আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরাঃ
ঋতুরাজ বসন্তের আগেই সাতক্ষীরা জেলার সর্বত্র আম চাষিদের উদীপ্ত করে তুলেছে। ফলের রাজা আমের মুকুল ফুটেছে গাছে গাছে, প্রতিটি ডালে শোভা পাচ্ছে সোনালী মুকুল। আমগাছের শাখাগুলো ভরে গেছে উজ্জ্বল সোনালী মুকুলে, যেন আকাশের বুকে ডানা মেলে দিয়েছে গাছগুলো। চারদিকে মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে সাতক্ষীরার আমবাগান। আম চাষি ও বাগান মালিকরা বলছেন, মাঘের শুরুতেই গাছে মুকুল দেখে বাগানের গাছগুলোর যত্ন নিতে পরিশ্রম শুরু করে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই আবহাওয়াগত ও জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। এতে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আম চাষে সংশ্লিষ্ট সকলে। স্বাদ ও গন্ধের কারণে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এ জেলার আম। এজন্য বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে অনেক আমবাগান। বিগত ১২ বছর আগে থেকে এ জেলার আম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি শুরু হয়েছে। ফলে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ ও বেড়েছে। মাঘের শুরুতে আমের আগাম এই মুকুল আমচাষিদের মনে জাগিয়েছে আশার আলো।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাতক্ষীরার সদর, তালা, কলারোয়া দেবহাটা উপজেলায় সর্বাধিক আমের বাগান রয়েছে। আবহাওয়ার কারণে এবার প্রতিটি আম গাছে আগাম মুকুল এসেছে। সাতক্ষীরার প্রসিদ্ধ সুমিষ্ট হিমসাগর, লেংড়া, গোপালভোগ, গোলাপখাস ও আম্রপালি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছে।
সাতক্ষীরা সদরের ইটাগাছা গ্রামের কৃষক অজিত আলী বলেন, এবার কুয়াশা না হওয়ায় মুকুল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে কাঙ্খিত আমের ফলনের লক্ষ্যে শুরু থেকেই গাছ ও মুকুলের পরিচর্যা করছেন তিনি। তার বাগানে ল্যাংড়া, হিমসাগর ও আম্রপালি জাতের আম গাছ রয়েছে।
সাতক্ষীরা সদরের দহাকুলা গ্রামের আম বাগান মালিক কাওছার আলী জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আম গাছে আগাম মুকুল এসেছে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করছি। কর্মকর্তারা বাগানে এসে আমের ভালো ফলন পাওয়ার বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করছেন
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর তথ্য মতে জেলায় ৪ হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে এবার ৪৯,৪১৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। ৫ হাজার ২৯৯টি বাগানে ১৩ হাজার একশ আম চাষি রাতদিন বাগান পরিচর্যা আম সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন। সাতক্ষীরা সদর ১২৩৫ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৭১৫ হেক্টর, কলারোয়া উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৮২৫ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৩৮০ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১৪৫ হেক্টর, শ্যামনগর উপজেলায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে আমের বাগানে আম উৎপাদিত এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলার কৃষি বিভাগ।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিষমুক্ত আম রফতানির বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, উৎপাদন ধরে রাখতে আম চাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার সাতক্ষীরায় ৪ হাজার ১১৮ হেক্টর জমির আম বাগানে আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৯ হাজার ৪১৬ মেট্রিক টন।
আবু সাইদ বিশ্বাস
সাতক্ষীরা
১৭/১/২৬
০১৭১২-৩৩৩২৯৯
ক্রাইম বার্তা