যশোর: যশোরে সরকারি দলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার টেন্ডার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার যশোর গণপূর্ত বিভাগের ২ গ্রুপে কাজের টেন্ডার নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও দপ্তরের তালিকাভূক্ত ঠিকাদাররা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্বয়ং জেলা প্রশাসকও নাখোশ হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি জানায়, যশোর গণপূর্ত সার্কেল অফিসের পক্ষ থেকে কেশবপুরের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মানের লক্ষ্যে ২ গ্রুপে ৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার কাজের টেন্ডার আহবান করা হয়। বুধবার ছিল ওই টেন্ডারের দরপত্র দাখিলের শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরপত্র জমা দিতে গণপূর্ত বিভাগ, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও গনপূর্ত মাগুরা নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে বাক্স স্থাপন করা হয়। কিন্তু সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের দপ্তর ছাড়া বাকি স্থান গুলোর দরপত্রের বাক্স টেন্ডারবাজরা গায়েব করে দেয়। ফলে দরপত্র দাখিল করতে আসা ঠিকাদাররা পড়েন বেকায়দায়।
এ সময় টেন্ডারবাজ চক্রের সরকারি দলের ক্যাডাররা অস্ত্র ঠেকিয়ে ঠিকাদারদের দরপত্র জমাদানে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন সাধারণ ঠিকাদাররা। খবর পেয়ে যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান তার দপ্তরে রক্ষিত টেন্ডার বাক্সে দরপত্র দাখিল করতে সাধারণ ঠিকাদারদের অনুরোধ জানান। এ সময় বেশ কয়েকজন ঠিকাদার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে রক্ষিত দরপত্রের বাক্সে তাদের দরপত্র জমা দেন।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত যশোরের জেলা প্রশাসকের দপ্তরে ২টি, পুলিশ সুপারের দপ্তরে ২টি ও গণপূর্ত সার্কেল অফিসে ৪টি সর্বমোট ৮টি দরপত্র জমা পড়েছে। কিন্তু সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ হচ্ছে আরো অনেক বেশী দরপত্র জমা পড়েছিল । কিন্তু সরকারি দলের টেন্ডারবাজ চক্রের সদস্যরা প্রয়োজনীয় দরপত্র গুলো রেখে বাকি দরপত্র দাখিলকারী ঠিকাদারদের কাছ থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জোর পূর্বক প্রত্যাহার পত্র লিখিয়ে নেয়। এদিকে প্রকাশ্যে এই ধরনের টেন্ডারবাজির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ঠিকাদাররা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, প্রশাসনের সহযোগিতা না থাকলে সরকারি দলের টেন্ডারবাজরা এ ধরনের কাজ করার সাহস দেখাতেন না।
