রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে যেভাবে সাতক্ষীরার মানুষকে দমন ও নিপীড়ন করা হয়েছে, তা ইতিহাসে বিরল বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। গতকাল বিকালে সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে জুলাই অভ্যুত্থানে সাতক্ষীরার শহীদ পরিবার, আহত ও কারাবরণকারীদের সম্মাননা প্রদান ও দোয়া অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমার দেখা সবচেয়ে আন্তরিক, অতিথিপরায়ণ ও ইতিবাচক মানসিকতার মানুষ যদি থেকে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে তা সাতক্ষীরার মানুষ। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ জেলার মানুষ রাজনৈতিক কারণে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়ে আসছে। রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে যেভাবে সাতক্ষীরার মানুষকে নিপীড়ন ও দমন করা হয়েছে, তা ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সাতক্ষীরার মানুষ সবসময় পাশে থেকেছে। দক্ষিণবঙ্গের মানুষের এই আত্মত্যাগ ও অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমরা এমন এক রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছি, যেখানে জনগণ আর প্রজা থাকবে না, বরং নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার ফিরে পাবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি, জাতিগত সমৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতির জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। যারা ক্ষমতায় বসেছিল, তারাই বারবার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমাদের এখন পরিবর্তনের সময়। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সরব অবস্থান নিতে হবে। নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করতে যাচ্ছি। গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল, ব্যক্তিত্ব ও মানুষ যেন ঐক্যবদ্ধভাবে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সামিল হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাতক্ষীরা জেলা কমিটির আহ্বায়ক আরাফাত হোসাইন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের মুখ্য সংগঠক আল শাহরিয়ার, মুখপাত্র মোহিনী তাবাচ্ছুম, সংগঠক হাসিবুল হাসান রুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ ও মিজানুর রহমান, যুগ্ম সদস্য সচিব নাজমুল হাসান রনি, রিজাউন পারভেজসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ছাত্র প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানের শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
