বাংলাদেশের নির্বাচন এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে

সরদার আবদুর রহমান : বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনী রাজনীতি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও ক্ষমতাসীন সরকারি মহলের কর্মকা-ের কারণে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া ও কৌশলের আশ্রয় নেয়ার ফলে এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে একটি বিশেষ দেশের উপর চরম নির্ভরতার প্রতিক্রিয়ারও পাল্টা প্রতিক্রিয়া ঘটছে বলে জানা গেছে।
গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রধান দু’টি দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের পাল্টাপাল্টি সফর অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে। ভারতে সফর করে এর সূচনা করে মূলত সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এরপর বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি প্রভৃতিও দিল্লীর দাওয়াতে শরিক হয়। পরে নানা ঘটনার জেরে বিষয়টি জাতিসংঘ পর্যন্ত গড়ায়। সেই সঙ্গে বিদেশী কূটনীতিক মহলও তাদের প্রতিক্রিয়া প্রদান অব্যাহত রাখেন। ফলে বিষয়টি দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়। এছাড়াও বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন, মানবাধিকার, শাসনব্যবস্থা প্রভৃতি বিষয় বিভিন্ন দেশে নানাভাবে আলোচনায় আসে।
ভারত সফরে আ’লীগ : চলতি বছর এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ক্ষমতাসীন বিজেপির আমন্ত্রণে ভারত সফর করে আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। এতে নেতৃত্ব দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এই সফরকালে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন, বিজেপি নেতা এম জে আকবর প্রমুখের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে ওবায়দুল কাদেরের উল্লেখযোগ্য বক্তব্য ছিলো, ‘ভারত কোন দেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে না।’ যদিও এই বক্তব্য ভারতের পক্ষ থেকে দেয়ার কথা। ফলে  এটি রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নে জন্ম দেয়।
ভারত সফরে বিএনপি : এরপর এবছর জুনের প্রথম দিকে বিএনপির তিন নেতা নয়াদিল্লী সফর করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু। এই সফরে তারা ভারতের বিভিন্ন মহলে দুটি রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে আসেন। তা হচ্ছে, পারস্পারিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দ্বিতীয় বার্তা ছিল, ভারতের উচিত তার নিজের স্বার্থে বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো বিশেষ দলকে সাহায্য না করা। ভারতের এটা করা উচিত গণতন্ত্রের স্বার্থে। প্রতিবেশী হিসেবে দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি প্রকৃত বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্বই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে দেখতে চায় বিএনপি। আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছ করার জন্য ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমর্থন চায় বিএনপি। তারা দেখতে চায়, তাদের বিশাল প্রতিবেশী গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে এবং তারা নির্বাচনে বিশেষ কোনো দলকে সমর্থন দিচ্ছে না। ভারতের বিভিন্ন দলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য বিএনপির প্রতিনিধি দলটির এই সফর। তারা বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সঙ্গে কথা বলেন।
এইচটি ইমামের ভারত সফর : বিএনপি’র প্রতিনিধি দলের সফরের দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে নয়াদিল্লী ছুটে যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সরকারের অন্যতম নীতিনির্ধারক এইচ টি ইমাম। ৭ জুলাই নয়াদিল্লীতে স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে একটি মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের রাজনীতিকে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের রাজনীতির মধ্যে বিভাজিত করে তিনি বক্তব্য দেন। এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ভারতের মন ভোলানোর হাজার চেষ্টা চালালেও বিএনপির নেতারা সফল হবেন না।’ আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন না দিতে এবং সেই সাথে আবারো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে ভারত সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয় এই বক্তব্যের মাধ্যমে। জনাব ইমাম আরো বলেন, কিছুদিন আগে বিএনপির তিন নেতা দিল্লীতে এসেছিলেন। আমি তাদের কারো নাম বলবো না, তবে তাদের একজন তো আমাদের দেশে পাকিস্তান ও চীনের এজেন্ট হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। এবিষয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দীর প্রান্তে এসে দেশের জনগণকে এভাবে বিশেষ বিশেষ দেশের ‘পন্থী’ ও ‘এজেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা রাজনীতিতে ‘হীনম্মন্যতা’ আমদানি ছাড়া আর কিছুই নয়।
