২০ ভাগ ভোটারও কেন্দ্রে যায়নি, ৩৮ ভাগ ভোট পায় কি করে: ওয়ার্কার্স পার্টির প্রশ্ন

ক্রাইমবার্তা রিপোটঃ   বরিশাল: বরিশালে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে সরকারী দলের লোকজন কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাকির মাধ্যমে ওয়ার্কার্স পার্টির বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে গত ২৪ মার্চ বরিশালের ৭ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন বাবুগঞ্জে সরকারী দলের লোকজন প্রকাশ্যে ভোট কেন্দ্র দখল করে নৌকায় সিল মেরে ওয়ার্কার্স প্রার্থী মোজাম্মেল হক ফিরোজের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বরিশাল জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি। সোমবার বেলা ১২টায় বরিশাল নগরীর ফকির বাড়ি রোডে ওয়ার্কার্স পার্টি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সংগঠনের জেলা কমিটির সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শেখ টিপু সুলতান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বাবুগঞ্জ উপজেলায় ১ লাখ ১৫ হাজর ১৬২ জন ভোটারের মধ্যে ২০ ভাগ ভোটারও ভোট কেন্দ্রে যায়নি। সেখানে কি করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ৩৮ ভাগ ভোট পেলো।
তিনি বলেন, বাবুগঞ্জের ৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি কেন্দ্রে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির নিরবতায় এবং প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে সরকারি দলের লোকজন কেন্দ্র দখল করে ব্যাটল পেপারে সিল মেরেছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, বরিশাল নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কালাম মোল্লার নেতৃত্বে একদল ক্যাডার ভোটারদের কাছ থেকে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের ব্যালট জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সিল মেরেছে বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এছাড়া, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা তারিক-বিন ইসলামের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের বহর নিয়ে একদল ক্যাডার মাধবপাশা, চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতায় নৌকায় সিল মারে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নিলু।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী শুধু জয়ের জন্য নির্বাচন করেনি। ভোট কেন্দ্র বিমুখ ভোটারদের কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ওয়ার্কার্স পার্টি।
এভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে জনগনের ভোটাধিকার হরণ করা হলে জনগণে র মধ্যে স্থায়ীভাবে অনাস্থাবোধ সৃষ্টি হবে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ।

এ সময় জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নিলু ও সম্পাদক শেখ টিপু সুলতান ছাড়াও জেলা কমিটির সদস্য বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বিএম শাহজাহান এবং জেলা কমিটির সদস্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শান্তি দাসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments
Please follow and like us: