মার্চ ২, ২০২০
দিল্লির হাঙ্গামা ধর্মীয় দাঙ্গা, নাকি রাজনৈতিক সহিংসতা?

ক্রাইমবার্তা রিপোটঃ ভারতের এনআরসি ও সিএএ-এর বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা শেষ পর্যন্ত দাঙ্গায় গিয়ে ঠেকেছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে অদ্যাবধি দিল্লির পরিস্থিতি অন্তত তাই বলছে।

বিজেপি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল তা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পুরো পরিস্থিতিকে ধর্মীয় দাঙ্গার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যদিও এ দাঙ্গাকে ভারত সরকার কিছুতেই ধর্মীয় দাঙ্গা হিসেবে মেনে নিতে রাজি নন, তবুও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিজেপিসমর্থিত সন্ত্রাসীরা বেছে বেছে মুসলিমদের টার্গেট করে নৃশংস হত্যাসহ বিপুল সম্পদের ওপর ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

ফলে দিল্লির জাফরাবাদ, গোকুলপুর, কারওয়ালনগর, মৌজপুর, সিলমপুর ও চাঁদবাগ থেকে দলে দলে আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাচ্ছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির এ বিস্তীর্ণ জনপদ সহিংসতার দাবানলে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এ ধ্বংসযজ্ঞ চলাকালে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দিল্লির পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন এমন মিডিয়াকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, পুলিশ সন্ত্রাসীদের এ হঠকারী আচরণকে নীরবে সমর্থন জুগিয়ে গেছেন বলে মতামত দিয়েছেন। পুলিশের চোখের সামনে চলেছে এ নৈরাজ্য। প্রতিটি মৃত্যু, প্রতিটি আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, ধ্বংসলীলা ইত্যাদি সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতিকে তোয়াক্কা না করে চালিয়েছে নির্দ্বিধায়।

সাইকেল, মোটরবাইক, প্রাইভেট কার থেকে আরোহীদের নামিয়ে বুকের ওপর পিস্তল ঠেকিয়ে ধর্ম পরিচয় জানতে চেয়েছে ওরা। মসজিদের মিনার চূড়ায় জয়-শ্রীরাম খচিত পতাকা লাগিয়ে বিজয়ের হাসি হেসেছে। এরূপ পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি পুলিশকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

অবস্থাগতিকে মনে হয়েছে পুলিশ তাদের নির্দেশিত পথেই হেঁটেছে। কিছু কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, সন্ত্রাসীদের এরূপ আচরণের চাক্ষুষ কোনো প্রমাণ যাতে না থাকে সে চেষ্টাও পুলিশ করেছে। দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যরা নিজ উদ্যোগে রাস্তায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলছে।

অথচ ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ দিল্লি পুলিশকে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে আগেই একাধিকবার সতর্ক করে দিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতে সফরের আগে আগে বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যে কোনো মূল্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয়ার পর ভারতের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও ইনটেলিজেন্স উইং সজাগ হয়ে ওঠে এবং বিজেপির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে মারাত্মক কিছু ঘটতে পারে বলে অনুমান করে।

কপিল মিশ্র ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১.২৫ মিনিটে সিএএ-এর সমর্থনে বিজেপি বিপুলসংখ্যক সমর্থককে মৌজপুরে সমবেত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে একটি টুইট বার্তা প্রেরণ করেন।

মৌজপুরে বিজেপি সমর্থকদের উপস্থিতির পরেই সেখানে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে গোয়েন্দারা খবর পান। এ তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা রেডিও মেসেজের মাধ্যমে ন্যূনতম ছ’বার দিল্লি পুলিশকে সতর্ক করে দেয় এবং এ সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।

এমনকি সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পরামর্শও তারা দিয়েছিলেন; কিন্তু দিল্লি পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগের এ আগাম সতর্কবার্তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে। এসবকিছু পর্যালোচনা করে মনে হয়েছে, বিজেপির পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুলিশ সহযোগিতার ভূমিকাই পালন করেছে। উল্লেখ্য, দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।

দিল্লির এ সহিংসতার পেছনে বিজেপি নেতাদের লাগাম ছাড়া উসকানিমূলক বক্তব্য যে আগুনে ঘি ঢেলেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। রাজ্যসভায় সিএএ বিল পাস হওয়ার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভারতব্যাপী আন্দোলন শুরু হয়। এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত দু’মাস ধরে দিল্লির শাহিনবাগে মহিলাদের অবস্থান বিক্ষোভ চলে আসছিল। এ অবস্থান বিক্ষোভ ধীরে ধীরে জাফরাবাদ ও চাঁদবাগ অবধি গিয়ে পৌঁছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বিজেপির টনক নড়ে ওঠে।

অবস্থান বিক্ষোভ তাদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং এ অবস্থান বিক্ষোভকে তারা তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হিসেবে বিবেচনা করতে থাকে। কাজেই এখনই তাদের ছত্রভঙ্গ করা না গেলে রাজনৈতিক ভরাডুবি হবে বলে মনে করে। অতঃপর এ অবস্থান বিক্ষোভের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতারা একের পর এক উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে শুরু করে।

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় মোদির অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর শাহিবাগের আন্দোলনকারীদের ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দেন। বিজেপির আরেক সংসদ সদস্য প্রবেশ ভার্মা এককাঠি এগিয়ে শাহিনবাগের আন্দোলনকারীরা এবার ঘরে ঢুকে মা-বোনদের ধর্ষণ করবে বলে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র তার টুইট বার্তার মাধ্যমে তার সমর্থকদের মৌজপুরে সমবেত হতে আহ্বান জানিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং পুলিশ কর্মকর্তার সম্মুখেই হুমকি দেন, তিন দিনের মধ্যে জাফরাবাদ এবং চাঁদবাগ থেকে বিক্ষোভকারীরা না সরে গেলে রাস্তা খালি করতে তারাই রাস্তায় নামবেন। অতঃপর যা হওয়ার তাই হল।

ধীরে ধীরে বিজেপি সমর্থকরা সমবেত হতে থাকে এবং জাফরাবাদ থেকে মৌজপুর পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এ পরিস্থিতিতে কবির নগর, কর্দমপুরীতে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল শুরু হয়ে যায়, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে মৌজপুর ও জাফরাবাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার মধ্যে উল্লিখিত এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ধীরে ধীরে ভজনপুর, করাবলনগর, মুস্তফাবাদ এবং গোকুলপুরীতেও দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। দোকানপাট, পেট্রল পাম্প, গুদামঘর ও গাড়ির টায়ার কারখানায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।

কট্টরপন্থী হিন্দু সমর্থকরা মুসলিমদের ঘরে ঘরে প্রবেশ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ পরিস্থিতিতে এলাকাভিত্তিক কারফিউ জারি করা হয়। এ কারফিউর মধ্যেও সংঘর্ষ থেমে থাকেনি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আধা সামরিক বাহিনীকে দুর্গত এলাকায় নামানো হয়। হিন্দু ও মুসলিমদের এ দাঙ্গায় এখন পর্যন্ত ৪২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩০০ জন। এর মধ্যে মারাত্মক আহতের সংখ্যা প্রচুর।

ধারণা করা হচ্ছে নিহতদের সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে পরিস্থিতি যে এতদূর গড়িয়েছে তা অনুমান করতে অসুবিধা হয় না। দিল্লির হাইকোর্ট, অন্যদিকে সুপ্রিমকোর্টও তাই মনে করেন।

সুপ্রিমকোর্ট পুলিশের পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে বলে ভর্ৎসনা করেছে। অপরদিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে একজন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যরাতেই জরুরি শুনানির নির্দেশ দেন। অতঃপর রাত সাড়ে ১২টায় হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলিধরের বাসভবনেই শুনানি শুরু হয়।

দিল্লির এ দাঙ্গার ঘটনায় পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণের জন্য আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ছাড়াও বিজেপির উগ্রবাদী তিন নেতা কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর ও প্রবেশ ভার্মার বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কেন এফআইআর দায়ের হয়নি, দিল্লি পুলিশের কাছে তা জানতে চান তিনি। একদিনের মধ্যে এফআইআর দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিতে তিনি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

বিচারপতি মুরলিধর এ নির্দেশ দেয়ার সময় হয়তো একবারের জন্যও ভাবেননি যে, পরদিন সরকারের পক্ষ থেকে তার জন্য কী অপেক্ষা করছে। অতএব যা হওয়ার তাই হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি তার বদলির আদেশপত্র গ্রহণ করেন। অর্থাৎ পরিকল্পিত এ দাঙ্গা-হাঙ্গামার পরবর্তী পরিস্থিতিতে যেন কোনো আইনগত হস্তক্ষেপ করতে না পারেন সে জন্য মোদি সরকার আপাতত তাকে দিল্লির এ এপিসোড থেকে অন্যত্র সরিয়ে দিলেন। অতঃপর বিজেপি নেতাদের উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য কোনো এফআইআর করতে হল না দিল্লি পুলিশকে।

আদালতকে তারা জানিয়ে দেন, এখনই কোনো এফআইআর দায়ের করতে চান না তারা। দিল্লির যা পরিস্থিতি তাতে এ মুহূর্তে এফআইআর দায়ের করলে দাঙ্গা-পরবর্তী শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিচারপতি মুরলিধরের অনুপস্থিতিতে বিচারপতি ডিএন পটেল বিচারপতি সি হরিশঙ্করের সঙ্গে এদিন শুনানি গ্রহণ করেন।

মধ্যরাতে বিচারপতি মুরলিধরের এ বদলির আদেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে খটকা যেমন লেগেছে, পাশাপাশি বিরোধী শিবিরেও তার হাওয়া লেগেছে সমহারে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াংকা এক টুইটে বলেছেন, বিচারপতি মুরলিধরের বদলির ঘটনাটি বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘মোটেই আশ্চর্যের বিষয় নয়,’ তবে নিশ্চিতভাবে বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। এ ক্ষেত্রে বিচারপতি মুরলিকে ভাগ্যবানই বলা চলে। কারণ তাকে গুজরাট রায়টের সময় একজন মুসলিম ব্যক্তির হত্যাসংক্রান্ত তদন্তের মুখ্য তত্ত্বাবধায়ক সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি ব্রিজগোপাল হরকিষণ লোয়া’র ভাগ্যবরণ করতে হচ্ছে না।

ওই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন ভারতের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিচারপতি হরকিষণ ২০১৪ সালে মারা গেলে তার মৃত্যু নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছিল। যদিও ২০১৮ সালে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি ওই মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক’ বলে রায় দেন; তবু সাধারণ মানুষের ভেতর হরকিষণের মৃত্যু রহস্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

মোদি সরকার দিল্লির এ সহিংস ঘটনাকে বিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক চাল হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করছে। তারা মূলত কংগ্রেসের দিকেই আঙুল তুলেছে। তারা দিল্লির এ ঘটনাকে রাজনৈতিক সহিংসতা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন; কিন্তু ভারতের সচেতন মানুষ বিজেপির এ অভিযোগকে আমলে নিতে নারাজ।

ভারতের প্রিন্ট মিডিয়া থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইত্যাদি লক্ষ করলে তাই বোঝা যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দিল্লির এ সহিংসতাকে মানুষ কোন চোখে দেখবে? ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে মুসলিমবিদ্বেষী ধারাবাহিক ঘটনা পর্যালোচনা করলে এর উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে। দিল্লির ঘটনা বিজেপির বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি এপিসোড মাত্র। এ ঘটনা যে মুসলিমদের টার্গেট করেই সংগঠিত হচ্ছে তা এরই মধ্যে সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

মার্কিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) অভিযোগ করেছে, ‘বেছে বেছে মুসলিমদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। অথচ সব দেখেশুনেও নীরব সরকার। নৃশংস ও লাগামছাড়া সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তবে মার্কিন ওই সংগঠনের অভিযোগ মোদির বিদেশমন্ত্রক খারিজ করে দিয়েছে।

মার্কিন এ সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে দিল্লির বর্তমান বাস্তবতারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে হয়েছে। দিল্লিজুড়ে যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসলীলা চলেছে, যেভাবে মুসলিমদের ওপর হামলা এবং তাদের বাড়িঘর, দোকানপাট, ব্যবসা কেন্দ্র ও মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি দায়িত্বশীল সরকারের প্রধান কাজ।

বিজেপি সরকার মুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বরাবরই উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে এসেছে। এতদিন বিজেপি নেতাদের মুখে তথাকথিত অনুপ্রবেশকারী মুসলিমদের দেশছাড়া করার কথা শোনা যেত। কিন্তু দিল্লির এ ঘটনায় ভারতের প্রকৃত মুসলিম নাগরিকদেরই টার্গেট করা হচ্ছে যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের ওপর প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশও এ তালিকার বাইরে নয়।

মোদি ও তার দল যে আগুন নিয়ে খেলছে, সে আগুন যদি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে গোটা দক্ষিণ এশিয়াই নিরাপত্তার হুমকিতে পড়বে।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

Facebook Comments
Please follow and like us:
একই রকম সংবাদ


চেয়ারম্যান : আলহাজ্ব তৈয়েবুর রহমান (জাহাঙ্গীর) -----------------সম্পাদক ও প্রকাশক ----- ------ মো: আবু শোয়েব এবেল ....... ...মোবাইল: ০১৭১৫-১৪৪৮৮৪ ------------------------- -

ইউনাইর্টেড প্রির্ন্টাস,হোল্ডিং নং-০, দোকান নং-০, শহীদ নাজমুল সরণী,সাতক্ষীরা অফিস যোগাযোগ ০১৭১২৩৩৩২৯৯ e-mail: crimebarta@gmail.com