২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় ৬ জনের মৃত্যু :বজ্রপাতে ৩, পিটিয়ে হত্যা ১, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ১ ও সাপের কামড়ে ১

 ক্রাইসবার্তা ডেস্করির্পোট:: সাতক্ষীরা:   সাতক্ষীরায় পৃথক চারটি ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বজ্রপাতে ৩, গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ১ ও সাপের কামড়ে ১ জনসহ ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বজ্রপাতে আহত হয়েছে আরো ৩ জন। বুধবার বিকালে জেলার কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, বজ্রপাতে তিনজনের মধ্যে আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের কাপসন্ডা গ্রামের মৃত খোদাবক্স গাজীর পুত্র তাছেল গাজী (৩২), কালিগঞ্জের সাইহাটি গ্রামের বিল্লাল খার মেয়ে বিলকীস খাতুন (১৪), চম্পাফুল গ্রামের আকবর শেখের মেয়ে ময়না খাতুন (১৪), নিহত গৃহবধূ আশাশুনি উপজেলার জেলপেটুয়া গ্রামের নির্মল সরকারের মেয়ে ও সনজিৎ মন্ডলের স্ত্রী দিপালী মন্ডল (২৮), বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত কলারোয়া উপজেলার বাঁটরা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে টাইলস মিস্ত্রি নাজমুল হোসেন (২৫) ও সাপের কামড়ে নিহত শ্যামনগর উপজেলায় আটুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর আটুলিয়া গ্রামে শওকাত হোসেনের ছেলে ফারুক হোসেন (২৭)।
আহতরা হলো, একই উপজেলার বালাপোতা গ্রামের রহিম শেখের মেয়ে রুবিনা (১৩) ও তেঁতুলিয়া গ্রামের হায়দার আলীর মেয়ে সাথি (১৪)।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে তারা চার বান্ধবি একসাথে স্কুলে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিলো। তারা চম্পাফুল বাজার এলাকায় পৌছালে বিকট শব্দে বজ্রপাত ঘটে। এতে ৪ জন আহত হয়। স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে পাশ্ববর্তী আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিলকীস খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকী তিন জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় ময়না খাতুনের মৃত্যু হয়। অপর দু’জনের অবস্থাও আশংকাজনক বলেও তিনি জানান।
এদিকে আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের কাপসন্ডা গ্রামের তাছেল গাজী একই গ্রামের খালিদ হোসেনের মৎস্য ঘেরে কর্মচারী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। বিকালে তিনি ঘেরের মধ্যে মাছ ধরার আটন (ঘুনি) বসাচ্ছিলেন। এসময় তার উপর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থালে তার মৃত্যু হয়। তিনি বাড়িতে না ফেরায় সন্ধ্যার দিকে খোজাখুজির পর তাকে ঘেরের পানিতে মৃত্যুাবস্থায় ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে আশাশুনি উপজেলায় স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় দিপালী মন্ডল নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।বুধবার ভোরে উপজেলার জেলপেটুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী সনজিৎ মন্ডল পলাতক রয়েছে।
নিহত গৃহবধূর বাবা নির্মল সরকার অভিযোগ করে বলেন, বিগত ৬ বছর আগে তার মেয়ের সাথে জেলপেটুয়া গ্রামের সনজিৎ মন্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি ছেলেও রয়েছে। বিয়ের পর থেকে পাশের গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে সনজিতের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চরমে উঠে। এরই জের ধরে বুধবার ভোরে দিপালীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে সনজিৎ তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব নাথ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সাতক্ষীরার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
অন্যদিকে কলারোয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক টাইলস মিস্ত্রির মর্মান্তিক মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে কলারোয়া তুলশিডাঙ্গাস্থ আলিয়া মাদরাসার পাশে সাঈদের বাড়ির দ্বিতল ভবনে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার বাঁটরা গ্রামের টাইলস মিস্ত্রি নাজমুল হোসেন ওই ভবনে সকাল থেকে কাজ করছিলো। বিকেল ৪টার দিকে অসাবধানতা বশত ভবনের গা ঘেসে যাওয়া বিদ্যুতের মেইন তারে স্পর্শ হয়ে ২য় তলা থেকে নিচে পড়ে যায়। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত কলারোয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কলারোয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.শফিকুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়াও শ্যামনগরে সাপের কামড়ে ফারুক হোসেন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
উপজেলার আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু জানান, বুধবার রাত দেড়টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় বিষধর সাপের কামড়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

Facebook Comments
Please follow and like us: