রাখাইনে আতঙ্ক আর অবিশ্বাসের মধ্যে বসবাস রোহিঙ্গাদের-জাতিসংঘ

ভয়েস অব আমেরিকা : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের মধ্যে জীবন-যাপন করছেন আর তাদের মুক্তভাবে চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় শর্ত এখনও পূরণ হয়নি। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআর ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপি’র দু’টি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি সরেজমিন মূল্যায়নের পর এই তথ্য জানিয়েছে। একবছরের বেশি সময় আগে রোহিঙ্গা সংকট তীব্র হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সরেজমিন রাখাইনের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা গেছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাত লাখের মতো মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। তবে এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল দুটি রাখাইনের ২৩টি গ্রাম ও তিনটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা যেখানে খুশি যেতে পেরেছেন ও যার সঙ্গে ইচ্ছা কথা বলতে পেরেছেন। ইউএনএইচসিআর’র মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহিকিক বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে দেখা করার মূল লক্ষ্য ছিল তারা কোন পরিস্থিতিতে বাস করছে ও কী কী সমস্যার মোকাবিলা করতে হচ্ছে তা খুঁজে বের করা।

মাহিকিক বলেন, গত বছর শুরু হওয়া সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে এসব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তাই পরিষ্কারভাবে সেখানে মানুষ কিভাবে বাস করছে তার ওপর এটার প্রভাব রয়েছে। জাতিসংঘ দল যাদের সঙ্গে দেখা করেছে তাদের সবাই খুব কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে।

মাহিকিক বলেন, ‘রাখাইনের লোকজন তাদের জীবন-ধারণের অক্ষমতার কথা সম্পর্কে জানিয়েছে। মুক্তভাবে চলাফেরার বিষয়ে প্রচ- বিধি-নিষেধ থাকায় তারা মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আতঙ্ক,  প্রতিবেশী সম্প্রদায়ের প্রতি অবিশ্বাস ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি অনেক এলাকায় প্রকট হয়ে উঠেছে।’

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য মৌলিক সেবা না পাওয়ার কারণেও এই আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের প্রভাব রয়েছে। এটা সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বোঝাপড়াকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। এতে তাদের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে ওঠার মতো সামাজিক সংযুক্তিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা যেসব সম্প্রদায় পরিদর্শন করেছি তারা বারবার স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার কথা জানিয়েছে। এছাড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার সুযোগের ব্যাপারেও সেখানে বিধি-নিষেধ রয়েছে।’

ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপি গত জুন মাসে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এই সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের  স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যর্পণে ও রাখাইন রাজ্যে তাদের প্রত্যাবাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতির প্রাথমিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে মাহিকিক বলেন, ‘এখনও এসব শর্তের কোনওটাই পূরণ হয়নি।’

Facebook Comments
Please follow and like us: