কম্বলে মুড়িয়ে কনস্যুলেট ভবন থেকে বের করা হয়েছিল খাশোগির মরদেহ!

ক্রাইমবার্তা রিপোটঃ    একজন সৌদি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার পর তার মরদেহ কেটে টুকরো টুকরো করা হয়নি; ইস্তানবুলের স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কনস্যুলেট ভবন থেকে মরদেহ বের করা হয় কম্বলে মুড়িয়ে। খাশোগির মরদেহ ফিরিয়ে দিতে সৌদি আরবের প্রতি যখন চাপ জোরালো হচ্ছে, ঠিক তখন এমন কথা জানালেন ওই কর্মকর্তা।

জামাল খাশোগি
২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। শুরুতে সৌদি আরব দাবি করেছিল,তিনি ভবন থেকে জীবিত বের হয়ে গেছেন। তুরস্ক দাবি করে, ১৫ সদস্যের একটি গোয়েন্দা স্কোয়াড কনস্যুলেটের ভেতরেই খাশোগিকে হত্যা করেছে। সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) মধ্যরাতে প্রথমবারের মতো তারা খাশোগি নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে। তবে সৌদি আরবের দাবি, খাশোগিকে হত্যার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। খাশোগি কনস্যুলেটে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং ধস্তাধস্তির সময় তার মৃত্যু হয়।

তুর্কি সূত্র বলে আসছে, কনস্যুলেটের ভেতরেই যে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে তার পক্ষে কর্তৃপক্ষের হাতে উপযুক্ত প্রমাণ রয়েছে। তবে তুর্কি কর্তৃপক্ষ এখনও সে প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। তুর্কি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, খাশোগির মৃতদেহ কেটে টুকরো টুকরো করা হয়েছে এবং তা পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে তা নাকচ করে দিয়েছেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৌদি সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা রয়টার্সের কাছে দাবি করেন, নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সৌদি স্কোয়াডের সদস্যরা খাশোগির মরদেহ কম্বলে পেঁচিয়ে নেয়। তারপর তা কনস্যুলেটের একটি গাড়িতে করে বাইরে নেওয়া হয় এবং ‘স্থানীয় সহযোগী’র কাছে সৎকারের জন্য তা হস্তান্তর করা হয়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ সালাহ তুবাইগি এ ঘটনার কোনও আলামত না রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

রয়টার্সকে ওই সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খাশোগির মৃতদেহ যাকে দেওয়া হয়েছে তিনি ইস্তানবুলের বাসিন্দা। তবে তার জাতীয়তা প্রকাশ করেননি। খাশোগির মরদেহ শেষ পর্যন্ত কী করা হয়েছে সে ব্যাপারে তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন ওই সৌদি কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সৌদি কর্মকর্তা রয়টার্সের কাছে আরও দাবি করেন, খাশোগির মৃতদেহ লুকিয়ে ফেলার পর ভুয়া একটি প্রতিবেদন তৈরি করে স্কোয়াডটি। সেখানে বলা হয়, তুর্কি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে খাশোগি হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, এরপর দ্রুত তারা তুরস্ক ছেড়েছে। তবে সংশয়বাদীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি খাশোগিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং তাকে তার নিজ ইচ্ছায় সৌদি আরবে ফিরিয়ে নেওয়াটাই মূল উদ্দেশ্য ছিল তবে ওই স্কোয়াডে সামরিক কর্মকর্তা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ রাখার কারণ কী ছিল।

সৌদি রাজদরবারের একজন ঘনিষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, খাশোগির মরদেহের খোঁজ সৌদি আরবের কাছে নেই। ওই সূত্র সিএনএনকে বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্থানীয় সহযোগীদের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়েছে। সিএনএন এখনও এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ে সমর্থ হয়নি।

Facebook Comments
Please follow and like us: