আজ বিশ্ব পর্যটন: দিবস সাতক্ষীরায় পর্যটন শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা

এসএম শহীদুল ইসলাম
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর। বিশ্ব পর্যটন দিবস। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দিবসটি উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে পর্যটন কী? পর্যটন শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে। জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগরপাড়ের জেলা সাতক্ষীরায় এ শিল্পের বিকাশে প্রধান বাঁধা, বাঁধা উত্তরণের উপায় ও অপার সম্ভাবনা তুলে ধরে রচনা লেখা হবে। কিন্তু এ শিল্পের বিকাশে অর্জনের ঝুড়িতে কতটুকু প্রাপ্তি তা হয়তো অজানা থেকে যাবে। সাতক্ষীরার রূপ-সৌন্দর্য তুলে ধরে কবি বলেছেন-

‘দেশের সীমানা নদীর ঠিকানা যেথা গিয়েছে হারিয়ে, সেথা সাতক্ষীরা রূপ-মায়া ঘেরা বনানীর কোলে দাঁড়িয়ে, সাগর বনানী মধুপ কুজনে সাতক্ষীরা মোহময়, পথিক সুজনে ডাকে নিরজনে প্রাণের বারতা কয়।’ বিশ্বের সবচেয়ে বিকাশমান শিল্প পর্যটন। অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে ঘিরে বিকশিত হয়েছে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি। বহুদেশ এ খাতকে আঁকড়ে ধরে সামনে আসার চেষ্টা করছে। একইভাবে পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশও অগ্রসরমান।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, আমাদের দেশের অনেক জেলা প্রকৃতির অপরূপ রূপে সজ্জিত। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতিও পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবন উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার গুরুত্ব ও সম্ভাবনা কম নয়। সুন্দরবন ও সুন্দরবনকে ঘিরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র এবং ঐতিহাসিক নানা স্থাপনা এই জেলার পরিচিতি তুলে ধরেছে বিশ্ব দরবারে। ‘সাতক্ষীরা’ নামকরণের যেমন অত্যন্ত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে, তেমনি পর্যটন শিল্পেও এই জেলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। যার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সুন্দরবন।

বিশ্বঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। এই বনভূমি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলাজুড়ে বিস্তৃত। তবে, ভৌগোলিকভাবে সুন্দরবনের কোলে অবস্থান হওয়ায় একমাত্র সাতক্ষীরা জেলা থেকেই সড়কপথে সুন্দরবন দেখা যায়। তাই স্বল্প খরচে সুন্দরবনকে প্রতিনিয়ত নতুন রূপে দেখার সুযোগ কেবল সাতক্ষীরাতেই রয়েছে।

সড়কপথে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছুলেই নদীর ওপারে চোখে পড়ে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের ‘ব্র্যান্ড’ সুন্দরবন। এরপর ভ্রমণপিপাসুরা বনবিভাগ থেকে পাশ নিয়ে ইচ্ছেমতো দর্শন করতে পারেন এই বিশ্ব ঐতিহ্যের সৌন্দর্য।

সুন্দরবনকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয়, দৃষ্টিনন্দন ও আনন্দদায়ক করে তুলেছে সুন্দরবনকে ঘিরে গড়ে ওঠা আকাশলীনা ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার, মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার, দোবেকী ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার, ক্যারাম মুরা ম্যানগ্রোভ ভিলেজ, ক্যারাম মুরা পাখি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, কৈখালী সীমান্ত ও পাঁচ নদীর মোহনা, উড়ালমন আদিবাসী গ্রাম ও নৌকা ভ্রমণ সাইট এবং শিয়ালকুনি বনায়ন।

সুন্দরবনের আবেশে কেওড়া বাগানে গড়ে ওঠা আকাশলীনা ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারের পরিচিতি এখন দেশজুড়ে। জোয়ার-ভাটায় রূপ পরিবর্তনকারী এই ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার ভ্রমণ পিপাসুদের সুন্দরবন দর্শনের আগ্রহ বাড়িয়েছে বহুগুণে। কী শারদে-কী বসন্তে চুনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা আকাশ লীনায় বসে দেখা যাবে গাঢ় সবুজের বুক চিরে বয়ে চলা মালঞ্চ নদীর রূপ।
সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত আরও একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান। যার একদিকে সুন্দরবন, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি। প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্র সৈকত দর্শণার্থীদের পুলকিত করে তোলে নতুন করে। যা পর্যটকদের বার বার ডাকে সুন্দরবনে। সাগরপাড়ের এ সৈকতে গেলেই পর্যটকদের মন বলে ওঠে,‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি।’

এছাড়া লোকালয়ের কাছে, তবে, সুন্দরবনের ভেতরে অবস্থিত কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারে রয়েছে বনের ভেতর হেঁটে বেড়ানোর সুযোগ। যেখানে বনের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ে বানর, মায়াবী হরিণসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি ও জীবজন্তু। রয়েছে সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। এখানেও দাঁড়ালে মন ছুঁয়ে যায় সবুজ পাতার অরণ্যে। গলা ছেড়ে বলতে ইচ্ছে করে,‘ সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে, সার্থক জনম মা গো তোমায় ভালোবেসে।’

সুন্দরবনের ভেতর আর একুট এগিয়ে গেলেই দোবেকী ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার। সেখানেও রয়েছে একই সুযোগ-সুবিধা।
সুন্দরবনে আসা দর্শণার্থীদের আনন্দ দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে ক্যারাম মুরা ম্যানগ্রোভ ভিলেজ, ক্যারাম মুরা পাখি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, কৈখালী সীমান্ত ও পাঁচ নদীর মোহনা, উড়ালমন আদিবাসী গ্রাম ও নৌকা ভ্রমণ সাইট এবং শিয়ালকুনি বনায়ন। রয়েছে আদিবাসী মুন্ডাদের জীবনাচার ও সংস্কৃতি অবলোকনের সুযোগও।

সুন্দরবন ভ্রমণের সবচেয়ে নিরাপদ রুট হলো সাতক্ষীরা। যেখানে একই সঙ্গে সুন্দরবনের সঙ্গে সমুদ্রের গর্জন, আদিবাসীদের জীবনাচার ও সংস্কৃতি দর্শন এবং আকাশলীনার মতো আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। শুধু সুন্দরবন নয়। সাতক্ষীরা পর্যটনের অন্যতম গন্তব্য হতে পারে এখানকার সুপ্রাচীন ও ঐতিহাসিক নানা স্থাপনার কারণেও। শ্যামনগর উপজেলায় সুন্দরবন অবস্থিত। এই শ্যামনগরেই রয়েছে অসংখ্য স্থাপনা। এসব স্থাপনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ঈশ্বরীপুরের পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ। ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই মসজিদটি টেংগা মসজিদ নামেও পরিচিত। যা স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নিদর্শন।

শ্যামনগরের গোপালপুর ঘোষপাড়ায় একটি জঙ্গলের মধ্যে মাটির স্তুপের মতো দাঁড়িয়ে আছে গোবিন্দা দেবের মন্দির। একই স্থানে ১৫৭৭-১৫৯৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে চারটি মন্দির নির্মিত হয়। ঠিক তেমনি ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ১ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হয়েছিল ঈশ্বরীপুরের জিযুইট গির্জা। এটিই বাংলার প্রথম র্গিজা। উল্লিখিত প্রাচীন স্থাপনাগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো-তিনটিই যশোহর রাজ্যের রাজা প্রতাপাদিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত। যিনি যশোহর রাজ্যের রাজধানী স্থাপন করেছিলেন শ্যামনগরের ধুমঘাট পল্লীতে এবং তারই পৃষ্ঠপোষকতায় একই এলাকায় নির্মিত মসজিদ, মন্দির ও গির্জা অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য দৃষ্টান্ত। শ্যামনগরে রয়েছে যশোরেশ্বরী কালী মন্দির, নকিপুর জমিদার বাড়ি, জাহাজঘাটা নৌদুর্গ, ঈশ্বরীপুর হাম্মামখানা ও সম্প্রতি গড়ে তোলা এগ্রো টেকনোলজি পার্ক।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মুঘল আমলে নির্মিত মুসলিম স্থাপত্যের অনুপম নিদর্শন প্রবাজপুর শাহী মসজিদ ১২ শতকের শেষের দিকে রাজা লক্ষণ সেনের আমলে তৈরি। যশোরেশ্বরী কালীমন্দির সাতক্ষীরার একটি অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। শ্যামনগর সদর ইউনিয়নে এখনো দাঁড়িয়ে আছে জমিদার রায় বাহাদুর হরিচরণ রায় চৌধুরীর তিনতলা বিশিষ্ট জমিদার বাড়ি, মন্দির ও নহবতখানা। যা নকিপুর জমিদার বাড়ি নামেই বেশি পরিচিত। মুঘল আক্রমণ প্রতিহত করতে রাজা প্রতাপাদিত্য শ্যামনগর উপজেলার খানপুরে যমুনা-ইছামতি নদীর পূর্ব পাড়ে গড়ে তোলেন জাহাজঘাটা নৌদুর্গ। জাহাজঘাটার একটি মাত্র ভবন ভেঙে চুরে এখনও টিকে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী মন্দির ও টেংগা মসজিদের মাঝখানে অবস্থিত রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজকীয় হাম্মামখানা।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের প্রবাজপুরে স¤্রাট আওরঙ্গজেব নির্মিত মুঘল যুগের কারুকার্য খচিত প্রবাজপুর শাহী মসজিদ, মৌতলার জাহাজঘাটা মসজিদ, ধলবাড়িয়ার মোস্তফাপুর গ্রামের নবরতœ মন্দির, বিষ্ণুপুর জমিদার বাড়ি, রতনপুরের কাটুনিয়া রাজবাড়ি, কুশলিয়ার মহৎপুরের রাজা প্রতাপাদিত্যের মাটির গড় বা দুর্গ ও নলতার পাক রওজাও ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক কারণে আকর্ষণ করে দর্শণার্থীদের।

কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের প্রবাজপুর গ্রামে অবস্থিত মুসলিম সভ্যতার প্রাচীন নিদর্শন প্রবাজপুর শাহী মসজিদ সম্পর্কে স্থানীয়দের ধারণা ও বিশ্বাস, ১১০৪ হিজরিতে জিনেরা জঙ্গল কেটে রাতারাতি মসজিদটি নির্মাণ করেন। রাজা প্রতাপাদিত্য মুসলমান সৈনিক ও প্রজাদের জন্য নির্মাণ করেছিলেন মৌতলা জাহাজঘাটা মসজিদ। ঈশ্বরীপুরের পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের সঙ্গে এর নির্মাণ কাজের কিছুটা মিল রয়েছে। চার কোণে চারটি কক্ষ ও বাইরের দেওয়ালে পশ্চিম-দক্ষিণ এবং পূর্ব দিকে অর্ধ বৃত্তাকার খিলানের সাহায্যে নির্মিত প্রবেশপথ বিশিষ্ট ধলবাড়িয়ার মোস্তফাপুর গ্রামে এখন দেখতে পাওয়া যায় নবরতœ মন্দিরের অবশিষ্টাংশ। আর শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারক খান বাহাদুর আহছান উল্লা (র.) এর পাক রওজা সারাদেশে নলতার পাক রওজা নামে পরিচিত। বাৎসরিক ওরসকে কেন্দ্র করে এখানে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। তালা উপজেলায় ১২৭০ বঙ্গাব্দে নির্মিত তেতুলিয়া জামে মসজিদের নির্মাণ শৈলী দৃষ্টি কাড়ে সবার। একইভাবে বঙ্গভঙ্গ রদের স্মৃতি হিসেবে তালা বাজারের খেয়াঘাট মোড়ে নির্মিত দরবার স্তম্ভের রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব।

 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর জমিদার বাড়ি মসজিদ, লাবসা জমিদার বাড়ি মসজিদ ও লাবসা মুন্সিপাড়া শাহী মসজিদ প্রাচীন স্থাপত্য শৈলীর অনন্য নিদর্শন। সদর উপজেলার বৈকারী শাহী মসজিদ, ছয়ঘরিয়া জোড়া মন্দির, সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর শাহী মসজিদ ও পুরাতন সাতক্ষীরার পঞ্চ মন্দিরেরও (মায়ের বাড়ি) গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। বর্তমানে সাতক্ষীরা শহরতলীর মোজাফফর গার্ডেনও পরিচিত হয়ে উঠেছে সারাদেশে। কলারোয়ার হেলাতলার চেড়াঘাট জামে মসজিদ, কোঠাবাড়ি থান ও সোনাবাড়িয়া মঠের নির্মাণ শৈলী ভ্রমণ পিপাসুদের পিপাসা মেটায়।

আশাশুনির প্রণব মঠ ১৯২১ সালে সুন্দরবন দুর্ভিক্ষের সময় নির্মিত। এই মঠ থেকেই সেসময় দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষকে সেবা দেওয়া হতো। দেবহাটার টাউন শ্রীপুর জমিদার বাড়ি, দেবহাটার নীলকুঠিসহ বিভিন্ন প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার নির্মাণ শৈলী মন কাড়ে পর্যটকদের। একই সঙ্গে এসব স্থাপনা সাতক্ষীরার প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে পর্যটকদের কাছে। সাতক্ষীরার রয়েছে সুপ্রাচীন ইতিহাস। আর এসব ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন স্থাপত্য শৈলী পর্যটন শিল্পকে করেছে সমৃদ্ধ।
অন্যদিকে, পর্যটক টানতে সমসাময়িককালে দেবহাটায় ইছামতির পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে রূপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র। এখানে রয়েছে ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যদিয়ে হেঁটে বেড়ানোর সুযোগ। যার ওপারেই ভারত। এখানে একই নদীতে ভারতীয় ও বাংলাদেশী জেলেদের মাছ ধরতে দেখা যায়।

 

দেবহাটার ঐতিহাসিক বনবিবির বটতলার কথা না বললেই নয়। শত বছরের পুরানো বটগাছটির শাখা-প্রশাখা দুই একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এখানে রয়েছে বনবিবির থান। বনবিবির বটতলায় প্রতিবছর মাঘ মাসের ৩ তারিখে বসে হাজুত মেলা। নিয়মিতই জেলা ও জেলার বাইরে থেকে দর্শনার্থীরা আসেন ঐতিহাসিক বনবিবির বটতলায়।
সর্বোপরি সাতক্ষীরার পর্যটন সম্ভাবনা অসীম। তবে, এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সড়কপথে সুন্দরবন দর্শনসহ সাতক্ষীরার পর্যটন সম্ভাবনা ম্লান করে দিচ্ছে। তাই পর্যটন শিল্প বিকাশে রাস্তা-ঘাট উন্নয়নের বিকল্প নেই। সড়কপথে সুন্দরবন দর্শনের একমাত্র পথ বা মাধ্যম সাতক্ষীরা হলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সাতক্ষীরা রেঞ্জের ফরেস্ট স্টেশনগুলো থেকে এখনও বনে রাত্রিযাপনের পাশ দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়নি। রাত্রিযাপনের পাশ নিতে ধর্ণা দিতে হয় খুলনায়। তাই অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নেন সাতক্ষীরা থেকে। এজন্য সাতক্ষীরার ফরেস্ট স্টেশনগুলো থেকে বনে রাত্রিযাপনের পাশ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সাতক্ষীরার পর্যটনকে এগিয়ে নিতে পর্যটন সাইটগুলোতে স্বল্প খরচে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

২০১৮ সালে পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে (প্রচার) জেলা প্রশাসন ‘বৈচিত্র্যময় সাতক্ষীরা’ নামে জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের সচিত্র সংকলন প্রকাশ করেছে। যা এ শিল্পের বিকাশে অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

 

সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো ক্রমেই ক্ষয় হচ্ছে। অবিলম্বে এগুলোর রক্ষাণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সাতক্ষীরায় আসা কোনো পর্যটক যাতে হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পর্যটকদের থাকা, খাওয়া, নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এখনই সময়।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাতক্ষীরায় পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কখনই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি সড়কপথে শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে নেমে বাসস্ট্যান্ড থেকেই যে সুন্দরবন দেখা যায়-এ বিষয়টিও প্রচারের অভাবে কেউ জানে না। এছাড়া রাস্তা-ঘাট, আবাসন ব্যবস্থাসহ পর্যটন খাতে বিদ্যমান সংকট দূরীকরণে কেউ কখনই ভাবেনি।
সাতক্ষীরার পর্যটন শিল্প দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে, পরিচিতি পাবে বিশ্বজুড়ে-এই প্রত্যাশা তার।

Check Also

মাদক নির্মূলে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিধিদের এগিয়ে আসতে হবে ……..জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল

হাফিজুর রহমান শিমুলঃকালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাদক বিরোধী সমাবেশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *