বুধবার , ১২ আগস্ট ২০২০

কারাগারে সাহেদ

* চিকিৎসা দিয়ে ডিবিতে হস্তান্তর
* দলীয় কমিটিতে প্রতারক রাখবো না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
* ‘আমাকে ৬ মাসের বেশি আটকে রাখা যাবে না’   

ক্রাইমর্বাতা রিপোট: সাতক্ষীরা:: করোনা (কোভিড-১৯) পরীক্ষায় ভয়াবহ জালিয়াতি নিয়ে ব্যাপক আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক ঠাণ্ডা মাথার প্রতারক সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম অবশেষে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে পার্শবর্তী দেশে পালানোর সময়  বুধবার সকালে র‌্যাব তাকে বোরকা পরা অবস্থায় গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলীভর্তি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর কঠোর নিরাপত্তায় তাকে র‌্যাবের হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকায় সাহেদকে নিয়ে আরও একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় লাখ জাল টাকা উদ্ধার করা হয়। বুকে ব্যথা অনুভব করায় বিকেলে সাহেদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চেকাপ করা হয়েছে। রাতে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে সাহেদের গ্রেফতারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। জিজ্ঞাসাবাদে ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নানা কাজ হাসিল করে নেওয়া সাহেদের কাছে ‘অনেক তথ্য’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই এবিষয়ে কিছু জানাতে চাচ্ছে না তদন্ত কর্মকর্তারা।

এদিকে গ্রেফতারের খবরে সাহেদের কাছে পাওনাদার ও নির্যাতিত বহু মানুষ র‌্যাব কার্যালয়ে এসে ভিড় করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, সাহেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় আরো অন্তত তিনটি মামলা দায়ের করার প্রস্তিুতি চলছে।  পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনা হবে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, দলীয় কমিটিতে সাহেদদের মতো প্রতারক রাখা হবে না।
মহামারির মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা আর জালিয়াতির মামলায় ৯ দিন ধরে পলাতক ছিলেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। র‌্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের অধিনায়ক সিনিয়র এএসপি বজলুর রশিদ জানান গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্তবর্তী কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর থেকে একটি গুলীভর্তি পিস্তলসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, বোরকা পরে নৌকায় করে পাশের দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন সাহেদ। আর কিছুক্ষণ দেরি হলে হয়ত তাকে আর পাওয়া যেত না। গ্রেফতারের পর একটি হেলিকপ্টারে করে সাহেদকে নিয়ে সকাল ৯টার দিকে ঢাকার পুরাতন বিমানবন্দরে পৌঁছান র‌্যাব সদস্যরা। পরে তাকে বিপুল নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরায় র‌্যাব সদর দফতরে। সাহেদকে হেলিকপ্টার থেকে নামানোর পর র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার বলেন, দালালের মাধ্যমে লবঙ্গবতী নদীর ইছামতিখাল দিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ২টা থেকে ওই এলাকসয় অভিযান শুরু করেন র‌্যাব সদস্যরা। কিন্তু সে ঘনঘন স্থান পরিবর্তন করায় গ্রেফতার করতে একটু সময় লেগেছে।
যেভাবে গ্রেফতার: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের বাসিন্দা হোটেল ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান, ফজরের নামাজের জন্য গিয়েছিলেন মসজিদে। নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের কানে চিৎকার ভেসে আসতে থাকে। শুরু হয় হইচই। ঘটনা কী দেখার জন্য দৌড়ে যান সবাই। গিয়ে যা দেখলেন সেটি তারা কল্পনাও করেননি আগে। সারাদেশের আলোচিত প্রতারক সাহেদ করিমকে ধরে ফেলেছে র‌্যাব। দেবহাটা উপজেলার শাখরা কোমরপুর বেইলি ব্রিজের পাশে নর্দমার মধ্যে থেকে বোরকা পরা অবস্থায় সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে কোমরপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা যখন নামাজ শেষ করেছি সেই মুহূর্তেই তিনটি র‌্যাবের গাড়ি খুব গতিতে চলে গেল। ২-৩ মিনিট পরই আওয়াজ আসতে লাগলো ‘আল্লাহু আকবার, ধরে ফেলেছি, ধরে ফেলেছি’। আমিসহ মসজিদের মুসল্লি ও এলাকার বাসিন্দারা দৌড়ে ঘটনাস্থলে আসি কী ঘটেছে দেখার জন্য। গিয়ে দেখি বর্তমানের আলোচিত প্রতারক সাহেদ করিমকে ধরে ফেলেছে র‌্যাব। হাতে হাতকড়া পরাচ্ছে তখন।
‘আমাকে ৬ মাসের বেশি আটকে রাখা যাবে না’: গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় সাহেদ অনেকটা নির্ভার ছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকবার দম্ভোক্তি করেন তিনি। র‌্যাব কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে সাহেদ বলেন, ‘আমাকে ছয় মাসের বেশি সময় আটকে রাখা যাবে না।’ নিজের পত্রিকার লাইসেন্স আছে উল্লেখ করে যেসব সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদকর্মীরা তার ছবি তুলছে এবং সংবাদ প্রকাশ করছে তাদেরও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাহেদ একজন ঠান্ডা মাথার প্রতারক। তিনি আগেও জেলে গেছেন। ফলে আইনি বিষয়গুলো তার ভালোভাবেই জানা। সে নানা সময় নানা কথা বলছে। বিভ্রান্তিকর তথ্যও দিচ্ছে।’
কয়েকবার স্থান পরিবর্তন: গ্রেফতার অভিযান শুরুর পর সাহেদ বারবার স্থান পরিবর্তন করছিলেন বলেও জানান র‌্যাব কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ জানান, প্রথমে তিনি মহেশখালির একটি সাইক্লোন সেন্টারে ছিলেন। পরে সেখান থেকে চলে আসেন কুমিল্লায়। এরপর চলতি মাসের ১২ তারিখে তিনি ঢাকার গুলশানে আসেন। কিন্তু এখানে নিরাপদ মনে না করায় সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকায় চলে যান। সেখানে গিয়ে দালালদের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকেন তিনি। এর মধ্যেই গোয়েন্দা জালে আটকা পড়ে আজ ভোরে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন তিনি। র‌্যাবের গণমাধ্যম পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা কিছু দালালের খোঁজ পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
যা বললেন র‌্যাব ডিজি : বিকাল তিনটায় রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাবের হেডকোয়ার্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব ডিজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পালিয়ে থাকার সময় আমরা তাকে (সাহেদকে)  ফলো করেছি। আমরা যখনই জানতে পেরেছি এবং তাকে পিনপয়েন্ট করতে পেরেছি তখনই তাকে আমরা অ্যারেস্ট করেছি।’ ছয় মাস পরেই আবার বেরিয়ে আসবে এ ধরনের কথা সাহেদ বলেছেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমার ঠিক জানা নেই। অনেক কথা বলেছেন, যেটা আমরা তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বলতে চাচ্ছি না। তদন্তের স্বার্থে এই কথাগুলো আমরা না বলাই শ্রেয় মনে করছি।’ ঢাকাতে বেশ কয়েকজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় সাহেদ আশ্রয় নিতে চেয়েছিল এরকম কোনো কর্মকর্তার পরিচয় পেয়েছেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এরকম কোন তথ্য আমাদের কাছে জানা নেই। আপনার কাছে থাকলে জানালে আমরা দেখব।’ র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘কিছুদিন আগে গত ১২ জুলাই আমরা এস এস এ হসপিটালে অভিযান পরিচালনা করেছি। এই হাসপাতালের মালিকের বিরুদ্ধে এবং যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। সাহেদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রেখে এরকম একটা ছবি তোলার মধ্য দিয়ে র‌্যাব কতটুকু দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে- জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমি দেখিনি, এটা পরে দেখে আমরা বলতে পারব।’ কীভাবে এই প্রতারককে ধরা হলো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে র‌্যাবের ডিজি  জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে আপনারা জেনেছেন সাহেদ কী মানের প্রতারণার কাজ করতে পারে। গত কয়েকদিন ধরেই সে এক জায়গা থেকে এক জায়গা পরিবর্তন করছিল। আমরা তাকে ফলো করেছি। এবং সবশেষে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়েছি। ঢাকা কবে ছেড়েছে প্রশ্নে র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, সে ঢাকা ছেড়েছে আবার ঢাকায় ফিরেছে, আবার বেরিয়েছে। এসবের মধ্যেই ছিল। এই পুরো সময়টাতে সে কখনও ব্যক্তিগত গাড়ি, কখনও হেঁটে, কখনও ট্রাকে চলাচল করছিল। অবশেষে নৌকা দিয়ে পার হওয়ার সময় আমরা তাকে ধরতে সক্ষম হয়েছি।
