শান্তিরক্ষা মিশনে র‌্যাবকে নিষিদ্ধ করতে ১২টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘে চিঠি

র‍্যাব কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সেটা যুক্তরাষ্ট্র শিখিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। তিনি এও বলেছেন, এখন র‌্যাবের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো সমস্যা থাকলে যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে পারে।

মঙ্গলবার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

র‍্যাবের কার্যক্রমের সমালোচনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল মোমেন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হলেই যে খুব ভালো প্রতিষ্ঠান, তা নয়। একটি প্রতিষ্ঠান বলেছে, বাংলাদেশে র‍্যাব বহু লোক মেরে ফেলেছে, অমুক-তমুক। তারা একসময় বলেছিল, ইরাকে নিষিদ্ধ অস্ত্র রয়েছে। এটা বলার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মনে করেছে, সত্যি সত্যি আছে…পরের ঘটনা আপনারা জানেন। আমি যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বলব, তারা আগের কথা স্মরণ করুক। একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে তাদের ভুল পথে নিয়েছে, যার কারণে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘র‍্যাব অত্যন্ত পারদর্শীভাবে ও সততার সঙ্গে কাজ করছে। এ জন্য বাংলাদেশে সবার কাছে র‍্যাব গ্রহণযোগ্য। আমাদেরও কাজ করার আছে। যদি কোথাও আইনের ব্যত্যয় হয়, অবশ্যই আমরা সেখানে অ্যাকশন নেব।’

ড. মোমেন বলেন, ‘ইতোমধ্যে দু-একটা কেসে র‍্যাব এবিউজড করেছিল। তাদের শাস্তি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ঘটনা আপনারা জানেন।’

তিনি বলেন, ‘এরা (র‍্যাব) কীভাবে অ্যাকশন নেবে, এগুলো আমেরিকানরা শিখিয়েছে। তাদের এই রুলস অব এনগেজমেন্টে যদি অসুবিধা থাকে, আমরা আমেরিকানদের বলব, তোমরা এদের ফ্রেশ ট্রেনিং দাও, যাতে কোনো ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে।’

শান্তিরক্ষা মিশনে র‌্যাবকে নিষিদ্ধ করতে ১২টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘে চিঠি দিলেও তার কোনো ‘প্রভাব পড়বে না’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ যখন শান্তিরক্ষা মিশনে কোনো দেশ থেকে সদস্য নেয়, তখন তারা যাচাই-বাছাই করে নেয়।  শান্তি মিশনে না নেওয়ার জন্য যে ১২টি আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছেন, এতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, কিছু লোক দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাদের দেশের প্রতি কোনো মমত্ববোধ নেই। তবে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ হবে না।

Check Also

আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান মূলত ইসলাম ও দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া : ড. মাসুদ

ষিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং পরে বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য কেউ ভূমিকা রাখেননি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

***২০১৩-২০২১*** © ক্রাইমবার্তা ডট কম সকল অধিকার সংরক্ষিত।