এরশাদের ভারত সফর : সরকার সমর্থিত বিরোধী দল ও সরকারি জোটের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ভারত সরকারের আমন্ত্রণে এবছর ২২ জুলাই নয়াদিল্লী যান। সফরসঙ্গী ছিলেন দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সুনীল শুভরায় এবং মেজর (অব.) খালেদ আখতার। ওই সফরকে ব্যক্তিগত বলা হলেও তারা (তৎকালীন) রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, ক্ষমতাসীন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব, লোকসভার ডেপুটি স্পিকার, কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী, সাবেক সেনাপ্রধান ও বিবেকানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জেনারেল (অব.) নির্মল চন্দ্র ভিজ প্রমুখের সঙ্গে বৈঠক করেন এরশাদ। সফরের প্রথম দিনই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির সাবেক সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া গত ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষুদ্র দল হিসেবে চিহ্নিত জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির ফয়সল। এসময় উভয়ের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মাঝে বিরাজমান সুসম্পর্ক এবং সার্বিক পরিস্থিতি আলোকপাত, বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উপমহাদেশের ভবিষ্যৎ এবং করণীয় প্রসঙ্গে কথাবার্তা হয় বলে পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
লর্ড কারলাইলের ব্যর্থ দিল্লী মিশন : বাংলাদেশের রাজনীতির আলোচিত ঘটনা ছিলো গত ১১ জুলাই ব্রিটেনের হাউস অব লর্ডসের প্রবীণ সদস্য ও কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আইনজীবী লর্ড কার্লাইলের ব্যর্থ দিল্লী মিশন। তিনি দিল্লী বিমান বন্দরে পৌঁছেও ফিরতি বিমানে তাকে লন্ডন ফেরৎ পাঠানো হয়। ভারতে যাওয়ার দিন কয়েকদিন আগেই লর্ড কার্লাইল জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়াকে কীভাবে ‘সাজানো মামলা’য় ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ হেনস্তা করা হচ্ছে, দিল্লীতে সংবাদমাধ্যমের কাছে সেসব তুলে ধরাই তার উদ্দেশ্য। তার বাংলাদেশের ভিসার আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেই তিনি ঢাকার পরিবর্তে দিল্লীতে ওই সাংবাদিক সম্মেলন করতে চান। সে খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই দিল্লী ও ঢাকার মধ্যে নজিরবিহীন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। ফলে তাকে ভারতের মাটিতে আর নামতে দেয়া হয়নি। ভারতে ঢুকতে না পেরে লর্ড কার্লাইল লন্ডনে ফিরে গিয়ে সেখান থেকে একটি ভিডিও কনফারেন্স করেন। এবিষয়ে বিবিসি’র মন্তব্য ছিলো, ‘সব মিলিয়ে কার্লাইল দিল্লীর মাটিতে ছিলেন তিন ঘণ্টা। কিন্তু ওই তিনটি ঘণ্টাকে ঘিরে ভারত, বাংলাদেশ ও সম্ভবত যুক্তরাজ্যের সম্পর্কেও যে পরিমাণ তোলপাড় হয়েছে, তার নজির খুব কমই আছে।’
জাতিসংঘে বিএনপি : গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এটি ছিলো বাংলাদেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত একটি ঘটনা। জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে তারা জাতিসংঘে যান। তবে সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল কফি আনানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে চলে যাওয়ায় বর্তমান মহাসচিব বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ফলে সংস্থার সহকারী মহাসচিব (রাজনীতি) মিরোস্লাভ জেনকার নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। এসময় দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল অংশ নেন। এসময় মির্জা আলমগীর বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সেজন্য জাতিসংঘের সহায়তা চান। রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে সংলাপে মধ্যস্থতা এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আবেদন জানান। পরে ওয়াশিংটনে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বাধীন বিএনপি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের থিংকট্যাঙ্ক ও লবিস্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বৈঠক করে বলেও জানা যায়।
জাতিসঙ্ঘের উদ্বেগ প্রকাশ : এর আগে গত মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসঙ্ঘে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া এবং আরো কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের সাথে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিচারের আওতায় আনা এবং জনগণের সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। তারা বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসময় জেনেভায় জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর) সংক্রান্ত কার্যকরি গ্রুপ বাংলাদেশ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। তার সাথে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা ছিলেন। এসময় সুইডেন বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে বন্ধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বিবেচনায় রেখে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট পর্যালোচনা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেয়। সুইজারল্যান্ড আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করার ওপর গুরুত্ব দেয়। ইতালি মৃত্যুদণ্ড রহিত করা এবং গুমের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানায়। আয়ারল্যান্ড বাংলাদেশে মানবাধিকার কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
সরব বাংলাদেশের কূটনীতিকরা : গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আগামী নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অবাধে অংশগ্রহণ চান বাংলাদেশের শীর্ষ কূটনৈতিক অংশীদাররা। এ ব্যাপারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, সব মতাদর্শের ব্যক্তির দমন-পীড়নের ভীতি ছাড়াই মুক্তভাবে রাজনৈতিক অভিমত ব্যক্ত করা, দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ-মিছিলে যোগ দেয়ার অধিকার অবশ্যই থাকতে হবে। তিনি বলেন, দলগুলোকে অবশ্যই বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বৈধ অংশগ্রহণকারী এবং পরবর্তী সরকারের সম্ভাব্য নেতা হিসাবে মেনে নিতে হবে। একই অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিশ্বাস করেন। আর সহিষ্ণু রাজনীতি দেশের সবার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস নির্বাচনী প্রচারণাবিষয়ক একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তাঁরা এসব কথা বলেন। ‘শান্তিতে বিজয়’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএইড এবং ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউকেএইড।
অস্ট্রেলিয়ান সংসদে বাংলাদেশ : গত ১৩ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ান সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন প্রসঙ্গে সংসদীয় অধিবেশনের এ আলোচনায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ‘ভয়াবহ’ সরকারি জেল-জুলুমের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। সিনেটর রিচার্ড ডি নাটালির একটি নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপনের প্রেক্ষাপটে এ আলোচনা উঠে আসে বলে জানা যায়।
বাংলাদেশের স্বৈরাচারী তকমা : এবছর অপর একটি আলোচিত বিষয় ছিলো বিশ্বের নতুন পাঁচ ‘স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায়’ উঠে আসে বাংলাদেশের নাম। বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং সেখানে এখন গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদন্ড পর্যন্ত মানা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করে একটি জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান। গত ২৩ মার্চ বিশ্বের ১২৯টি দেশে গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি এবং সুশাসনের অবস্থা নিয়ে এক সমীক্ষার পর জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ তাদের রিপোর্টে এই মন্তব্য করে। রিপোর্টে ১২৯টি দেশের মধ্যে ৫৮টি দেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং ৭১টি দেশকে গণতান্ত্রিক বলে বর্ণনা করা হয়। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এই সমীক্ষা চালানো হয়। এসব দেশের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় পাঁচটি দেশের কথা- বাংলাদেশ, লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া এবং উগান্ডা। রিপোর্টে বলা হয়, এই পাঁচটি দেশ এখন আর গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদ- পর্যন্ত মানছে না। এসব দেশে বহু বছর ধরেই গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছিল। এসব দেশের ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণেই এটা ঘটেছে বলে মন্তব্য করা হয় রিপোর্টে।

Facebook Comments
Please follow and like us: