শ্যামনগরের তরুণ হাসিবুল দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর): হাসিবুল ইসলাম (২২) নামের শ্যামনগরের এক তরুণের মৃতদেহ নরসিংদীর শিবপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখানকার পুলিশ সদস্যরা কারারচর এলাকা থেকে আরও দুটি মৃতদেহের সাথে হাসিবুলের নিথর দেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তার সাথে থাকা এনআইডি কার্ডের সূত্র ধরে সেখানকার পুলিশ শ্যামনগর থানার মাধ্যমে হাসিবুলের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে।

হাসিবুল ইসলাম ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মরহুম সোহরাব মালির ছেলে। পিতৃহীন ওই তরুণ ছিলেন দুই ভাই এক বোনের বড় এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি।

নিহতের নিকটাত্মীয় মিজানুর রহমান জানান, হাসিবুল মোবাইল কোম্পানীর টাওয়ার মেরামতের কাজ করতেন। কাজের সূত্রে তিনি গত কয়েক মাস ধরে তিনি নরসিংদী অবস্থান করছিলেন। তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে শ্যামনগর থানার পুলিশ নরসিংদীতে হাসিবুলের মৃতদেহ উদ্ধারের তথ্য দেয়। শুরুতে গাড়ি দুর্ঘটনায় দুই সহকর্মীর সাথে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হলেও পরবর্তীতে দুর্বৃত্তদের হাতে অপর দুই সহকর্মীর সাথে তার মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়। খবর পেয়ে শ্যামনগর ও ঢাকা থেকে হাসিবুলের ভগ্নিপতি ও খালাত মাকসুদুল আলম শিবপুর থানার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলাম জানান, সকালে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী ওয়াহিদ মুর্শেদ হাসিবুলের পরিবারের সাথে যোগাযোগের নির্দেশ দিয়ে তার মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি পরিবারকে জানানোর পরামর্শ দেন। তিনি আরও জানান, নিহত হাসিবুল মোবাইল কোম্পানীর টাওয়ারের কাজ করতেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদেরকে জানানো হয়েছে।

এদিকে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানা সূত্রে দাবি করা হয়েছে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কারারচর এলাকা থেকে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরক্ষণে পকেটে থাকা আইডি কার্ডের সূত্র ধরে শ্যামনগর থানার সাথে যোগাযোগ করে হাবিুলের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

হাসিবুলের মৃতদেহের পাশে আরও দুটি মৃতদেহ ছিল-উল্লেখ করে শিবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, উদ্ধার তিনটি মৃতদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া গেলেও উদ্ধারের পর স্পষ্ট ধারনা মিলেছে যে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলা ও ময়না তদন্ত শেষে যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হাসিবুলের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর অকাল মৃত্যুর খবরে তার পরিবারসহ গোটা এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তানের এমন মর্মান্তিক ও অকাল মৃত্যুর খবরে তার অসুস্থ ও বৃদ্ধ মা রহিমা বেগম বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন।

Check Also

আশাশুনি ইঁদুর মারা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে দু’জনের মৃত্যু

আশাশুনি উপজেলার শোভনালীতে ধান ক্ষেতের ইঁদুরের উপদ্রব দমন করতে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে আটকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

***২০১৩-২০২১*** © ক্রাইমবার্তা ডট কম সকল অধিকার সংরক্ষিত।