ইরানে বিক্ষোভ, বৃটিশ রাষ্ট্রদূতকে গ্রেপ্তার, পরে মুক্তি

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোটঃ
ভুল করে ইউক্রেনের বিমান ভূপাতিত করার কথা স্বীকার করার পর ইরানের সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। কমপক্ষে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা দিয়েছে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যখন ইরানে যুদ্ধের দামামা, উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন কেন ওই বিমানটিকে উড্ডয়ন করতে দেয়া হলো। এ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আন্দোলনে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে বৃটিশ রাষ্ট্রদূত রব ম্যাকেয়ারকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। এ নিয়ে ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় টুইট করেছেন ট্রাম্প। তিনি এতে বলেছেন, সাহসী ও দুর্ভোগে থাকা ইরানিদের প্রতি: আমার প্রেসিডেন্সির শুরু থেকে আমি আপনাদের সঙ্গে আছি এবং আমার সরকার অব্যাহতভাবে আপনাদের পাশে থাকবে।
নিবিড়ভাবে আমরা আপনাদের বিক্ষোভে নজর রাখছি। আপনাদের সাহস অনুপ্রেরণামুলক।

ওদিকে টুইট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণের বক্তব্য স্পষ্ট। খামেনির অসততার অধীনে শাসক গোষ্ঠীর মিথ্যা, দুর্নীতি, নির্বুদ্ধিতা ও বর্বরতায় তারা বিরক্ত। ইরানি জনগণ উন্নত ভবিষ্যতের দাবিদার। তাদের পক্ষে আমাদের অবস্থান। উল্লেখ্য, গত বুধবার রাজধানী তেহরান থেকে ১৭৬ জন আরোহী নিয়ে উড্ডয়নের পর ইউক্রেনের ওই বিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। এতে আরোহীদের সবাই নিহত হন। এর মধ্যে ছিলেন ইরানি, কানাডিয়ান, ইউক্রেনের নাগরিক, বৃটিশ, আফগানিস্তান ও জার্মানির নাগরিক। প্রথমে এর দায় অস্বীকার করে ইরান। কয়েকদিন পরে তারা এর দায় স্বীকার করে। এর ফলে সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ইরানে। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলছে, শনিবার বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানী তেহরানের আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। এ সময় টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায় কয়েক শত মানুষ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছে। তারা স্লোগান দিচ্ছে, ‘কমান্ডার ইন চিফের (খামেনি) পদত্যাগ চাই’। ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস তাদের রিপোর্টে বলেছে, রাজধানী তেহরানে উগ্রপন্থি স্লোগান দেয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।

তবে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় যারা মিথ্যা বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিয়েছে। দায়ীদের পদত্যাগ দাবি করেছে। দায়ী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছে। বিচার দাবি করেছে যারা এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে বৃটেনের রাষ্ট্রদূত রব ম্যাকেয়ারকে আটক করা হয়। তবে অল্প সময় পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাব বলেছেন, রাষ্ট্রদূতকে এভাবে গ্রেপ্তার করা আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে উত্তেজনা প্রশনের আহ্বান জানান।

Check Also

নাটকীয়তা, ৪ ঘণ্টা পর মুক্ত নুর

গ্রেপ্তারের চার ঘণ্টা পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *