করোনায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর লেখাপড়া ব্যাহত

সৈয়দ সাইফুল ইসলাম : করোনায় স্থবির হয়ে পড়া শিক্ষাকার্যক্রমকে সচল করার নানা চেষ্টা চলছে। করোনার কারণে প্রায় আট মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম অচল রয়েছে। সরকারি সব দফতর খুলে দেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি উঠছে। বিশেষ করে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের উদ্যোক্তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে বেশি সোচ্চার দেখা যাচ্ছে। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না থাকলে তাদের আয় বন্ধ থাকে। অপরদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি বড় অংশ চাচ্ছে এখনই যেনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না হয়। তারা বলছেন, এখনো করোনা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে মানুষ। সম্প্রতি করোনা শনাক্তের হারও বাড়ছে। এই মূহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলে ঝুঁকিতে পড়বে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারবর্গ। চলতি বছরের ১৬ মার্চ পর্যন্ত মাধ্যমিকের ক্লাস হওয়ার পর কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ১৮ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে ২০২০ শিক্ষাবর্ষের নির্ধারিত পাঠ্যসূচি পড়ানো সম্ভব হয়নি। তাই চলতি বছরের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি সংক্ষিপ্ত করে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এদিকে মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে তা ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। করোনার বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অত্যন্ত ঝুঁকিতে পড়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এর আগে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এরপর গত ৭ অক্টোবর ঘোষণা দেওয়া হয়, এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাও হচ্ছে না। এরপর মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষাও না নেয়ার ঘোষণা আসে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত যেকোনো সময় : গত ৯ নভেম্বর সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, করোনার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে কি না, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগামী দু’একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর বন্ধ থাকবে কিনা, এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানাবে আপনাদের।
জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মেডিকেলের পরীক্ষা
আগামী ২০২১ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের নিয়মিত/অনিয়মিত ব্যাচের প্রফেশনাল পরীক্ষাসমূহ অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের গাইডলাইন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৯ নভেম্বর সোমবার স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, সেশনজট থেকে মুক্ত রাখতে পরীক্ষা নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই। চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থা ভিন্নধর্মী হওয়ায় বিদ্যমান বিধিতে পরীক্ষা ব্যতীত অন্য কোনোভাবে একজন শিক্ষার্থীকে পরবর্তী ধাপে উত্তীর্ণও হওয়ার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সকলকে কোনো প্রকারের আন্দোলনে অংশ না নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
ষষ্ঠ-নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট ফি নয়
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়নে অ্যাসাইনমেন্ট নেয়ার জন্য কোনো ফি আদায় করা যাবে না বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কীভাবে টিউশন ফি আদায় করবে, সে বিষয়ে শিগগিরই নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়ন করতে যে অ্যাসাইনমেন্ট নেয়া হচ্ছে, সেজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেয়া যাবে না। আর টিউশন ফি আদায় করা নিয়ে শিগগিরই একটি নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান মহাপরিচালক। অধিদপ্তরের নির্দেশনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার বরিশাল অঞ্চলের একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাসাইনমেন্ট চলাকালীন পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোনো অর্থ বা ফি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে না নেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
করোনার কারণে এবার বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়েই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ওপরের শ্রেণিতে তোলা হবে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণের জন্য ৩০ কর্মদিবসে শেষ করা যায় এমন একটি সিলেবাস প্রণয়ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সিলেবাসের আলোকে শিক্ষার্থীদের প্রতি সপ্তাহে তিনটি করে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হচ্ছে, যার উত্তর শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করে লিখতে হবে।
স্মার্টফোন ক্রয়ে ঋণ পাচ্ছে ৪১ হাজার শিক্ষার্থী
করোনা মহামারির কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ক্রয়ে সুদবিহীন ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। দেশের ৩৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১,৫০১ জন অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে সফটলোনের আওতায় স্মার্টফোন ক্রয়ের জন্য জনপ্রতি সর্বোচ্চ আট হাজার টাকা প্রদান করা হবে। এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক বরাদ্দের বিপরীতে অগ্রিম হিসেবে সংশ্লিষ্ট খাতে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হবে। ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ৪ নভেম্বর অনলাইন প্লাটফর্মে আয়োজিত এক সভায় শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ক্রয়ে সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ইউজিসি।
স্থগিত হওয়া অনার্স পরীক্ষার সূচি প্রকাশ
করোনা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত থাকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৮ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষের মৌখিক (বিশেষ) ও ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ৯ নভেম্বর সোমবার বিকেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থগিত মৌখিক পরীক্ষা বিষয়ভিত্তিকভাবে জুম অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (িি.িহঁনফ.রহভড়) পাওয়া যাবে। পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ কলেজের মাধ্যমে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বলা হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে।
সফটওয়্যারে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সক্ষমতা হয়নি
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ যে সফটওয়্যার দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছিল, তা দিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা না নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। তারা বলছেন, সফটওয়্যার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মতো বড় পরীক্ষা নেয়ার মতো এখনো দেশে সক্ষমতা হয়নি। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অনুষ্ঠিত এক সভায় গাজীপুরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির ভিসি মুনাজ আহমেদ নূরের নেতৃত্বে তৈরি করা ওই সফটওয়্যারটি বিশেষজ্ঞরা পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের মত দেন। প্রস্তাবিত ওই সফটওয়্যারটি যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবুসহ মোট পাঁচজন বিশেষজ্ঞ নিয়ে কমিটি গঠন করেছিল ইউজিসি।
৭ শর্তে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার অনুমতি
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৭ শর্তে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স-মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক ড. মো. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনাসমূহ সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও রেজিস্ট্রারকে সম্প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে।
নির্দেশনাসমূহে রয়েছেÑ শুধুমাত্র অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের সর্বশেষ সেমিস্টারের ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; এক দিনে ১টি প্রোগ্রামের ১টির বেশি ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না; স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্বাস্থ্যবিধি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা (যেমন বাধ্যতামূলক ফেস মাস্ক পরিধান, শারীরিক দূরত্ব, ক্যাম্পাস ও ক্লাসে স্যানিটাইজার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি) কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষার কারণে কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। এ ব্যাপারে কমিশন কোনো দায়ভার গ্রহণ করবে না। এই নির্দেশনা শুধু অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের সর্বশেষ সেমিস্টারের ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে।
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন যেভাবে
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অ্যাসাইনমেন্টে অংশগ্রহণ করতে হবে। অ্যাসাইনমেন্টের আওতায় ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন, সৃজনশীল প্রশ্ন, প্রতিবেদন প্রণয়ন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সপ্তাহে তিনটি করে শিক্ষার্থীদের সাদা কাগজে নিজের হাতে লেখা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সরকার প্রথাগতভাবে বার্ষিক পরীক্ষা না নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে তাদের অর্জিত শিখনফল মূল্যায়ন করা হবে। পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে কোনো সপ্তাহে শিক্ষার্থীর কী মূল্যায়ন করা হবে, সেটা বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত কাজ প্রণয়ন করা হয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে ওই সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত অ্যাসাইনমেন্টগুলো দিয়ে দেয়া হবে। সপ্তাহ শেষে শিক্ষার্থীরা তাদের অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দিয়ে নতুন কাজ বুঝে নেবে। অ্যাসাইনমেন্ট অভিভাবক বা অন্য কারও মাধ্যমে বা অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত বিষয়গুলোর প্রস্তাবিত অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেয়া, মূল্যায়ন করা, পরীক্ষকের মন্তব্যসহ শিক্ষার্থীদের তা দেখানো এবং প্রতিষ্ঠানে সেটি সংরক্ষণ করার কাজ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্যায়নের সব রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। অ্যাসাইনমেন্টের আওতায় ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন, সৃজনশীল প্রশ্ন, প্রতিবেদন প্রণয়ন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের এটি সাদা কাগজে নিজের হাতে লিখে জমা দিতে হবে। অভিভাবক বা তার প্রতিনিধি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রতি সপ্তাহে এক দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করবে এবং তা জমা দেবে।

Check Also

১৬ জানুয়ারি ৬১ পৌরসভার নির্বাচন: দ্বিতীয় ধাপে ও সাতক্ষীরার নাম নেই

ক্রাইমবাতা রিপোট: স্থানীয় সরকারপর্যায়ে নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় দেশের ৬১টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *