সাতক্ষীরা পিএন স্কুল এন্ড কলেজে উৎকোচের বিনিময়ে অধ্যক্ষের পরিবর্তে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পায়তারা

স্টাফ রিপোটার: সরকারী নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উৎকোচের বিনিময়ে অধ্যক্ষের পরিবর্তে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পায়তারা চলছে সাতক্ষীরা শহরের ঐহিত্যবাহী সাতক্ষীরা পিএন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের পরিবর্তে প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করায় প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নিয়মিত পাঠ দান থেকে শুরু করে উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে এইচএসসি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীসহ শিক্ষক কর্মচারীরা। অধ্যক্ষকের পরিবর্তে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করে সরকারের সর্বশেষ নীতিমালা “বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা -২০১৮ কে পাশ কাটিয়ে পুরাতন একটি নীতিমালার আলোকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার পায়তারা করছে।
সরকারের জারি করা সর্বশেষ নীতিমালায় বলা হয়েছে ভোকেশনাল, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) কৃষি ডিপ্লোমা ও মৎস্য ডিপ্লোমা ২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত ’ এর ২০.২ ধারা-“প্রতিষ্ঠানের উচ্চমাধ্যমিক/ ডিপ্লোমা স্তর এমপিওভুক্ত হলে এবং প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য হলে পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অধ্যক্ষ পদে উন্নীত হবে” বলে সুস্পষ্ট বিধিতে উল্লেখ আছে।
সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা পিএন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি ১৮৪৬ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। গত ২৬ বছর ধরে উচ্চমাধ্যমিক শাখা সংযুক্ত থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষ নিয়োগের উদ্যোগ নেই। জনবল কাঠামো অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত উচ্চমাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হলে এবং প্রধান শিক্ষকের পদ খালি হলে সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে জনবল কাঠামো অনুযায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের বিধান রয়েছে।
সূত্রমতে, সাতক্ষীরা পিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৬ সালে ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে সর্বপ্রথম অত্র প্রতিষ্ঠান সহ সারা দেশে ৬৪টি জেলায় ৬৭টি প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্্রযুক্তি) কোর্স চালু করা হয় । বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ১৮০০ প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি(ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি) বিভাগ চালু আছে। গত ০১/০২/১৯৯৬ ইং থেকেই অত্র এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি) কোর্সের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ এমপিওভূক্ত হন। বর্তমানে এইচএসসি(ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি) বিভাগে ৭(সাত)জন প্রভাষক ও ২(দুই)জন কর্মচারী এমপিওভূক্ত আছেন। এছাড়া কম্পিউটার অপারেশন ও গণিত বিষয়ের প্রভাষক পদ শূণ্য আছে। এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি) কোর্স চালুকালীন সময়কার প্রধান শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান খান(মরহুম) ২০০৪ সালে অবসর গ্রহণ করলে জনাব মোঃ আব্দুল মাজেদ কে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। জনাব মোঃ আব্দুল মাজেদ গত ৩১-০৩-২০১৮ সালে অবসর গ্রহণ করলে একাধিক ভার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পস্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অধ্যক্ষ নিয়োগ না দিয়ে পত্রিকায় প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, অত্র প্রতিষ্ঠানটি প্রাচীর ঘেরা সুন্দর অবকাঠামো থাকায় ১৯৯৬ ইং সাল থেকে সাতক্ষীরা সদরের ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, ছফুরননেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ঝাউডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ, পল্লীমঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সীমান্ত কারিগরি কলেজ, কলেজ অব বিজনেস এন্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন-সাতক্ষীরা ও এভিএএস টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ সমন্বয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক পরিচালিত এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি) পরীক্ষা কেন্দ্র। কিন্তু দুঃখের বিষয় এ সমস্ত ডিগ্রি কলেজ ও স্বতন্ত্র এইচএসসি(বিএমটি) কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ ও সহকারী অধ্যাপকগণ অনেক সময় পদাধিকার বলে প্রধান শিক্ষক পদ মর্যাদা সম্পন্ন কেন্দ্র সচিবের অধীনে পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিসদৃশ মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ছাড়া ম্যানেজিং কমিটিতে এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি) বিভাগ থেকে ১৯৯৬ সাল থেকে অদ্যাবধি অভিভাবক সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি) বিভাগের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দের সমস্যা ম্যানেজিং কমিটিতে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। তা ছাড়া গত কয়েক বছর ম্যানেজিং কমিটিতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হলেও বোর্ড থেকে অনুমোদনের বিধান বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এমতাবস্থায় এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাক্রম বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভাবমর্যাদা রক্ষার্থে অধ্যক্ষ নিয়োগ একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমি সম্প্রতি দায়িত্ব পেয়েছি। অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক আমি কিছু জানিনা। ম্যানেজিং কমিটি বিষয়টি ভাল বলতে পারবে।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ শাফী আহমাদ বলেন, সরকারী বিধি অনুযাীয় অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষটি সমাধান করা হবে।

Check Also

আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান মূলত ইসলাম ও দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া : ড. মাসুদ

ষিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং পরে বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য কেউ ভূমিকা রাখেননি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

***২০১৩-২০২১*** © ক্রাইমবার্তা ডট কম সকল অধিকার সংরক্ষিত।