২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না

কামাল উদ্দিন সুমন : আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে শংকা দেখা দিয়েছে। একই দিনে রাজধানীতে সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। ২৭ সেপ্টেম্বর বিএনপি সমাবেশ পিছিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর করার ঘোষণা দিয়েছে। সমাবেশের জন্য বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা নয়াপল্টন ব্যবহার করার জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করেছে। অন্যদিকে একই দিন মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল।
গতকাল ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ১৪ দলের সমাবেশ ডাক দেয়। তবে ঐ দিন বিএনপিকে কোনো সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এদিকে একই দিন বিএনপি এবং ১৪ দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশংকা করছে মানুষ। আর সংঘাতের পথে পা বাড়িয়ে দিয়েছে ১৪ দল।
এদিকে একদিনে দুই দলের ডাকা সমাবেশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ বলছে, কি হবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর? দুই দলের অনড় অবস্থানে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র।
রাজনৈতিকমহল বলছেন, বিএনপি তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আগেই কর্মসূচি দিয়েছে কিন্তু হঠাৎ করে ১৪ দলে একই দিন কর্মসূচি দিয়ে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল বলেন, নেতা-কর্মীরা এলাকায় প্রস্তুত থাকবেন। কারও নামে বা কোনো দলের নাম উল্লেখ না করেই নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নাসিম বলেন, ওই অপশক্তি যেন মাঠে নামতে না পারে। ওদের মাঠে প্রতিহত করবেন, রাস্তায় প্রতিহত করবেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগে থেকেই ঢাকা দখলে ছিল, ভবিষ্যতেও ঢাকা আমাদের দখলে থাকবে। শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দখলে থাকবে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চক্রান্তকারীরা মাঠে নামবে। আমরা দেখব কারা মাঠে নামবে, আর কে নামবে না। তিনি বলেন, আগামী একটি মাস আপনাদের কোনো কাজ নেই। ১৪ দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় আপনারা সজাগ থাকবেন। কোনো চক্রান্ত নৈরাজ্য হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রতিহত করব।
এদিকে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর একই দিনে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ ডাকা সত্ত্বেও মহানগর নাট্যমঞ্চে ১৪ দলের সমাবেশ আহ্বান করাকে আওয়ামী লীগের উস্কানি বলে মনে করছে বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমরা প্রথম থেকে সমাবেশ করার পরিকল্পনা করছি। এরপর হঠাৎ করে সরকারি দল সমাবেশ করতে চায়। তারা একদিন পরও করতে পারত।
তিনি বলেন, সরকারি দল হিসেবে তাদের দায়িত্ব বেশি থাকে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখার। কিন্তু একই দিনে সমাবেশ ডেকে তারা নিশ্চয় কোনো উস্কানিমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, যা জনগণের জন্য, দেশের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না।
সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে রাজধানীতে ২৭ সেপ্টেম্বর জনসভা করার ঘোষণা দিলেও তা পরিবর্তন করে ২৯ তারিখ নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ২৭ সেপ্টেম্ববরের পরিবর্তে ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বিএনপি জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য ইতোমধ্যে গণপূর্ত ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। জনসভাটি সফল করার জন্য দলের নেতাকর্মীরা পুরোদমে কাজ করছে। আমরা আশা করি সরকার এই গণতান্ত্রিক সমাবেশের অনুমতি দেবে।
এদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দল ঢাকায় সমাবেশ করবেন। ওই দিন বিকেল ৩টায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে এই সমাবেশ হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও ১৪-দলের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ নাসিম। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মহানগর ১৪ দলের সমাবেশের প্রস্তুতি সভায় নাসিম এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, এখন থেকেই ঢাকা দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট।
নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে নাসিম বলেন, নির্বাচনের প্রচারের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে জেলা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারের কাজ শুরু হয়েছে। ১৪ দলের শরিক দলগুলো দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনের প্রচারের কাজ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনের কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এবার চাই প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক নির্বাচন হোক। কিন্তু যখন কোনো উত্তপ্ত রাজনীতিবিদেরা, দলছুট রাজনীতিবিদেরা, যাদের আদর্শের কোনো ঠিকানা নেই, দলের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই, তাঁরা গণতন্ত্রের কথা বলেন, তখন আমাদের সন্দেহ হয় আবারও সেই অসৎ চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে।
২৯ সেপ্টেম্বর ১৪ দলের সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে নাসিম বলেন, আপনারা ১৪ দলের প্রোগ্রামে আসবেন। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। ঢাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে এ বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। ২৯ তারিখ ১৪ দলের সমাবেশ। আপনারা আপনাদের এমপিকে নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে যান।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমরা এত দিন দেখেছি খেলার সময় খেলোয়াড় ভাড়া করা হয়, এখন দেখছি ড. কামাল হোসেনের মতো নেতারাও ভাড়ায় যাচ্ছেন। আমাদের সঙ্গে খেলবেন, খেলেন। কোনো সমস্যা নেই। ভাড়াটে খেলোয়াড় দিয়ে কি কখনো জয় পাওয়া যায়? যায় না। যাদের নিজেদেরই কোনো অস্তিত্ব নেই তারা অন্য দলে গিয়ে কি অস্তিত্ব পাবে?’
জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আপনারা (যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা) বর্ণচোরা। আপনাদের প্রতি দেশের জনগণের আস্থা নেই। আর বিশ্বাস করি আপনাদের কর্মীদেরও আপনাদের প্রতি আস্থা নেই।’
নির্বাচন বানচালের কোনো চেষ্টা সফল হবে না মন্তÍব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যখনই এ দেশে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই হয়েছে, এই চেনা মুখগুলো নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য বারবার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ সব সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে।
নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের নামে সেনাবাহিনীকে উত্তেজিত করা হচ্ছে দাবি করে নাসিম আরও বলেন,  ‘সেনাবাহিনীকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সকলের মনে আছে ২০০১ সালে কীভাবে একটি দলকে পরাজিত করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। পৃথিবীর কোনো দেশে তাদের সেনাবাহিনীকে এভাবে ব্যবহার করা হয় না। আমরা দেখেছি কীভাবে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে অতীতে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বর্তমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কাজ করবে। নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আছে মাত্র তিন মাস। অল্প কিছুদিনেই হয়তো নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। তাদের সিদ্ধান্ত দেবে।
এদিবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি বলেছেন, বিএনপি জামায়াত মাঠে নামলে তাদের প্রতিহত করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। ওদের হাত-পা ভেঙ্গে দিবেন। ওরা দেশ, মানবতা ও গণতন্ত্রের শত্রু।
তিনি আরো বলেন, কিছু দলছুট ও নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তথাকথিত জাতীয় ঐক্যর নামে তারা এখন ভূতের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বিভেদ ভুলে দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে বিএনপি সূত্রে জানা যায়, জনসভাটি সফল করার জন্য ইতোমধ্যে ঢাকা এবং এর আশপাশের জেলাগুলোর বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এজন্য ঢাকার এবং আশপাশের জেলাগুলোর নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবে বিএনপি। সরকার বাধা দেবে এবং গ্রেফতার করতে পারে এসব বিষয় মাথায় রেখেই কৌশলীভাবে সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেবে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
শামসুজ্জামান দুদু আরো বলেন, বিএনপিকে জনসভার অনুমতি দেয়া হলে লাখো মানুষের ঢল নামবে। তাই সরকার ভীত হয়ে বিএনপিকে জনসভার অনুমতি দিতে চায় না। এবার অনুমতি দেয়ার চিন্তা থাকলেও তারাও আবার সমাবেশ করছে, যা ভালো খবর নয়।
তিনি বলেন, ১৪ দলের নাসিমও এক প্রকার হুঁশিয়ারী দিয়েছেন। বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত প্রতিহত করা হবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যেমন আমরা চক্রান্ত প্রতিহত করেছি, এবারো ১৪ দল জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে লড়াই করে তাদের চক্রান্ত প্রতিহত করবো।
নির্বাচনকালে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বহুদিন ধরেই সোচ্চার মাঠের বিরোধী দল বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট। সম্প্রতি গড়ে ওঠা জোট ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ও একই দাবি জানিয়েছে।
এদিকে আগামী জাতীয় নিবাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করার দাবিতে সোচ্চার হয়ে হয়ে উঠেছে সরকারের বাহিরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো। এজন্য সরকারের বাইরে থাকা অধিকাংশ দলের সমন্বয় ও সমর্থনে যাত্রা শুরু করা ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ দাবিটি পূরণে সরকারকে সময়ও বেঁধে দিয়েছে। তবে সরকারি দল বরাবরই বলে আসছে সংবিধানের বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা- তবে কী আবারও সংঘাতময় পরিস্থিতি ফিরে আসছে।
বিশিষ্টজনরা বলেছেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে আলোচনায় বসা। নিজেদের অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে আলোচনায় বসলেই সমাধান বেরিয়ে আসবে। যেভাবেই হোক ঐক্যে আসতে হবে বলে মন্তব্য তাদের।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য হওয়া উচিত। সংকট নিরসনে যেভাবেই হোক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা ঐক্য তৈরি হতে হবে।
আগামী নির্বাচন কীভাবে হবে, সংসদ ভাঙা হবে কিনা, নাকি নতুন কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করা হবে- বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এসব বিষয়ে একটি সমাধানে আসতে হবে।
আজিজুল ইসলাম বলেন, সংকটের সমাধান না হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিনিয়োগে মন্দা আরও বাড়বে। এমনিতেই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে না। অনেক দিন ধরে এটা স্থবির হয়ে আছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, সংকট নিরসনে আমি সব সময় আলোচনার কথা বলে আসছি। আলোচনা হতে পারে। জাতীয় ঐক্য যারা করেছেন তাদের উচিত হবে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা। সরকারেরও উচিত আলোচনায় বসা। কারণ আলোচনার বিকল্প কিছু নেই। অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য মানের নির্বাচন নিশ্চিত করার ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকলে তা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলকর হবে না। আর গণতন্ত্রের অর্থই হল আলাপ-আলোচনা। গণতন্ত্রের কথা বলে কোনো আলাপ-আলোচনা হবে না এটা তো হতে পারে না।
আলোচনায় না বসলে কী হবে? জবাবে শাহদীন মালিক বলেন, ভবিষ্যতে কী হবে সেটা বলা সম্ভব নয়। তবে আমি মনে করি, যারা আলাপ-আলোচনা করে না বা সংলাপে বসে না তারা আমার দৃষ্টিতে গণতান্ত্রিক হতে পারে না। বর্তমান বিশ্বে যেসব দেশে হানাহানি বিরাজ করছে, সশস্ত্র সংঘাত আছে, তার মূলে রয়েছে সংলাপ না হওয়া। আমাদের এখানে হানাহানি হবে এটা আমি বলছি না। আমি বলছি যে, সংলাপ না হলে হানাহানির শঙ্কা সব সময় বেড়ে যায়।

Facebook Comments
Please follow and like us: