গণবিচ্ছিন্ন সরকার এখন দিশেহারা:তাদের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছেঃ জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, গণবিচ্ছিন্ন সরকার এখন দিশেহারা হয়ে বিরোধী দলের ওপর নতুন করে দলন-পীড়ন শুরু করেছে। সে ধারাবাহিকতায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি মাওলানা আ.ন.ম শামসুল ইসলামকে ৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টায় রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। যা সরকারের ফ্যাসীবাদী বা বাকশালী মাসিকতার পরিচয় বহন করে।

তিনি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলামকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। অবিলম্বে শামসুল ইসলামসহ গ্রেফতার সকল জামায়াত নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

তিনি বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৪ টায় রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত নায়েবে আমীর মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলামের গ্রেফতার প্রতিবাদ ও অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন। মিছিলটি শ্যামলী ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে পান্থপথ সড়কে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি লস্কর মুহাম্মদ তাসলিম,মাহফুজুর রহমান ও ফখরুদ্দিন মানিক, মহানগরী মজলিসে শুরা সদস্য জিয়াউল হাসান,আতাউর রহমান সরকার, এডভোকেট ইব্রাহিম খলিল, শিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফ, ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা শিবির সভাপতি শাব্বির বিন হারুন ও মহানগর উত্তর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ

এম আর করিম বলেন, চারদিকে সরকারের পতনের ঘণ্টা বেজে উঠেছে। সরকারের জুলুম-নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য জনগণ যখন সংগঠিত হচ্ছে, ঠিক তখনই বিরোধী মত-পথের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার, বাসা-অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর শুরু করে সরকার তার দেউলিয়াত্বেরই পরিচয় দিচ্ছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার,সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, আ.রব, মোবারক হোসাইন,মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ইয়াসিন আরাফাতসহ ৯জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়াও গত দু’দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত-শিবিরের ২০জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে একের পর এক জাতীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে কথিত রিমান্ডে নিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করছে। মূলত,অবৈধ সরকার দলন-পীড়ন চালিয়ে তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে চায়। কিন্তু, সচেতন জনগণ তাদের সে ষড়যন্ত্র কখনো বাস্তবায়িত হতে দেবে না। বরং সম্মিলিতভাবে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেবে।

তিনি সরকারকে নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে ইতিবাচক ও গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার আহবান জানান। অন্যথায় এই জুলুমের জন্য একদিন সরকারকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।

Check Also

আশাশুনি ইঁদুর মারা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে দু’জনের মৃত্যু

আশাশুনি উপজেলার শোভনালীতে ধান ক্ষেতের ইঁদুরের উপদ্রব দমন করতে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে আটকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

***২০১৩-২০২১*** © ক্রাইমবার্তা ডট কম সকল অধিকার সংরক্ষিত।