অক্টোবর ১৫, ২০১৯
৪০বছর পর তথ্য ফাঁস: কলারোয়াতে সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি দখলের অভিযোগ
ক্রাইমবার্তা রিপোটঃ সাতক্ষীরা: সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে দানপত্র করা জমি ক্রয় করে দখলের অভিযোগ উঠেছে জেলার কলারোয়ার সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। প্রায় ৪০ বছর আগে তিনি ওই জমি ভুঁয়া দলিলের মাধ্যমে দখল করে অদ্যাবধি ভোগ করে আসছেন বলে সম্প্রতি জানা গেছে। অভিযোগের সূত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধানে সংবাদকর্মীদের সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকার তথ্য।
সূত্রে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার ৬নং সোনাবাড়ীয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়া সোনাবাড়িয়া বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ৮ শতক জমি ভুঁয়া দলিলের মাধ্যমে অবৈধভাবে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ভোগ করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে সরকারি ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে সাবেক ৭৭৩ দাগের (বর্তমান দাগ ৭৬০) ২৪ শতক জমি দান করেন উত্তর সোনাবাড়িয়া গ্রামের লুৎফর সরদার ও মৃত জাহাবাজ সরদার। এরমধ্যে লুৎফর সরদার তার অংশের পুরোটা (১২ শতক) এবং মৃত জাহাবাজ ১২ শতক জমি দান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মিয়া কৌশলে লুৎফর সরদারের কাছ থেকে ৭৭৩ দাগের ৮ শতক জমি দলিল করে নেন। যার মধ্যে ১৯৮০ সালে ২ শতক, ১৯৮১ সালে দুই দফায় ৬ শতক জমি নিয়েছিলেন।
১৯৭৫ সালে যে জমি সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রর নামে দানপত্র হলো সেই জমি ৫ বছর পর কীভাবে অন্যত্র বিক্রি করলেন এমন প্রশ্ন ছুঁড়লে জমিদাতা লুৎফর সরদার বলেন, ‘৭৭৩ দাগের আমার অংশের পুরোটা জমি (১২ শতক) আমি হাসপাতালকে (স্বাস্থ্য কেন্দ্র) দান করেছি। কিন্তু পরবর্তীতে তৎকালীন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মিয়া একই জমি আমার কাছ থেকে লিখে নিতে চান। ঐ দাগে আমার আর কোনো জমি নেই জানানোর পরও তিনি জমি নেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগে থাকেন। পরবর্তীতে এক পর্যায়ে প্রলোভনে পড়ে আমি জমি লিখে দিয়েছিলাম।’
দানপত্র হওয়ার ৫বছর পর একই জমি অন্যত্র বিক্রির আইনগত ভিত্তি কি?-এমন প্রশ্নের জবাবে কলারোয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আখতার হোসেন বলেন, ‘জমি একবার বিক্রি বা দানপত্র হয়ে গেলে পরবর্তীতে ঐ জমি আর কেনাবেচার সুযোগ নেই। দানপত্র হয়ে যাওয়া জমি যদি কেউ ক্রয় করেন তাহলে সেই জমি বা দলিল আইনগত বৈধতা পাবে না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি, অভিযোগও পেয়েছি। এটি তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে এসিল্যান্ডকে বলা হয়েছে।’
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম মন্টু বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। সরকারি জমি দখলে রাখার সুযোগ নেই। আলাপ-আলোচনা চলছে। সরকারি জমি সরকারের খাতেই ফেরত আসবে।’
এ ব্যাপারে আপনাদের এখন পদক্ষেপ কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা জমিতে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। ইতোমধ্যে বিষয়টি জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা এটি স্থানীয়ভাবে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। এভাবে সমাধান না হলে তখন আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিব।’
এ বিষয়ে সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, ‘তারা (জমি ভোগকারী) জমির দাখিলা কাটতে আমার দপ্তরে এসেছিল। কিন্তু আমি দাখিলা না কেটে বিষয়টি সুরাহার তাগিদ দিই।’
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘শীঘ্রই আবার সালিশে বসা হবে। তখন বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হবে, সমাধানও হবে।’
হাসপাতালের নামে দানপত্র হওয়া জমি কেন কিনলেন এমন প্রশ্ন রাখলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং এ বিষয়ে কোনো কথাই বলতে চান না বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।



Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


www.crimebarta.com সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু শোয়েব এবেল

ইউনাইর্টেড প্রির্ন্টাস,হোল্ডিং নং-০, দোকান নং-০( জাহান প্রির্ন্টস প্রেস),শহীদ নাজমুল সরণী,পাকাপুলের মোড়,সাতক্ষীরা। মোবাইল: ০১৭১৫-১৪৪৮৮৪,০১৭১২৩৩৩২৯৯ e-mail: crimebarta@gmail.com