সুন্দরবনে অপহরণের শিকার ১৫ জেলের মধ্যে ১০ জেলের ২৮ লাখ টাকায় মুক্তি

সুন্দরবন–সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে অপহরণের শিকার সাতক্ষীরার ১৫ জেলের মধ্যে ১০ জনকে মুক্তিপণের ২৮ লাখ টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। অপহরণের ১৭ দিন পর  বৃহস্পতিবার ভোরে শ্যামনগর উপজেলায় সুন্দরবনের মুন্সিগঞ্জ এলাকায় তাঁদের চোখ বেঁধে ছেড়ে দিয়ে যায় বনদস্যুরা। পরে দুপুর ১২টার দিকে ওই জেলেরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসেন। ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে আটজনের বাড়ি আশাশুনি এবং দুজনের বাড়ি শ্যামনগরে।

ফিরে আসা ওই জেলেরা হলেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সুভদ্রাকাটি গ্রামের মো. আজাহারুল ইসলাম, রুইয়ারবিল গ্রামের আলমগীর হোসেন, একই গ্রামের হাফিজুর রহমান, মো. শাহীনুর আলম, দিঘালারাইট গ্রামের মো. রাসেল, শ্রীপুর গ্রামের মো. শাহাজান ঢালী, চাকলা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম, একই গ্রামের মো. আরাফাত এবং শ্যামনগর উপজেলার দৃষ্টিনন্দন গ্রামের মো. নুরে আলম ও বন্যতলা গ্রামের শাহ আলম।

মুক্তি না পাওয়া পাঁচ জেলে হলেন আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের শাহাজাহান গাজী, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের মো. মতিয়ার সরদার, একই উপজেলার কাশিপুর গ্রামের খান রফিক, মোংলা উপজেলার চিলা গ্রামের নাথন বিশ্বাস ও খুলনার পাইকগাছা উপজেলার শশিমনগর গ্রামের রিপন মোড়ল।

এই ১৫ জেলে আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও চাকলা জেলে সমিতির সভাপতি আবদুর রউফের নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। গত ২৬ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে বঙ্গোপসাগরের দুবলার চরের বাহির সমুদ্রের ৮ নম্বর বয়া এলাকা থেকে আবদুর রউফের ১৭টি ফিশিং বোট (মাছ ধরার নৌকা) থেকে ১৫ জেলেকে তুলে নিয়ে যায় দয়াল ও আলিফ বাহিনীর পরিচয়ে।

আবদুর রউফ সাংবাদিকদের জানান, ২৬ জানুয়ারি রাতে জেলেদের অপহরণের সময় বনদস্যুরা যোগাযোগের জন্য একটি মুঠোফোন নম্বর দিয়ে যায়। ওই নম্বর পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর ৩১ জানুয়ারি সকালে খোলা পাওয়া যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে জনপ্রতি মুক্তিপণ তিন লাখ টাকা দাবি করে তারা। তবে টাকা কোন স্থানে ও কখন পৌঁছে দিতে হবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

ফিরে আসা জেলে সুভদ্রাকাটি গ্রামের আজাহারুল ইসলামের বাবা দাউদ সানা বলেন, অপহরণের কয়েক দিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি বনদস্যু দয়াল বাহিনীর প্রধান দয়াল তাঁদেরকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কয়েকটি নম্বর দিয়ে বলেন, এসব নম্বরে মাথাপিছু তিন লাখ টাকা পাঠাতে। তাঁরা বনদস্যু বাহিনীর সঙ্গে তিন থেকে চার দিন দেনদরবারের পর ১০ জনের জন্য মাথাপিছু ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা করে মোট ২৮ লাখ টাকা পাঠানোর পর আজ সকালে তাঁদের চোখ বেঁধে সুন্দরবনের মুন্সিগঞ্জ এলাকায় নামিয়ে দিয়ে যায়।

অপহরণের শিকার জেলে শাহাজাহান গাজীর স্ত্রী নাজমা খাতুন বলেন, স্বামী বাড়ি আসছেন খবর পেয়ে গতকাল বুধবার রাত থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু প্রতাপনগরের আট জেলে ফিরে এলেও তাঁর স্বামী ফিরে আসেননি। মুক্তিপণের টাকা তিনি জোগাড় করতে পারেননি বলে জানান।

প্রতাপনগর ইউপির চেয়ারম্যান আবু দাউদ বলেন, তাঁর ইউনিয়নে অপহরণের শিকার ৯ জেলের মধ্যে আটজন ফিরে এসেছেন। অন্যদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা এ বি এম হাবিবুল ইসলাম বলেন, তিনি শুনেছেন, অপহরণের শিকার ১৫ জেলের মধ্যে ১০ জনকে আজ মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে কী শর্তে কিংবা কত টাকার বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

Check Also

ইন্ডিয়া টুডেকে মাহফুজ আনাম ‘বিএনপি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, ছাত্রদের অনাগ্রহ, অস্পষ্টতায় জামায়াত’

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসার জন্য অপেক্ষা করছে, কারণ আওয়ামী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

***২০১৩-২০২৩*** © ক্রাইমবার্তা ডট কম সকল অধিকার সংরক্ষিত।