জাতিসঙ্ঘ বিরক্ত হয়ে মির্জা ফখরুলকে তলব করেছে :

ক্রাইমবার্ডেক্সরিপোর্টঃ  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতীক নৌকা ভেসে ভেসে বিজয়ের পতাকা নিয়ে বিজয়ের মাসে তীরে ভিড়বে।

ওবায়দুল কাদের আজ সকালে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় সড়ক ভবন নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে বিএনপির আগামী মাস থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের ঘোষনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
এ সময় সড়ক ও জনপথ ( স ও জ) বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতিসঙ্ঘে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তো এখন পুরোপুরি একটি নালিশ পার্টিতে পরিনত হয়েছে। তারা যে একটি নালিশ পার্টি তারা তা বারবার প্রমাণ করেছে। জাতিসঙ্ঘে গিয়েও তারা তারই পুনরাবৃত্তি করবে।

তিনি বলেন, কোনো দেশে সংকট থাকলে তা নিরসনের জন্য জাতিসংঘ তাদের একজন দূত পাঠায়। তিনি ওই সংকট নিরসনের জন্য প্রচেষ্ঠা চালান। বর্তমানে দেশে কোন সংকট না থাকায় তারা কোন দূত পাঠায়নি।

কাদের বলেন, কিন্তু এরপরও বিএনপির নেতারা এত নালিশ শুরু করেছে যে জাতিসংঘও বিরক্ত হয়ে তাদের নালিশ শুনার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তারা তলব করেছে। অবশ্য আমাদের এ নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই। তবে জাতিসংঘে তাকে কেন ডাকা হয়েছে তা নিয়ে আমরা তড়িঘড়ি করে কোন মন্তব্যও করতে চাই না।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ বিশ্বের আন্তঃরাষ্ট্রিক সর্বোচ্চ একটি ফোরাম। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা আমাদের পাশে এসে দাড়িয়েছে। তাই এ বিষয়ে অহেতুক মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করবে কি না তা আমরা জানি না। তারা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন চাইতে পারে। আমরাও সে ধরনের নির্বাচনই চাই।
তিনি বলেন, ‘ আমরা সংবিধানের বাইরে কারো চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না। সংবিধান অনুযায়ী দেশের নির্বাচন হবে। নির্বাচন চলাকালে নির্বাচন কমিশন (ইসি)কে স্বাধীন ও কতৃত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে মাত্র।’
প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন অ আইনটি পাস হতে পারে।

ভারতের আসামের নাগরিক পঞ্জী বহির্ভুত অধিবাসীদের বিতাড়নের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা (ভারত) এখনও এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেনি। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দেখা হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্মিত ১২ তলা ভবনটি উদ্বোধন করবেন। এ ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন ইনটেরিয়রের কাজ চলছে।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)’র অর্থায়নে ভবনটি নির্মিত হচ্ছে বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আরো পড়ুন :

আজ জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের সাথে ফখরুলের বৈঠক 

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার রাত ২টায় অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। তার সাথে গেছেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।

জানা গেছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সংস্থাটির সদর দফতরে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় একটি আলোচনায় অংশ নেবেন বিএনপি মহাসচিব। এতে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুল নিজ দল বিএনপি এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে, এ সফরে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথেও বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হতে পারে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির সাথে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব। দলটিকে এই আগ্রহের কথা জানিয়ে গত সপ্তাহে বিএনপি মহাসচিবকে নিউ ইয়র্কে যেতে আমন্ত্রণ পাঠান অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

জানা গেছে, বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধির মাধ্যমে বিএনপি মহাসচিব বরাবর আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়।

জানা গেছে, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কাছে একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সুপারিশমালা তুলে ধরবে বিএনপি। একই সাথে বিএনপিসহ বিরোধী দল-মতের ওপর ‘সরকারের দমনপীড়নের’ চিত্রও তুলে ধরা হবে। বিগত তিন সিটি নির্বাচন, গুম, খুনসহ রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের বর্ণনাসহ সমসাময়িক পরিস্থিতির একটি সচিত্র প্রতিবেদনও জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানা গেছে।

গত জুলাই মাসের শুরুতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তখন তার আগমনের উদ্দেশ্য ছিল মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন দেখা। ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও যৌথ বৈঠক করেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব।

বিএনপি ওই সময় জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের সাথে একটি বৈঠকের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু তা যেকোনো কারণেই হোক হয়নি। এরই প্রোপটে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বিএনপিকে নিউ ইয়র্কে ডেকেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপি নিরপে ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময়ও বিএনপি একই দাবিতে অনড় ছিল। ওই নির্বাচনের আগে বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠক করে সমঝোতায় আনার চেষ্টা করেছিলেন তৎকালীন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের পাঠানো বিশেষ দূত তারানকো। যদিও তারানকোর সে সমঝোতার ফর্মুলা পরে মানা হয়নি।

Facebook Comments
Please follow and like us: