অক্টোবর ২৩, ২০১৯
জামায়াতের সাথে জোট করতে চাচ্ছে কয়েকটি দল! ১৯৭১ সালের জামায়াত আর ২০১৯ সালের জামায়াত এক নয় মন্তব্য অলির

ক্রাইমবার্তা রিপোটঃ  ১৯৭১ সালের জামায়াত আর ২০১৯ সালের জামায়াত এক নয় এমন মন্তব্য করে জামায়াতের সাথে জোট করতে চাচ্ছে কয়েকটি দল। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,এলডিপি ,কল্যাণ পার্টি,খেলাফাত মজলিসসহ কয়েকটি দল। ইতোমধ্যে তারা জামায়াতের সিনিয়র র্পযায়ে নেতাদের সাথে কয়ে দফায় বসাবসিও করেছে। চলছে কিছু নিতিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

বিদায় নিচ্ছেন মকবুল।এতে যুদ্ধাপরাধীর গন্ধ মুছতে চাই দলটি। যদিও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য দলের অন্যতম নায়েবে আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার  বলেন, ‘তিন বছর পর পর আমাদের আমির নির্বাচন হয়। এবারও যথাসময়ে তাই হবে, এর কোনও ব্যত্যয় ঘটবে না। অক্টোবর থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণ, ফল ঘোষণা, নতুন আমিরের শপথগ্রহণসহ সার্বিক কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। আমিরের কার্যকাল শুরু হবে সামনের জানুয়ারি থেকে।

দলের চারটি স্থায়ী কর্মসূচি থেকে চার নম্বর উপধারাটি (‘গণতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও চরিত্রবান লোকের নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা’) স্থগিত করা হয়েছে। একটি কল্যান মুখি রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে জামায়াত। এছাড়া দলের গঠন তন্ত্রে কিছু ধারা বাতিল করে নতুন ধারা যোগ করেছে। এতে দলটি সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার পথ সুগম হয়েছে বলে মনে করেন তারা।

ইসলামী দলগুলো ও এ প্লাটফর্মে আসার চেষ্টা করছে।

 জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহ্বায়ক ও এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ঘর থেকে বের হয়ে রাজপথে সক্রিয় হতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদের ডানপাশে মুক্তিযোদ্ধা ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম এবং বাম পাশে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ বলেন, ‘‘আপনাদের অবগতির জন্য বলতে চাই, কিছুদিন আগে আমরা ঐক্য করেছি। ২০ দলীয় জোটের এক নেতা স্টেটমেন্ট দিয়েছিলেন যে তাকে ‘অনেক অনুরোধ করা হয়েছে আসার জন্য, কিন্তু তিনি আসেননি।’ আমরা আপনাদের এটাই বলতে চাই, কোনও ধান্দাবাজকে আমরা এই মঞ্চে আসতে দেবো না। যারা এসেছে, তারাই থাকবে। এরপর যদি কাউকে আসতে হয়, এখন যারা মঞ্চে আছে, এই দলগুলোর অনুমতি ছাড়া মঞ্চে তাদের বসতে দেওয়া হবে না। সবচেয়ে বড় কথা, ধান্দাবাজ ও রাজনৈতিক সাইনবোর্ডধারী কোনও দলকে এই মঞ্চের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হবে না।’’

অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। একটাই লক্ষ্য ছিল, দেশকে স্বাধীন করা। আজকে দেশের দুর্দিন। এই দুর্দিনে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে জনগণের সামনে বিপথগামী সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তুলে ধরা এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের ক্ষমতা থেকে বিদায় করা। জাতীয় মুক্তিমঞ্চের পক্ষ থেকে আমি বলতে চাই, মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের নির্মম, নির্দয় ও অমানবিক হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জাতিকে মেধাশূন্য করা সরকারের একটি নীলনকশা। অন্যথায় বর্তমান সরকার কখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অদক্ষ ব্যক্তিদের শিক্ষক বা ভিসি হিসেবে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দিতো না। এছাড়া বিরোধী দলগুলোকে শায়েস্তা করার জন্য তারা তাদের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। ধান্দাবাজি এবং গুণ্ডামি করার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।’

অলি আহমদের দাবি, ‘অদক্ষ শিক্ষকদের চাকরি থেকে বের করে দিতে হবে। দুর্নীতিবাজ ভিসিদের গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। লেজুড়ভিত্তিক রাজনৈতিক দলে তরুণ ছেলেমেয়েদের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি এখন পৃথিবীর কোথাও নেই। আমরা আশা করি এ ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’

ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়নি দাবি করে অলি আহমদ বলেন, ‘‘গ্রেফতার হওয়া আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ‘তারা মন্ত্রীকে মার্সিডিজ গাড়ি দিয়েছেন, বস্তায়-বস্তায় টাকা দিয়েছেন। অনেক মন্ত্রী ও বড় বড় নেতা শামিমের টাকার ভাগ পেয়েছেন। এখনও তারা কেন গ্রেফতার হচ্ছেন না?’’

গ্রেফতার হওয়া ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট প্রসঙ্গে অলি আহমদ বলেন, ‘সম্রাট এখন ভিআইপির মর্যাদায় চিকিৎসা নিচ্ছে। এরকম একজনের জন্য বড় বড় চিকিৎসকদের দিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। উচিত ছিল ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী গলা পর্যন্ত মাটির নিচে রেখে জনগণকে পাথর নিক্ষেপ করতে দিতে। এরপরও তার পাপমোচন হবে না।’

অলি আহমদ আরও বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় দেখেছি ২৭ জন এমপিকে গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারিতে রেখেছে। এখনও সরকার তাদের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমাদের দাবি থাকবে, এ ধরনের ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে তাদের লুটের টাকা উদ্ধার করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হোক। আমরা আশা করবো, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকার এবং আওয়ামী লীগের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে, ছাত্রদের হাতকে শক্তিশালী করবে, আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করবে। মনুষ্যত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে, এই সরকারের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। প্রয়োজন সৎ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব এবং জনগণের ঐক্য। জাতি আজ অতিষ্ঠ, তাহলে কেন অপেক্ষা? ঘর থেকে বের হন, শান্তিপূর্ণ ও আইন অনুযায়ী প্রতিবাদ করুন।’

দলের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়াকে কেন্দ্র করে ২০১৩-১৪ সালে দেশব্যাপী নাশকতার সময় দলের নেতৃত্বে থাকলেও মকবুল আহমাদের হাত ধরেই ‘রাজনৈতিকভাবে’ নিষ্ক্রিয় হতে শুরু করে জামায়াত। দলের চারটি স্থায়ী কর্মসূচি থেকে চার নম্বর উপধারাটি (‘গণতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও চরিত্রবান লোকের নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা’) স্থগিত করা হয়েছে। ২০১৭ সালে নির্বাচিত আমির হওয়ার পর মকবুল আহমাদ স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতাদের স্মরণ করেন।

প্রসঙ্গত, ২৭ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’র ব্যানারে নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটান অলি আহমদ। আত্মপ্রকাশকালে তিনি বলেছিলেন, ‘১৯৭১ সালের জামায়াত আর ২০১৯ সালের জামায়াত এক নয়। দেশকে তারা অনেক ভালোবাসে, তাদের মধ্যে অনেক সংশোধনী এসেছে।’ এর আগের মাসে অলি আহমদের নতুন জোটের বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পরই বাংলা ট্রিবিউন জানায়, এই উদ্যোগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী আছে। ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ গঠনের তিন মাস পর আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে মঞ্চের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার।

আরো খবর–

ভোলার সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ৬ দফা দাবী মেনে নিন: মকবুল আহমাদ

ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় হিন্দু যুবক বিপুল চন্দ্র বৈদ্য শুভ-এর ফেসবুকে মহান আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণের আয়োজিত সমাবেশে পুলিশের গুলিতে নিহত ৪ ব্যক্তির শাহাদাত কবুল এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য আগামীকাল ২৫ অক্টোবর শুক্রবার বাদ জুমা সারা দেশে মসজিদে-মসজিদে দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ বলেন, মহান আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তিকারী হিন্দু যুবক বিপুল চন্দ্র বৈদ্য শুভ-এর ফাঁসির দাবীতে ‘ভোলার সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ কর্তৃক’ ঘোষিত ৬ দফা দাবী দ্রুত কার্যকর করে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, অন্যথায় পরিস্থিতি সরকারের আয়ত্ত্বের বাইরে চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভোলায় পুলিশের গুলিতে ৪জন নিহত ও দেড়শতাধিক লোক আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সারা দেশে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ভোলার ঘটনায় দেশের সর্বস্তরের জনগণ বিক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। সর্ব দলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ঘোষিত ৬ দফা দাবীর সাথে গোটা দেশবাসীর সাথে আমরাও একাত্মতা ঘোষণা করছি। ভোলার বোরহান উদ্দিনে জনগণের উপর কেন গুলি চালাবার হুকুম দেয়া হয়েছে এবং কেনই বা গুলি চালিয়েছে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে সঠিক রহস্য উদ্ঘাটন হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, দেশবাসী উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছে যে, বোরহানউদ্দিনের নৃশংস ঘটনার পরে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ মহান আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটুক্তিকারী যুবকের পক্ষে সাফাই গেয়ে ঐ ঘটনার প্রতিবাদকারীদের ভৎসনা করে উস্কানীমূলক বক্তব্য দেয়ায় এবং সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করায় দেশের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ আরো বেড়েছে। বিপুল চন্দ্র বৈদ্য শুভকে ও জনগণের উপর গুলি বর্ষণকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হলে তা সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে। সরকার একদিকে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ৬ দফা দাবী মেনে নেয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে ৫ হাজার নিরীহ লোককে আসামী করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এ থেকে সরকারের দ্বৈত ভূমিকাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, জনগণের ৬ দফা দাবী মেনে নেয়ার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক নয়। জনতার আন্দোলন বানচালের জন্য সরকার কুট-কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।

পরিস্থিতি ঘোলা না করে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ ৬ দফা দাবী মেনে নিয়ে দ্রুত তা কার্যকর করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান এবং শুক্রবার ২৫ অক্টোবর বাদ জুমা নিহত ব্যক্তিদের শাহাদাত কবুল ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে মসজিদেÑমসজিদে মহান আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে বিগলিত চিত্তে দোয়া করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শুক্রবার বাদ জুমা দোয়ায় অংশগ্রহণ করার জন্য আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। নিহতদের পরিবার-পরিজন ও আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দান এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

 

Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক ----- ------ মো: আবু শোয়েব এবেল ....... ...মোবাইল: ০১৭১৫-১৪৪৮৮৪ ------------------------- -

ইউনাইর্টেড প্রির্ন্টাস,হোল্ডিং নং-০, দোকান নং-০, শহীদ নাজমুল সরণী,সাতক্ষীরা অফিস যোগাযোগ ০১৭১২৩৩৩২৯৯ e-mail: crimebarta@gmail.com