জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ছাত্র শিবির স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং জামায়াত ইসলামী তাদের উপর কোনো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না।
তিনি আরও বলেন, “জামাত কখনো ছাত্রশিবিরের উপর খবরদারি করে না বা তাদের কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশ দেয় না। অন্য অনেক রাজনৈতিক দলে দেখা যায়, হঠাৎ করে নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়ে যায়। কিন্তু ছাত্রশিবিরের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা স্বাধীনভাবে তাদের সংগঠন পরিচালনা করে।”
বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এক সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ‘হেলমেট বাহিনী’ বলে আখ্যা দেওয়া হতো। যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদেরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতো। বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আবরার কি ছাত্রশিবির করত? না, সে শুধু নামাজ পড়ত ও অন্যদের নামাজে ডাকত। ভারতের বিরুদ্ধে একটি পোস্ট দেওয়াই তার অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়।”
বিশ্বজিত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাবাজারের ওই টেইলার্স কর্মচারী বারবার বলছিলেন যে তিনি হিন্দু এবং ছাত্রশিবিরের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই, তবুও তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সে সময়ের দেশের পরিস্থিতি এমন ছিল যে কেউ প্রকাশ্যে ছাত্রশিবিরের পরিচয় দিলে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা থাকত।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বট আইডি ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একই মন্তব্য একাধিকবার পোস্ট করা হচ্ছে, যা জামায়াতের পক্ষে যায় বলে অনেকেই দাবি করছেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পক্ষ একে অপরের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।”
বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো অনৈক্যের কারণ নেই। আমরা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি এবং আমাদের বড় বড় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাই। আসন্ন রমজান মাসে আমরা বিএনপির নেতাদের আমাদের ইফতার মাহফিলে দাওয়াত দেব এবং আমাদের ধারাবাহিক উপহারসামগ্রী তাদের কাছে পৌঁছে দেব।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণহত্যাকারীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি, তবে জনগণের ভোটের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। যদি ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস নির্বাচনে দাঁড়ান এবং জনগণ তাকে ভোট দেয়, তাহলে আমরা তা স্বাগত জানাবো। আবার, যদি জনগণ আমাকে ভোট দেয়, তাহলে বিএনপিও তা মেনে নেবে। আমাদের লক্ষ্য ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য গড়ে তোলা।”