জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ বাঁধ ও নেটপাটা অপসারণে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে অভিযান

ক্রাইমবার্তা রিপোটঃ   জলাবন্ধতা নিরসনে ও জনস্বার্থে বন্দোবস্তকৃত সকল খালের ইজারা বাতিল এবং জলাবদ্ধ এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনে বেড়িবাঁধ নেটপাটা অপসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে। আজ সাতক্ষীরা সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্নস্থানে ভেডিবাধ কাটা এবং নেট-পাটা অপসারণের কাজ শুরু হয়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সইখালি খালে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধ বাঁধ ও নেটপাটা অপসারণ করা হয়। জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনি আলম নূর, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ শহিদুল ইসলাম, মহিলা কাউন্সিলর অনিমা রানী মন্ডলসহ স্থানীয় জনগন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলার বিভিন্নস্থানে একই ধরণের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা, এসি ল্যান্ডসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।
এরআগে মঙ্গলবার জেলা নাগরিক কমিটি জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে জলাবন্ধতা নিরসনের দাবী জানায়। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নাগরিক সংলাপ আহবান করেন।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত নাগরিক সংলাপে তিনি আরো ঘোষণা করেন জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলার ৭ উপজেলায় নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে জলাবদ্ধতা নিরসনে সকল সরকারি খাল অবমুক্ত করা, পানি নিষ্কাশনে খালের বাঁধা অপসারণ করা, নেটপাটা তুলে ফেলতে নির্দেশ প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসক এই ইস্যুতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহবান জানান।
এর আগে মঙ্গলবার জেলা নাগরিক কমিটির দেওয়া স্মারকলিপিতে পানি নিষ্কাশনে যেখানে যে ধরণের বাঁধা আছে তা জরুরীভাবে অপসারণের দাবী ছাড়াও আরো ৯দফা দাবী জানানো হয়। দাবীগুলো হলো জেলার সকল নদী-খালের জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ যতদুর সম্ভব পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সকল বাঁধা অপসারণ করতে হবে। ডিএস/সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদী-খালের সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে। উদ্ধারকৃত জমি ইজারা দেওয়া যাবে না। পূর্বে দেওয়া সকল ইজারা বাতিল করতে হবে। নতুন করে আর কোন অপ্রয়োজনীয় স্লুইস গেট ও ক্লোজার নির্মাণ করা যাবে না। ইছামতি নদীর সাথে মরিচ্চাপ-খোলপেটুয়া নদীর সংযোগস্থাপনকারী কুলিয়ার লাবন্যবতি ও পারুলিয়ার সাপমারা খাল সংস্কার ও খনন করতে হবে এবং দু’পাশের স্লুইস গেট অপসারণ করে জোয়ার-ভাটা চালু করতে হবে। ইছামতি থেকে মাদার নদীর (আদি যমুনা) প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে। নিচু বিলগুলো উচুঁ করতে টিআরএম করতে হবে। সাতক্ষীরা শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত প্রাণ সায়র খালের স্বাভাবিক প্রবাহ চালু করতে হবে এবং বেতনা ও মরিচ্চাপের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। সরকারী রাস্তা ও নদীর বেড়িবাঁধকে ঘেরের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার বে-আইনী ঘোষণা করতে হবে। নদী খালের নেট-পাটা অপসারণ করতে হবে।

Please follow and like us:

Check Also

ইছামতি নদীরপাড় কেটে পাইপ বসিয়ে মৎস্য পয়েন্ট তৈরি: ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইছামতি নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে পাইপ বসিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মৎস্য রেণু প্রসেসিং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

***২০১৩-২০২৩*** © ক্রাইমবার্তা ডট কম সকল অধিকার সংরক্ষিত।