হালুয়াঘাটে ফেসবুকে ভাইরাল হতে বাড়ির উঠোনে মোটরসাইকেল কবর দেন দুই যুবক। তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের বাসিন্দা। বলা হয় শ্বশুরবাড়ি থেকে পছন্দের মোটরসাইকেল না দেওয়ায় এটি কবর দেন তারা। তবে ওই যুবক বিয়েই করেননি।
শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে রাগ করে নয়, বরং টিকটক ভিডিও বানিয়ে ভাইরাল হতে মোটরবাইক কবর দিয়েছেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের যুবক আতিকুল ইসলাম (১৮) ও ইলিয়াস আহমেদ।
গত তিন দিন আগে ‘মেজো ভাই’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে তারা মোটরসাইকেল কবর দেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, শ্বশুরবাড়ি থেকে পছন্দের বাইক না দিয়ে যেই বাইকটি দিয়েছে সেটি কবর দিচ্ছেন আকিকুল নামে ওই যুবক। ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর দুই দিনে এক কোটি ২০ লাখ মানুষ দেখেছেন। মন্তব্য করেছেন ৫৫ হাজারের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী। এরপর থেকেই মূলত গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
পরে শুক্রবার আরও একটি ভিডিও আপলোড করে মূল ঘটনা জানান- কনটেন্ট ক্রিয়েটর আকিকুল ও ইলিয়াস।
আকিকুল বাশার বলেন, আমরা বিডি আকিকুল ও মেজো ভাই পেজে নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড করি। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমে বাইক নিয়ে একটি ভিডিও বানাই। কিন্তু সেটি ভাইরাল হয়নি। পরে যৌতুককে কেন্দ্র করে বাইক কবর দেওয়ার ঘটনা সাজানো হয়। আমি আসলে বিয়েই করিনি।
ইলিয়াস বলেন, মূলত মজা করেই ভিডিওটি বানানো হয়েছে। এখন সেটি ভাইরাল হয়ে গেছে।
নিজের ফেসবুক ও টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ভাইরাল না হওয়ায় একই এলাকার ইলিয়াস মিয়ার সহযোগিতা নিই উল্লেখ করে আতিকুল বলেন, ইলিয়াস ভাইয়ের সহযোগিতায় তার ফেসবুক ও টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করার পর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইলিয়াস ভাই ভিডিও পোস্ট করার সময় উল্লেখ করেছেন, শ্বশুরবাড়ি থেকে ডিসকভারি মোটরবাইক দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দিয়েছে মেট্রো প্লাস মোটরবাইক। ফলে শ্বশুরবাড়ির ওপর রাগে ক্ষোভে মোটরবাইক কবর দিয়েছেন মেয়ের জামাই।
মিথ্যা ক্যাপশনে ভিডিও পোস্ট করা ঠিক কিনা- জানতে চাইলে ইলিয়াস মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, আতিকুলকে সহযোগিতা করার জন্যই তার বানানো ভিডিও আমার ফেসবুক পেজ ও টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে আপলোড করেছি। ভিডিওটি মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকে ভিডিও ভাইরাল করতে এমন ক্যাপশন উল্লেখ করে। আমরাও করেছি।