নিজস্ব প্রতিবেদক : আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যাক্ষ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে শিশু শাহারুল ইসলামের মারপিট ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকালে আশশুনি সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে। থানায় লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, আশাশুনি সদরে শ্রীকলস গ্রামের বিল্লাল গাজীর পুত্র শাহারুল ইসলাম (৬) প্রতিদিনের ন্যায় সরকারি কলেজ মাঠে বন্ধুদের নিয়ে খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে আম পাড়ছিল। এসময় সরকারি কলেজের অধ্যাক্ষ দেখতে পেয়ে ধর ধর করে তাড়া দিলে শিশু শাহারুলের সাথে থাকা অন্যান্য বন্ধুরা পালিয়ে গেলেও শাহারুল আমগাছে ছিল। অধ্যাক্ষ সাহেব গাছের নিচে দাড়িয়ে তাকে নামতে বললে সে নেমে এসে স্যার স্যার বলে পা জড়িয়ে ধরে বলে আর কখনও আম পাড়তে আসব না এবারের মত মাফ করে দেন।
কিন্তু শিশুর আকুতি অধ্যাক্ষ সাহেবের একটুও বিবেক নাড়া দেয়নি। তাকে বেধম মারপিট করে আর বলে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে আম পাড়ার স্বাদ মিটিয়ে দেব। শিশু শাহারুল মারপিট ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে বার বারই বলেন স্যার আর কখনও আসব না এবারের মত মাফ করে দেন বলে চিৎকার চেচামেচি করতে থাকলে আশপাশের লোকজন সহ শিশুর পিতামাতা সহ আত্বীয় স্বজনরা কলেজে ছুটে এসে স্যারকে বলে স্যার কেন শিশুটিকে মারলেন। এ সময় তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে বলে বার বার আম পাড়তে নিশেষ করি তার পরও কেন আম পাড়ে। তাই এই সাজা দিয়েছি বলে শিশু শাহারুলকে সেখানে ফেলে রেখে চলে গেলে তার পিতা মাতা তাকে উদ্ধার করে আশাশুনি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করে। তারপর এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানিয়ে সরকারি কলেজের অধ্যাক্ষ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আশাশুনি থানায় শিশুটির পিতা বিল্ল¬াল গাজী বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কথা হলে বলেন অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপর দিকে সরকারি কলেজের অধ্যাক্ষ মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমি এ শিশুটিকে মারপিট বা নির্যাতন করিনি। প্রতিদিন সে ক্যাম্পাসে এসে আম পেড়ে নিয়ে যায় নিশেধ করি সোনেনা সেজন্য আজকে আম পাড়কে আসলে আমি তাকে আটকে রেখে তার পিতামাতাকে খবর দিয়ে তাদের কাছে তাদের পুত্রকে দিয়ে বলি আর কখনও যেন ক্যাম্পাসে না ঢোকে। উল্লেখ্য উক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে ফুসলে উঠেছে আশাশুনি বাসি। অবিলম্বে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক বিচারের দাবী জানিয়ে কর্তৃপক্ষে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।