ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯
সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটিতে উদ্বেগ বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুরক্ষায় চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে পররাষ্ট্র দফতর কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর কাছে মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি। নির্বাচনে জালিয়াতি, ভোট কারচুপি, ভোটার নির্যাতনের নানা দিক তুলে ধরে এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় ওই চিঠিতে।

মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো বিষয়টি সামনে আসে কমিটির টুইট বার্তায়। পরে অবশ্য হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে পুরো চিঠিটি প্রেস রিলিজ আকারে প্রকাশ করা হয়। এ দিকে একই দিন যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক দলীয় শাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নেতিবাচক প্রবণতা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন । ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবের গুরুতর অভিযোগ এ প্রবণতাটিকে আরো শক্তিশালী করেছে। এ নেতিবাচক প্রবণতার বিষয়টি আমলে নিয়ে এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে পদক্ষেপ সংবলিত একটি রূপরেখা প্রণয়নের জন্য আমরা অনুরোধ জানাই। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি সমর্থন একান্ত জরুরি। সে যাত্রায় বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে ব্যাপকভিত্তিক অনিয়মের প্রতিবেদন বেরিয়েছে, তা মার্কিন স্বার্থের প্রতি চরমভাবে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের এশীয় নীতির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, এ বছর এশিয়ায় আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে সিরিজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটা খুব গুরুত্বপূর্র্ণ যে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তার অব্যাহত অঙ্গীকার ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। যেটি বাংলাদেশ থেকেই শুরু হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের নির্বাচনটিকে একটি বড় মাত্রার জালিয়াতিপূর্র্ণ নির্বাচন আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয় ওই চিঠিতে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ও গর্বিত গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন চলাকালে প্রচারণায় সহিংসতা, গণগ্রেফতার এবং স্বাধীন মত প্রকাশের বিষয়ে আমরা বরাবরই হতাশ ছিলাম। বলা চলে, পুরো নির্বাচনব্যবস্থাটিই হুমকির মুখে পড়েছিল।

Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


Thia is area 1

this is area2