ঝিকরগাছায় সন্ত্রাসী হামলায় মৎস্য প্রকল্পের সুপার ভাইজারের মৃত্যু

যশোর অফিস:সন্ত্রাসী হামলার ৬ দিন পর মারা গেলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কাগমারী মৎস্য চাষ প্রকল্পের সুপারভাইজার আমানউল্লাহ (৫০)। কাগমারী বাঁওড় থেকে মাছ লুটে বাধা দেয়ায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে ভয়ংকর সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে তার ক্যাডাররা তাকে বেধড়ক মারপিটের পর পানিতে ডুবিয়ে রেখেছিলো। নিহত আমানউল্লাহ উপজেলার পায়রাডাঙ্গা গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ছেলে। তিনি যশোর শহরের কাজীপাড়া এলাকায় স্ব পরিবারে বসবাস করতেন। স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, রঘুনাথপুর-পন্ডিতপুর সমবায় সমিতির কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে কাগমারী বাঁওড়ে মাছের চাষ করে আসছে ‘কাগমারী মৎস্য চাষ প্রকল্প’। অভিযোগ উঠেছে, ওই বাঁওড় থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাছ লুট করে নিয়ে আসছিল কাগমারি জিউলিগাছা গ্রামের মোস্তর ছেলে কালা জাহাঙ্গীর ও তার ক্যাডাররা। কিন্তু ভয়ে কেউ প্রতিবাদ কার সাহস পেতোনা। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে কালা জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে তার ক্যাডার শহিদুল, সুটকি, জামিরুল ও জসিমসহ আরো কয়েকজন বাঁওড়ে মাছ লুট করতে আসে। এসময় তাদের বাধা দেয় দায়িত্বরত সুপারভাইজার আমানউল্লাহ। এসময় সন্ত্রাসীরা প্রথমে তাকে নৌকার বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। পরে তাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ওই প্রকল্পের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসার আগেই তারা চলে যায়। এসময় বাঁওড়ের অন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে ১৮ সেপ্টেম্বর পরিবারের লোকজন হাসপাতাল থেকে আমানউল্লাহকে বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল ২০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে তার অবস্থার অবনতি হয়। এসময় আমানউল্লাহকে ফের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার কাজল মল্লিক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য রুহুল আমিন বলেছেন, এদিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আসর বাদ জানাযার নামায শেষে যশোর কারবালায় আমানউল্লাহকে দাফন করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, তার ভাইকে হত্যার ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
Facebook Comments
Please follow and like us: