অক্টোবর ১২, ২০১৯
তিনতলা কৃষিতে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

ক্রাইমবার্তা রিপোটঃ  খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চাঁদগড় গ্রামের বাসিন্দা রফিক শেখ। ৫৮ বছর বয়সী এ কৃষক চাষাবাদ করেন ছয় বিঘা ঘেরে (চারপাশ উঁচু করা জমি)। ঘেরের পানিতে চাষ করেন গলদা চিংড়িসহ নানা ধরনের কার্প জাতীয় মাছ। রয়েছে ধানও। আর ঘেরের পাড়ে গ্রীষ্মকালীন শিম, টমেটোসহ হরেক রকম সবজিও চাষ করছেন। স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা এ পদ্ধতির নাম দিয়েছেন তিনতলা কৃষি। রফিক শেখের মতো খুলনা অঞ্চলের অনেক কৃষকেরই এখন পছন্দ এই চাষাবাদ পদ্ধতি।

জানা গেছে, খুলনা জেলায় মোট ৬৬ হাজার ৫৫৬টি ঘের রয়েছে। ঘেরে মোট জমি ৫৫ হাজার ৩৭৫ হেক্টর। তবে ঘেরের সামান্য পরিমাণ জমি অর্থাৎ পাড়ের অংশটুকু ব্যবহার হচ্ছে সবজি আবাদে। যা আগে পতিত থাকত। এখন পাড়ের জমি আর পতিত নেই। এলাকার কৃষক ও মাছ চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ ঘের চুক্তি নিয়ে কেউ আবার নিজের জমিতেই চাষাবাদ করে থাকে। জানা গেছে, মাছের ঘেরের পাড়ে সবজি চাষ করে ধান ও মাছের পাশাপাশি একটা বাড়তি ফসল পাওয়া যায়। এতে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। ঘেরের পাড়ের মাটি বেশ উর্বর। মাছের ঘেরের পাড় একটু উঁচু হয়। তাই বৃষ্টির পানি দ্রুত সরে যায়। এ কারণে   বর্ষাকালে ঘেরের পাড়ে খুব সহজে সবজি চাষ করা যায়। ঘেরের পাড়ে আগাম শীতকালীন টমেটো, শিম, লাউ, করলা চাষও শুরু করেছেন অনেকে। কৃষক সানু মিয়া জানান, ‘এক সময় অলস সময় কাটালেও এখন ঘেরের পাড়ে সবজি গাছের নিয়মিত যত্ন নিই। এতে খরচ কম, লাভ বেশি। আর ঘেরে তো মাছ চাষ হচ্ছেই, বাড়তি জমি নিতে হয় না। আবার ঘেরের পাড়ে উৎপাদিত সবজি সহজে বিক্রিও করতে পারি।’ সরেজমিন খুলনার ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় গিয়ে দেখা গেছে, নিচে মাছ, মাছের সঙ্গে ধান তার ওপরে মাচা তৈরি করে শসা, করলা, লাউ চাষ হচ্ছে। আবার পাড়ের আইল ধরে লাগানো হয়েছে আগাম শিম। বটিয়াঘাটা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন জানান, উপজেলায় এবার ঘের এলাকার মোট ১৪০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজি আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে শসা ২৪০ হেক্টর, করলা ২৫০ হেক্টর, শিম ৩৫০ হেক্টর, মিষ্টিকুমড়া ১৫০ হেক্টর, বরবটি ২২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে। কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনতলা কৃষি পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউট মাটি ও সার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন তারা। আর এ পদ্ধতি ব্যবহার করে উচ্চ মূল্যের ফসল আবাদ করছেন। একই জায়গায় একটির ওপর আরেকটি ফসল উৎপাদন করছে। একই জায়গায় একাধিক ফসল। দিন দিন এটিও বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে কৃষকদের মধ্যে। মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিধান কুমার ভা ার বলেন, তিনতলা কৃষি কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একই জায়গায় একাধিক ফসল মানে অধিক লাভ। এ পদ্ধতিটি আগামীতে আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে আরও বেশি কৃষকের কাছে নিয়ে যেতে চাই। খুলনা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক পংকজ কান্তি মজুমদার বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে ঘেরে জমিগুলোতে দিন দিন উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। এখন পাড়ের অল্প জমি থেকেই লাখ টাকার ফসল উঠছে।

Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


www.crimebarta.com সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু শোয়েব এবেল

ইউনাইর্টেড প্রির্ন্টাস,হোল্ডিং নং-০, দোকান নং-০( জাহান প্রির্ন্টস প্রেস),শহীদ নাজমুল সরণী,পাকাপুলের মোড়,সাতক্ষীরা। মোবাইল: ০১৭১৫-১৪৪৮৮৪,০১৭১২৩৩৩২৯৯ e-mail: crimebarta@gmail.com