ক্রাইমবার্তা রিপোট:নিজ দলের নেতাদের থেকে সতর্ক থাকতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনকে পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতারাও জড়িত ছিল। তাই অন্যদের দিকে অভিযোগ না করে আপনার আশেপাশের লোকদের সম্পর্কেই সতর্ক থাকুন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলনে তিনি এ সব কথা বলেন।
‘জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে আমাকে দেশে আসতে বাধা দিয়েছিল’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বুধবারের বক্তব্য ছিল তার স্বভাব সূলভ ও মিথ্যাচারে ভরপুর।’
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৮১ সালে ১৭ মে তাহলে দেশে আপনি কী করে ঢুকলেন? তখন তো জিয়াউর রহমানই রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। বরং আপনি দেশের আসার ১৩ দিনের মাথায় জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। মানুষ এও বিশ্বাস করে যে, আপনার পথের কাঁটা ভেবে আপনার পৃষ্ঠপোষকরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ সন্তান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যে গণতন্ত্রকে বন্দী করেছেন সেটিকে মুক্ত করুন, মানুষের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিন, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন, আপনাদের অন্তরে অম্লান আবারো একদলীয় নির্বাচনের বাসনা পরিত্যাগ করুন, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। হিংসাপরায়ণ রাজনীতি পরিহার করুন, মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য, কদর্য ও কুৎসিত রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখুন। গণতন্ত্রের ধারা সচল থাকলে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘শরীয়তপুর জেলাধীন ভেদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ধানের শীষের প্রার্থী নুর উদ্দিন দর্জি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ধানের শীষ মনোনীত চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন দর্জি যাতে দায়িত্ব পালন করতে না পারে সেজন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, নাজমুল হক নান্নু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।