ডিসেম্বর ২, ২০১৯
পেট্রোল পাম্প ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে সাতক্ষীরায় হাহাকার: নাগরিক দুর্ভোগ চরমে

ক্রাইমবার্তা রিপোটঃ: সাতক্ষীরা:  রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন চলছে।জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে এই লাগাতার ধর্মঘট পালন করছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি। ২৬ জেলায় অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতির কারণে তেলে চালিত যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ মোমিন দুলাল সোমবার বলেন, বেলা ১১টায় ঢাকার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে তাদের।

“সেই বৈঠকে আমাদের দাবি নিয়ে আলোচনা হবে। যদি সন্তোষজনক আলোচনা হয়, তাহলে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”

গত ২৬ নভেম্বর বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ১ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিলেন পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান রতন।

সে অনুযায়ী তিন বিভাগের সব জেলায় রোববার সকাল থেকে পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর শ্রমিকরা তেল উত্তোলন, বিপণন ও সরবরাহ বন্ধ রাখায় ২৬ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়।

এই অবস্থায় বিপাকে পড়েন গাড়ি চালকরা। পাম্পে এসে তেল না পেয়ে তাদের ফিরে যেতে হয়। পাম্পগুলোতে ১৫ দফা দাবি সম্বলিত পোস্টার টাঙিয়ে রাখতে দেখা যায়।

তেল না পেয়ে রোববার দুপুরের পর থেকেই উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোতে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা কমে যা্য়। বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যেসব বাস গ্যাসে চলে কেবল সেগুলোই তারা চালাতে পারছেন।

পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা দুলাল বলেন, তাদের ১৫ দফা দাবি পূরণ করতে সরকারকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জ্বালানি মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা ধর্মঘটে যেতে ‘বাধ্য হয়েছেন’।

তাদের ১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- জ্বালানি তেল বিক্রিতে কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ কমিশন দেওয়া,  জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান- বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের জন্য ৫ লাখ টাকার দুর্ঘটনা বীমা,  ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধি, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণের নিয়ম বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেওয়ার নিয়ম বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট করা, জেনারেল স্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল করা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশ দ্বারের ভূমির জন্য ইজারা নেওয়ার নিয়ম বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেওয়ার নিয়ম বাতিল, আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ৫ বছর অন্তর বাধ্যতামূলকভাবে ক্যালিব্রেশনের নিয়ম বাতিল, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা, সুনির্দিষ্ট দপ্তর ছাড়া ডিলার বা এজেন্টদের অযথা হয়রানি বন্ধ করা, নতুন কোনো পেট্রোল পাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানী তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু করা, পেট্রোল পাম্পের পাশে যে কোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা এবং বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরি থেকে চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা।

এদিকে ১৫ দফা দাবিতে সাতক্ষীরা জেলায় সকল পেট্রোল পাম্প বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মোটর সাইকেল, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক মালিক শ্রমিকরা। জ্বালানি তেল না পেয়ে অনেকে পাম্প থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। তেলের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু বাসসহ পণ্যবাহী ট্রাক।
মোটরসাইকেল চালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনি সাতক্ষীরা থেকে কলারোয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্য বাসা থেকে বাহির হন। এমনত অবস্থায় তার মোটরসাইকেলটি ছয়ঘরিয়ায় আসা মাত্র তেল শেষ হয়ে যায়। তার গাড়ীতে তেলের মিটারও ছিল না। তেল নিতে লস্কর পেট্রোল পাম্পে গেলে সেখানে তেল দেয়নি। সেখান থেকে তার গাড়ী নিয়ে হেটে আসে ঝাউডাঙ্গা পেট্রোল পাম্পে কিন্তু এখানেও দেখতে পান তেল বিক্রি বন্ধ।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ফিলিং ষ্টেশনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজও তারা ধর্মঘট পালন করছেন। সকাল থেকেই ফিলিং স্টেশন আসা কাউকে জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তী নির্দেশনা না আশা পর্যন্ত এমন অবস্থা চলতে থাকবে।

Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


www.crimebarta.com সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবু শোয়েব এবেল

ইউনাইর্টেড প্রির্ন্টাস,হোল্ডিং নং-০, দোকান নং-০( জাহান প্রির্ন্টস প্রেস),শহীদ নাজমুল সরণী,পাকাপুলের মোড়,সাতক্ষীরা। মোবাইল: ০১৭১৫-১৪৪৮৮৪,০১৭১২৩৩৩২৯৯ e-mail: crimebarta@gmail.com