টি করে গাছের চারা বিতরণ করবে), বৃক্ষ নিধন রোধে জনসচেতনতা তৈরি, ছাত্র ও জনসাধারণকে বৃক্ষ রোপনে উদ্বুদ্ধ করণ, স্কুল ছাত্রদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ, বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও স্টিকার লাগানো।

 

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, পরিবেশ দূষণ, জীববৈচিত্রের ক্ষতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মহা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে তাতে সন্দেহ নেই। তাই পরিবেশগত সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সবুজ বিপ্লব ঘটাতে হবে।

তিনি ছাত্র শিবির দিনাজপুর শহর শাখার উদ্যোগে কেন্দ্র ঘোষিত ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০১৮’ উপলক্ষে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপন কালে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন। এসময় কেন্দ্রীয় স্কুল সম্পাদক রাজিবুর রহমান পলাশ, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য সোহেল রানা, দিনাজপুর শহর সভাপতি তোফায়েল প্রধান, শহর সেক্রেটারি রেজাউল করিম সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্হিত ছিলেন।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিপুল জনসংখ্যার এদেশে স্বাভাবিক ভাবে বেচে থাকার জন্য পরিবেশ সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র রক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশে প্রতিনিয়ত ব্যাপক হারে গাছ কাটা হচ্ছে। কিন্তু সে হারে গাছ লাগানো হচ্ছে না। প্রশাসনের সামনেই নানা চক্র বিভিন্ন ভাবে বনভূমি উজার করে দিচ্ছে। ফলে প্রতিবছর আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। যা ভয়াবহ রুপ ধারণ করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির সম্মুখ্যিন যে দেশ গুলো হবে বাংলাদেশ তার প্রথম দিকে। কিন্তু দূর্ভাগ্য বরাবরই এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিবেশে দূষণমুক্ত রাখা ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে বাচার অন্যতম উপায় বেশি করে গাছ লাগানো। এখানে সফল হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি আয়েরও একটি অন্যতম উৎসে পরিণত হবে। আর এটি তেমন কঠিন কাজও নয়। তাই বৃক্ষরোপন সপ্তাহে জন-মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে এ অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন ছাত্রশিবির কখনোই জাতীয় ও সামাজিক দায়িত্বের কথা ভুলে যায়নি। শত প্রতিকূলতার মাঝেও ছাত্রশিবির প্রতিবছর বৃক্ষেরোপন অভিযান ঘোষণা করে তা বাস্তবায়নে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছরই লক্ষ লক্ষ গাছের চারা রোপন করছে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। এ কাজে আপামর জনসাধারনকে সম্পৃক্ত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমরা মনে করি, সবাই যদি বিশেষ করে ছাত্রসংগঠন গুলো যদি বৃক্ষরোপনে এগিয়ে আসে তাহলে খুব দ্রুত দেশে সবুজ বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। আমরা যার যার অবস্থানে থেকে বৃক্ষরোপন অভিযানে শামিল হওয়ার জন্য সর্বস্তরের ছাত্রজনতার প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, এ বছর ১১ই জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচি ঘোষনা করেছে ছাত্রশিবির। বিশেষ করে ১৩ জুলাই সকাল ১০টায় সারাদেশে একযোগে ১ লক্ষ গাছের চারা রোপনের ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে সারাদেশে সকল জনশক্তি একটি করে ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা রোপণ ও দুটি করে গাছের চারা বিতরণ করবে। এছাড়া বৃক্ষ নিধন রোধে জনসচেতনা তৈরী, বৃক্ষ রোপনে উদ্বুদ্ধ করণের জন্য বর্ণাঢ্য র‌্যালি, ব্যানার, ফেষ্টুন ও ষ্টিকার লাগানোর মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করছে ছাত্র শিবির।

Facebook Comments
Please follow and like us: