ডিসেম্বর ২০, ২০১৯
প্রচন্ড শীতে সাতক্ষীরার জনজীবন বির্পযস্থ: আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা

আবু সাইদ বিশ্বাস:ক্রাইমর্বাতা রির্পৌট: সাতক্ষীরা:   কুয়াশার চাদরে সাতক্ষীরাসহ জেলার  বিস্তীর্ণ জনপদ। কুয়াশার ঘন আস্তরণে ঢাকা পড়েছে সূর্য। হিমবুড়ির হাওয়ায় গরম পোশাকে উষ্ণতা খুঁজছে জেলাবাসী। পৌষের শীতে হাড়ে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে।তবে আগামী রবিবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।পৌষের শুরুতেই যে শীত জেঁকে বসবে, সেই পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস।এবার শীত যেন পঞ্জিকা ধরেই নেমে আসছে।

শুক্রবার সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের র্কমর্কতা জুলফিকর আলী জানান, আজ সাতক্ষীরা র্সবনিম্ন তাপমাত্রা রের্কড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গতকাল জেলার সর্বনিম্ম তাপমাত্র ছিল ১১ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং র্সবোচ্ছ তাপমাত্রা ছিল ২২.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

শুক্রবার ঢাকা আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ ও কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে।

তিনি বলেন, রাত ও দিনের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় ঢাকায় একটু বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। তবে ঢাকায় শৈত্য প্রবাহের কোন প্রভাব নেই। মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে ঢাকার বাইরে। আজ চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরো জানায়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

শীতের তীব্রতা বাড়ায় জেলায় জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া গরিব মানুষের দুর্ভোগ-দুর্দশা বেড়ে গেছে। ঠাণ্ডাজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর-সর্দি-কাশি ইত্যাদি রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেশি বেড়েছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল,শিশু হাসপাতাল সহ  জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের ভর্তির হার বেড়েছে দ্বিগুন।

শীতের সঙ্গে আছে হিমালয় থেকে আসা ঠাণ্ডা বায়ুর প্রবাহ। আছে ঘন কুয়াশাও। কুয়াশার প্রকোপ বাড়ায় আজ  দুপুর ১২টা র্পযন্ত  সূর্য দেখা যায়নি। 

ঘন কুয়াশায় আলোর স্বল্পতা সৃষ্টি হওয়ায়  সড়কপথে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চালানো হচ্ছে। রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে মানুষের চলাচল কমে গেছে।

হঠাৎ শীতের কারণে দোকানি গুলোতে  গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। এদিকে পর্যাপ্ত গরম কাপড় না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক দরিদ্র মানুষ। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার শীতের তীব্রতা বেড়েছে। একদিনে তাপমাত্রার রেকর্ড নিম্নমুখী প্রায় তিন ডিগ্রি।

হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচেছ। কলারোয়, তালা, আশাশুনি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো সহ¯্রাধিক শিশু কিশোর ও বৃদ্ধারা চিকিৎসা নিয়েছে।
ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলা হলুদ বর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। আলুর খেতে লেটব্রাইট রোগসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে।
তবে জেলাতে ছিন্নমুল মানুষের অবস্থা অসহনীয়। লক্ষাধীক ছিন্নমুল মনুষ গরম কাপড়ের অভাবে প্রচন্ড শীত ভোগ করছে। মধ্য রাত থেকে লতা পাতা জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে। সরকারী এবং বেসরকারী পর্যায়ে এখনো শীর্তার্থদের মাঝে তেমন গরম কাপড় বিতরণে করা হয়নি। ভুক্ত ভোগীদের দাবী শীত নিবারণে গরম কাপড় বিতরণে বিন্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার।

সাতক্ষীরা র্ব্রাদার র্সাকেলের পক্ষ থেকে গতকাল ও আজ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। হাফেজ রবিউল বাশার সাতক্ষীরা র্ব্রাদার র্সাকেলের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।


সাতক্ষীরা সিভিল র্সাজন  ডাঃ শেখ আবু শাহীন  বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ে। সাধারণত শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে।বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্যকিছু খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।তাদের প্রতিদিন গোসল করানোরও দরকার নেই। শিশুদের মাথায় তেল দেয়া যাবে না। শরীরে অলিভ অয়েল মাখা ভালো। সব সময় গরম কাপড় পরাতে হবে। ঠাণ্ডা লাগলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক ----- ------ মো: আবু শোয়েব এবেল ....... ...মোবাইল: ০১৭১৫-১৪৪৮৮৪ ------------------------- -

ইউনাইর্টেড প্রির্ন্টাস,হোল্ডিং নং-০, দোকান নং-০, শহীদ নাজমুল সরণী,সাতক্ষীরা অফিস যোগাযোগ ০১৭১২৩৩৩২৯৯ e-mail: crimebarta@gmail.com