বুধবার | ২০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৩রা জুন ২০২০ ইং | ১০ই শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী | গ্রীষ্মকাল

এপ্রিল ৩, ২০১৯
ডাক্তার সংকটে বেহাল দশায় কলারোয়া হাসপাতাল

ক্রাইমবার্তা রিপোঃ বর্তমান সরকার যখন মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন ঠিক তখন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা হাসপাতালে ডাক্তার সংকট চরমে পৌছেছে। উপজেলার একমাত্র সরকারি এই ৫০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ৩৪জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ২জন ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসাসেবা চলছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডাক্তার সংকট ও হাসপাতালের নানাবিধ সমস্যার কারণে উপজেলার ৩ লক্ষাধিক জনসাধারণ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি নতুন নয়, মাসের পর মাস এমন করুণ-বেহাল অবস্থা চললেও সমাধানের আলো দেখাই যাচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রাধিকার অনুযায়ী সহকারী সার্জন, মেডিকেল অফিসার, ডেন্টাল সার্জন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গাইনি ও শিশু চিকিৎসক, ১২টি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসারসহ অন্যান্য বিভাগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পদ রয়েছে ৩৪টি। এরমধ্যে বর্তমানে ৪জন কর্মরত আছেন। এদের ১জন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা (টিএইচও), ২জন মেডিকেল অফিসার ও ১জন বিডিএস ডেন্টাল সার্জন। তবে টিএইচও’কে সর্বদা প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকতে হয়। আর শুধুমাত্র দাঁত বিষয়ক চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকেন ডেন্টাল সার্জন। ফলে মাত্র ২জন মেডিকেল অফিসার দিয়েই সামগ্রিক চিকিৎসা সেবা করাতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতাল সূত্র আরো জানায়, মাত্র দু’জন চিকিৎসক হলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.শফিকুল ইসলাম ও মেডিকেল অফিসার ডা.বেলাল হোসেন। এই দু’জন চিকিৎসকরা নিয়মিত আউটডোর চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগিদের চিকিৎসা, জরুরী বিভাগসহ সামগ্রিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। মাঝে মধ্যে আউটডোরে রোগির সংখ্যা অতিরিক্ত হয়ে পড়লে দু’জন ডাক্তারের পাশাপাশি টিএইচও’কেও আউটডোরে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে দেখা যায়। তাদের (ডাক্তার) নিজেদের শারীরিক, পারিবারিক কিংবা অন্য কোন সাময়িক সমস্যা বা বিশেষ কারণে ছুটিতে থাকলে রোগিদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সূত্র আরো জানায়- হাসপাতালের জরুরী বিভাগটি এখন মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট (স্যাকমো)দের দিয়েই মূলত পরিচালিত হচ্ছে। জরুরী ও মারাত্মক অসুস্থ্য রোগিদের তাৎক্ষনিক চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপত্রও স্যাকমোরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন ডাক্তার সংকটের কারণে। সবমিলিয়ে এই সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার পদায়ন করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসক পদায়নের দাবি জানিয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটে রোগিরা যেমন বিড়ম্বনায় পড়ছেন ঠিক তেমনি নিজেরাও ভোগান্তি পড়ছি। এখানে ডাক্তার পদায়নের বিকল্প নেই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা.কামরুল ইসলাম বলেন- ‘ডাক্তার ছাড়া আমরা চলতে পারছি না। জরুরী ভিত্তিতে এখানে ডাক্তার প্রয়োজন।’
অন্যান্য তথ্য দিয়ে তিনি জানান, ২৬টি নার্স বা সেবিকা পদের বিপরীতে ২৪জন কর্মরত ও ২জন প্রেষনে আছেন। তাদের দিয়েও ভর্তিকৃত রোগিদের প্রাথমিক সেবা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। জরুরী বিভাগসহ অন্যখানে ৬জন মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট কর্মরত আছেন। এছাড়া অফিসিয়াল কাজকর্ম সম্পাদনের জন্যও জনবল সংকট রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আদিত্য, জিল্লুর, মৃত্যুঞ্জয়, রেশমাসহ অনেকে জানান- ‘সরকারি হাসপাতালে এসেছি বড় ডাক্তার দেখাবো বলে। কিন্তু ডাক্তার সংকট চরমে। হাসপাতাল ব্যতিত বর্তমানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেয়ার অন্যতম উপযুক্ত জায়গা হলো ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো।’
সাধারণ রোগিরা জানান, হাসপাতালে ওয়ার্ড বয়, নার্স দিয়ে চলছে কাটা-ছেড়া ব্যান্ডেজের কাজ। সিজারসহ অন্যান্য অপারেশন রয়েছে বন্ধ। এক্সরে, প্যাথলজি চলছে ধুকে ধুকে।
রোগিরা আরো জানান, এর বাইরে হাসপাতালের প্রধান সহকারী, পরিসংখ্যান, ক্যাশিয়ার পদ শুন্য। স্টোর কিপারের একটি পদ শুন্য থাকায় দু’জন ফার্মাসিস্টের একজনকে দিয়ে স্টোর কিপারের কাজ করানো হচ্ছে। একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকলেও কি কারণে তিনি সেবা দেন না তা মানুষের অজানা। ল্যাব অ্যাসিস্টান্ট পদে একজন আজো নিয়োগপ্রাপ্ত হননি। ফিজিওথেরাপি, সেনেটারির একটি করে পদ শুন্য থাকায় এ সংক্রান্ত সেবা বিপর্যস্থ হচ্ছে। ইপিআই, কার্ডিওগ্রাম পদের জনবল থাকলেও প্যাথলজি সংক্রান্ত সেবার খোঁজ মেলাতে রোগিদের ছুটতে হয় বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোতে। ফলে সরকারি হাসপাতালে পাশেই গড়ে ওঠা প্যাথলজি সেন্টারগুলোর ব্যবসা এখন জমজমাট।
সবমিলিয়ে হাসপাতালে শুধুমাত্র ডাক্তার সংকটে নিদারুণ কষ্ট, বিড়ম্বনা আর ভোগান্তি পড়ছেন সকলে। মাসের পর মাস এই সংকট থাকলেও ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ববান হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Facebook Comments
Please follow and like us:
720

ফেসবুকে আপডেট পেতে যুক্ত থাকুন

ক্রাইমর্বাতা ’ সর্বশ্রেণির পাঠকের সংবাদের ক্ষুধা নিবারণে যথাসাধ্য চেষ্টা চালাচ্ছে ‘ক্রাইমর্বাতা' বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় বাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সবাই অবগত, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বর্তমান সময়ে সর্বশ্রেণির পাঠকের সংবাদ প্রাপ্তির অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে। ২০১২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ‘ক্রাইমর্বাতা ’ সর্বশ্রেণির পাঠকের সংবাদের ক্ষুধা নিবারণে যথাসাধ্য চেষ্টা করে চলেছে। আবেগ কিংবা গুজবের উপর ভিত্তি করে নয় বরং পাঠকের কাছে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপন করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে ‘ক্রাইমর্বাতা' পাঠকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। পূর্বের ন্যায় আগামী দিনের পথচলায়ও পাশে থেকে সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ প্রদানের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ ‘‘ক্রাইমর্বাতা ’ আপনাদেরই কথা বলে....। আমাদের ‘ক্রাইমর্বাতা পেজে' লাইক দিয়ে সাথে থাকার জন্য ধোন্যবাদ। সম্পাদক



চেয়ারম্যান : আলহাজ্ব তৈয়েবুর রহমান (জাহাঙ্গীর) -----------------সম্পাদক ও প্রকাশক ----- ------ মো: আবু শোয়েব এবেল ....... ...মোবাইল: ০১৭১৫-১৪৪৮৮৪ ------------------------- -

ইউনাইর্টেড প্রির্ন্টাস,হোল্ডিং নং-০, দোকান নং-০, শহীদ নাজমুল সরণী,সাতক্ষীরা অফিস যোগাযোগ ০১৭১২৩৩৩২৯৯ e-mail: crimebarta@gmail.com