রাজাপুরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আইভি স্যালাইন নেই#জীবনদাসকাঠি স্কুলের জরার্জিন ভবনের পলেস্তরা খসে পড়ছে#১১০ টি সোনার দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট

রহিম রেজা রাজাপুর প্রতিনিধি
ঝালকাঠির রাজাপুরে গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে শতাধিক। এর মধ্যে অর্ধশত রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, নারী ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি। আবহাওয়া ও খাবার জনিত কারনে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে ঠান্ডাজনিত কারনে সর্দি, কাশি, শ্বাসকাশ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছে ১০-২০জন এবং ভর্তি হচ্ছে ৫-৬ জন রোগী। রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি পারুল বেগম (৬৫) ও রোকেয়া বেগম (৮০) জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩ দিন আগে ভর্তি হয়েছি। আইভি স্যালাইনসহ অধিকাংশ ঔষধ বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে। গরীর ও দরিদ্র রোগীরা এতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া হয়রানির শিকারও হতে হচ্ছে অনেক রোগীর স্বজনদের। এছাড়া রোগীর চাপ বেশি থাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বারান্দায়ও চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা। রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আবুল খায়ের রাসেল মাহমুদ জানান, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তিন মাস পর পর ঔষধ সরবরাহ দেয়া হয়। প্রতি তিন মাসে ৬০-৭০ টি আইভি স্যালাইন সরবরাহ দিয়ে থাকে। কিন্তু গড়ে প্রতি দিন এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কমপক্ষে ১০টি করে তিন মাসে ৯শ’ আইভি স্যালাইনের চাহিদা রয়েছে। সরবরাহ কম থাকায় আইভি স্যালাইনের সংকট থেকেই যায়। বর্তমানে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন আইভি স্যালাইন নেই। চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। শীগ্রই পেয়ে যাবে বলেও জানান রাসেল।

রাজাপুরের জীবনদাসকাঠি স্কুলের জরার্জিন ভবনের পলেস্তরা খসে পড়ছে শিক্ষার্থীর মাথায়, দুর্ঘটনার শঙ্কা
রহিম রেজা রাজাপুর প্রতিনিধি21
ঝালকাঠির রাজাপুরের জীবনদাসকাঠির ৫২ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি খুবই জড়াঝির্ণ অবস্থা হয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই পাঠদান কার্য়ক্রম চালিয়ে আসছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, তিনটি শ্রেনী কক্ষ ও একটি শিক্ষক মিলনায়াতনসহ ৪টি কক্ষ বিশিষ্ট স্কুল ভবনটি অনেক পুরাতন হয়ে যাওয়ায় প্রতিটি কক্ষের ছাদের নিচের অংশের পলেস্তরা প্রায়ই খসে শিক্ষক শিক্ষার্থীর গায়ে-মাথায় পরছে। পলেস্তরা খসে গিয়ে প্রতিটি কক্ষের ও বারান্দার ছাদের রড বেড়িয়ে গেছে। যে কোন সময় ছাদ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, ১৯২৪ ইং সালে বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অতি সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম চলে আসছে। তখন ভবনটি মাত্র ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয়েছিল। ভবনটি অনেক পুরাতন হওয়ায় চারটি কক্ষ ও বারান্দার ছাদের নিচের অংশসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায়ই পলেস্তরা খসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গায়-মাথায় পরছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে চার জন দক্ষ শিক্ষক ১শ’ ২০ জন শিক্ষার্থীকে ঝুকিপুর্ন অবস্থায় আতঙ্কের মধ্যে থেকে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। বর্ষা মৌসুমে ছাদ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আতঙ্কে রয়েছি আমরা। এই জরাজির্ণ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব বজলুল হক হারুন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলামকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, ওই ভবনটিসহ উপজেলার মোট ৪৮ টি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন চেয়ে ঢাকা অফিসে আবেদন করেছি। সেখানে স্থানীয় সাংসদ বি এইচ হারুনের ডিউ লেটার দেয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শীগ্রই ভবনগুলো পেয়ে যাবো।

ঝালকাঠিতে ১১০ টি সোনার দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট, মুখে কালো কাপড় বেধে মানববন্ধন
রহিম রেজা রাজাপুর প্রতিনিধি
ঝালকাঠিতে বোমা ফাটিয়ে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচার ও লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে ২৪ ঘন্টা ধর্মঘট পালন করছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। সোমবার সকাল ৬টা থেকে ১১০ টি সোনার দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করে জুয়েলারি মালিক সমিতি। শহরের ডাক্তারপট্টি সড়কে সকাল ১১টা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা তাদের সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে একত্রিত হয়ে ডাকাতির প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ কালো কাপড় বেঁধে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন করে। মানবন্ধন কর্মসূচি চলাকালে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ডাকাতির লুট হওয়া বাকি ৭৪ ভরি সোনার গহনা উদ্ধার ও ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। মানববন্ধনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি দেবব্রত কর্মকার, সহ-সভাপতি চঞ্চল কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক দিপক কর্মকার, যুগ্ম-সম্পাদক ইউসুফ হাওলাদার, ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিম গিণি হাউজের মালিক মো. শাহজাহান হাওলাদার। স্বর্ন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রায় ১ মাস অতিবাহিত হলেও বাকি ৭৪ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ অবস্থায় ঝালকাঠির স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা নিরাপদ নয়। ডাকাতির এ ঘটনার সাথে স্থানীয় একটি শক্তিশালী চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন জুয়েলার্স সমিতির নেতৃবৃন্দ। প্রসংগত, গত ২১ নভেম্বর রাতে শহরের ডাক্তারপট্টি সড়কের মুসলিম গিনি হাউজে ঢুকে ৮ থেকে ১০ জন সশস্ত্র ডাকাত দল বোমা ফাটিয়ে  ১১৪ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় গাবখান সেতুর টোলঘর এলাকা থেকে ৬ জনকে আটক করে ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ।

Check Also

বড়লেখায় ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করায় জেলা ছাত্রলীগকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও জেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

***২০১৩-২০২৩*** © ক্রাইমবার্তা ডট কম সকল অধিকার সংরক্ষিত।