জাল টাকায় ঋণ পরিশোধ : র‌্যাবের ইন্টারোগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাহেদকে নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে নিয়ে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর রোডের ৬২ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখানে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে অভিযান। র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাহেদের দেওয়া তথ্য মতে, ওই গোপন বাসা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এই টাকা দিয়ে সে ঋণ পরিশোধ করতো। ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ঘুরেও যখন টাকা পাচ্ছিল না তখন এসব টাকা পেয়ে অনেকই খুশি হতেন। তিনি বলেন, ওই ফ্ল্যাটটি ছিল সাহেদের ল চেম্বার। আইনি সহায়তার নামে সে এখান থেকেও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা করছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
১০ হাজার পরীক্ষায় ৬ হাজার ভুয়া রিপোর্ট: র‌্যাব জানায়, তার বিরুদ্ধে অনেক মামলার বিষয়ে জানা গেছে। সেসবের তথ্য যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে। করোনা পরীক্ষার রিপোর্টের নামে প্রতারণা করছিল উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিনামূল্যে পরীক্ষা করার কথা থাকলেও ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা করে নেওয়া হতো এবং পুনরায় পরীক্ষার জন্য ১০০০ গ্রহণ করতো। আইসিইউতে ভর্তি করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতো। এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের অধিক পরীক্ষা করে ৬ হাজার ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে সাহেদের প্রতিষ্ঠান। একদিকে রোগীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, আরেক দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিলেরও জন্য জমা দিয়েছে সাহেদের হাসপাতাল রিজেন্ট।
চুলে কলপ, গোফে ছাঁট করেও ধরা: নিজের এলাকা সাতক্ষিরায় সাহেদ চুলে রঙ করে গোফ ছোট করে বোরকা পরে কয়েকদিন ধরে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টায় ছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। তবে গ্রেফতারের সময় তার চেহারায় ভিন্নতা দেখা যায়। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, গ্রেফতার এড়াতে তিনি চুলে কলপ করিয়েছিলেন এবং গোফও ছেঁটেছিলেন। তিনি বলেন, এই সীমান্ত এলাকা থেকে আগেও একাধিকবার ভারতে গেছে। তা পরিচিত দালালদের মাধ্যমে তার পালানোর চেষ্টা ছিল। কয়েকজন দালালকেও আমরা খঁজুছি।
পুলিশের খাতায় পলাতক ছিলেন সাহেদ: সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশের ওসি আসাদুজ্জামান উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, প্রতারক সাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকা আদালতের একটি সিআর মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে সাতক্ষীরা থানায়। ঢাকার যুগ্ম জজ ১ম আদালতের সিআর ১৪৮৮ নম্বর মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী প্রতারক সাহেদ। গত তিন বছর ধরে পরোয়ানা পড়ে থাকলেও সাহেদ সাতক্ষীরায় আসে না। তিনি বলেন, সিআর মামলায় কতদিন বা কত বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী সাহেদ সেটি ওয়ারেন্টে উল্লেখ নেই।
‘বোরকা’ পরে নৌকায় ভারতে পালাতে চেয়েছিল: র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, সাহেদ নিজেকে আড়াল করতে সাহেদ বোরকা পরে ছিলেন। সে অবৈধভাবে পাশ্ববর্তী দেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলীভর্তি একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। সাহেদ উঁচুমানের প্রতারক উল্লেখ করে আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘সাহেদ বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে ছদ্মবেশ ধারণ করে আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা হলেও তিনি বাড়ি না গিয়ে বিভিন্ন বার বার স্থান পরিবর্তন করে আশে-পাশে ঘুরছিলেন।
দলীয় কমিটিতে প্রতারক রাখবেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : রাজনৈতিক দলের কোনো কমিটিতে যেন মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের মতো প্রতারকদের রাখা না হয়, সেই আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, তারা সুপারিশ করবেন কমিটিতে কাউকে নেওয়ার আগে যেন ভালো করে যাচাই-বাছাই ও ব্যক্তির সম্পর্কে খোঁজখবর করা হয়। গতকাল সচিবালয়ে প্রথম আলোকে এ কথা বলেন আসাদুজ্জামান খান। এর আগে তিনি সংবাদ ব্রিফিংয়ে কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাহেদ একজন ক্রিমিনাল। সে অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আর কখনো, কোনো দিন যেন সে এ ধরনের প্রতারণা করতে না পারে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একের পর এক প্রতারণার পরও কেন এত দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু করতে পারল না? এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রতারকেরা ফাঁকফোকর দিতে অপরাধ করে। তবে সরকার ও তাঁর সংশ্লিষ্ট দপ্তর সজাগ আছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চাইলে আইন-কানুন না মেনে পরিচালিত সব হাসপাতালের বিরুদ্ধে তাঁরা অভিযান চালাবেন। এর আগে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের ব্যাপারে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

About ক্রাইমবার্তা ডটকম

Check Also

করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় যুবলীগের সাবেক সভাপতির মৃত্যু

ক্রাইমবার্তা রিপোট : করোনার আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেবহাটা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *