আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: জুম্মার নামাজ পড়ে বের হয়ে দুবন্ধু মিলে রাস্তার উপর কথা বলতে থাকি। হঠাৎ পায়ের তলার মাটি কেঁপে উঠে। এর পর পরই বিকট শব্দে মাটি কেপে উঠে। এব বন্ধ মাটিতে হেলে পড়ে। আশ পাশের বাড়ি ঘর থেকে মানুষ রাস্তায় বের হয়ে আসতে থাকে। ভূমিকম্পের অনুভূতি জানাতে গিয়ে কথাগুলো বলছিলেন সাতক্ষীরার ৫নং ওয়ার্ডের মেঝমিয়া এলাকার কৃষিবিদ জাহিদুল ইসলাম। একই রকম কথা বলছিলেন, কাটিয়া এলাকার গৃহবধূ রোকসানা আক্তার। তিনি জানান,‘ঘরের মধ্যে টুকটাক কাজ করছিলাম। হঠাৎ তার মনে হচ্ছিল একবার ডানদিকে, একবার তারপর বামদিকে ঢলে পড়ছি। আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসি। আশপাশের কিশোর-কিশোরীসহ সর্বস্তরের মানুষ চিৎকার করতে থাকে। রোকসানা আক্তারের মতো ওই এলাকার অনেকেই ভূমিকম্পের সময় বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে ছুটাছুটি করতে থাকেন তারা। একই এলাকার বাসিন্দা জাহারুল ইসলাম টুটুল বলেন, ‘মসজিদে জুমার নামাজ পড়ছিলাম। দোতলা মসজিদটি দোল খাওয়া শুরু করলে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসি।’
শুক্রবার দুপুরে ভূকম্পনটি অনুভূত হয়েছে, যার উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়। রিকটার স্কেলে এর মাত্রা ৫ দশমিক ৪ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। কয়েক সেকেন্ডের এ ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জেলাবাসী।
সাতক্ষীরার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ৫ দশমিক ৪। আর এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়, যেটি খুলনার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ও সাতক্ষীরার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
সাতক্ষীরার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানেও ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। দেশে এর আগে, গত বুধবার রাতেও ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল মায়ানমারে। এটিও ছিল মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প।
আবু সাইদ বিশ্বাস
সাতক্ষীরা
২৭/২/২৬
০১৭১২৩৩৩২৯৯
ক্রাইম বার্তা