পারল না পাকিস্তান। ইতিহাস গড়ার খুব কাছে গিয়েও আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিসবাহ-উল হকের দলকে। কিন্তু কেউ কি ভেবেছিল ৪৯০ রানের জয়ের লক্ষ্যের এতটা কাছে যেতে পারবে তারা? জিতলে হয়ে যেত টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এমন একটি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩৯ রানে হেরেছে পাকিস্তান।
৮ উইকেটে ৬৭, সেখান থেকে ১৪২ রানে অলআউট। এই ছিল পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ের চিত্র। প্রথম ইনিংসেই পিছিয়ে ২৮৭ রানে। সেখান থেকে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান কত দূর যেতে পারবে বলে ভেবেছিলেন? আজহার আলী, ইউনিস খান, আসাদ শফিকরা ৪৫০ রান করতে পারবে বলে দূর কল্পনাতেও হয়তো কেউ ভাবেনি। পাকিস্তান যে এটা পারল তা আসলে শফিকের অনবদ্য এক ইনিংসের জন্যই।
তিন দিন পর্যন্ত ম্যাচটি বলতে গেল ছিল অস্ট্রেলিয়ার হাতের মুঠোয়। কিন্তু চতুর্থ দিন শেষে সেই ম্যাচে জ্বলে ওঠে পাকিস্তানের জয়ের আশা। ৮ উইকেটে ৩৮২ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করে পাকিস্তান। জয়ের জন্য তখনো দরকার ১০৮ রান, হাতে মাত্র ২ উইকেট; দুসাধ্য এক ব্যাপারই। পঞ্চম দিনের প্রথম পানি পানের আগে এটাকে সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসেন শফিক ও ইয়াসির শাহ। তবে বিরতির পর মিচেল স্টার্কের একটি লাফিয়ে ওঠা বলে আউট হয়ে গেলে ম্লান হয়ে যায় সব আশা। ১৩৭ রানে থামে শফিকের ইনিংস। পাকিস্তান তখন ৪৪৯। আর মাত্র ১ রান যোগ হয়ে পাকিস্তানের ইনিংস থামে তাঁর আউটের চার বল পর।
শফিক একা নন, তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন আজহার (৭১) আর ইউনিসও (৬৫)। অপ্রত্যাশিত খাত থেকেও আসে রান। মোহাম্মদ আমির যেমন করেছেন তার ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৪৮ রান। ওয়াহাব রিয়াজের অবদান ৩০ রান। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রানআউট হওয়ার আগে ইয়াসির করেন ৩৩।
সাম্প্রতিক অতীতে চতুর্থ ইনিংসে চার শর বেশি রান করার কৃতিত্ব দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০১৩ সালে ভারতের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৪৫০ রান করে ম্যাচ ড্র করেছিল প্রোটিয়ারা। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৫১ রান করেও হেরেছিল নিউজিল্যান্ড। ১৯৭৮ সালে ভারত ৪৪৫ রান করে হেরেছিল এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই। আজ থেকে ৭৭ বছর আগে, ১৯৩৯ সালে চতুর্থ ইনিংসে ৬৫০ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ড্র করেছিল ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের ৪৫০ টেস্টের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে এটা তাদের চতুর্থ সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
নিউজিল্যান্ডের কাছ থেকে একটা সান্ত্বনা পাকিস্তান অবশ্য পেতে পারে। ১৯৭৩ সালে নটিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য ৪৭৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৪০ রানে অলআউট হয়ে ৩৮ রানে হেরেছিল কিউইরা। লক্ষ্যের খুব কাছে এসেও লক্ষ্যটা ছুঁতে না পারার দুঃখটা পাকিস্তান ভুলতে পারে ইতিহাস থেকেই।
ব্রিসবেন টেস্টে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যবধান ৩০৮ রানের। প্রথম ইনিংসে ফলোঅনে পড়েও তা করতে হয়নি পাকিস্তানকে। এর আগে ১৯৯৪ সালে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ৫২১ রানের জবাবে ২৬০ রানে গুটিয়ে গিয়ে ফলোঅন করে ৫৩৭ রান করে ম্যাচ বাঁচিয়েছিল পাকিস্তান। এত দিন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টই ছিল পাকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানোর বড় ইতিহাস। ব্রিসবেনে সেই ইতিহাসটা আরও গর্বের হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
শফিক সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। উইকেটে ছিলেন ৩৩৪ মিনিট, বল খেলেছেন ২০৭টি। ১৩ চার আর একটি ছয়ে সাজানো ইনিংসটিতে মিশে থাকবে দলকে জেতাতে না পারার আক্ষেপ। তবে একটি কীর্তির কথা ভেবে কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পেতে পারে পাকিস্তান। গ্যাবায় চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এখন তাদেরই অধিকারে। এর আগে চতুর্থ ইনিংস গ্যাবায় সর্বোচ্চ রানের স্কোরটি ছিল ৩৭০। সূত্র: স্টার স্পোর্টস ২।