ধ্বংশের পথে তালার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী নাগেশ্বরী গাছটি

কামরুজ্জামান মিঠু, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার তালায় ঐতিহ্যবাহী নাগেশ্বরী ফুল গাছটি অযতœ অবহেলায় মরে যেতে বসেছে। শতবর্ষের অধিক পুররাতন এই গাছটি অনাদর আর অবহেলায় মৃত্যূর পথে, দেখার কেও নাই। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটী ইউনিয়নের নাংলা ফাযিল মাদ্রাসার সামনে দেড়শ বছরের অধিক সময় ধরে দাড়িয়ে আছে এই গাছটি। এই গাছকে কেও নাগলিঙ্গম গাছও বলে থাকে। এর ইংরেজী নাম পধহহড়হননধষষ ঃৎবব এবং বৈজ্ঞানিক নাম ঈড়ঁৎড়ঁঢ়রঃধ মঁরধহবহংরং । এই গাছের ফুল অত্যান্ত সৈান্দর্যমন্ডিত এবং সৌরভ ও অত্যান্ত সুমিষ্ট। গাছের ডাল বা পাতা সংলগ্ন নয় এর ফুল ফোটে গাছের কান্ড বা গায়ে। এর ফুল গুলো কমলা, উজ্বল লাল গোলাপী রঙের, ছয়টি পাঁপড়ীযুক্ত, তিন মিটার দীর্ঘ মঞ্জুরীতে ফুটে থাকে। একটি গাছের কান্ডে কয়েক হাজার ফুল ধরতে পারে। এর পাপড়ি গোলাকৃতি, বাঁকানো, মাংশল এবং ভেতরে ও বাইরে যথাক্রমে গাড় ও হলুদ। এই গাছ ৩৫ মিটার পর্যন্ত উচু হতে পারে। এর পাতার রং গাড় সবুজ, এর ফল দেখতে অনেকটা বেলের মতো। অন্যান্য গাছের মতো সচারচার সব যায়গায় এই গাছ দেখা যায় না। দূর্লভ এই গাছ সারা বাংলাদেশে হাতে গোনা কয়েকটির মতো আছে। এই গাছের সৈান্দর্যের পাশাপাশি ওষধি গুনও কম নয়। উল্লেখিত গাছটির পাশে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী ও বটগাছের একটি বড় ডাল গাছটিকে এমন ভাবে চেপে ধরে আছে যে গাছটি ধীরে ধীরে মরতে শুরু করেছে । অতি সত্বর এই গাছের উপর চেপে থাকা বটগাছের ডাল যদি কেটে ফেলা না হয় তাহলে দূস্প্রাপ্য ও ঐতিহ্যবাহী এই গাছটি হারিয়ে যাবে। গাছটি বাঁচাতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন বৃক্ষপ্রেমী সচেতন এলাকাবাসী।

 

Please follow and like us:

Check Also

ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে সাতক্ষীরায় ১৪৬৮ বাড়িঘর বিধ্বস্ত, ২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

নদীতে ভাটার সময় ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেলেও আতঙ্ক কাটেনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

***২০১৩-২০২৩*** © ক্রাইমবার্তা ডট কম সকল অধিকার সংরক্ষিত।