প্রণোদনায়ও সাতক্ষীরায় ভুট্টা চাষে সাড়া নেই

আবু সাইদ বিশ্বাস: উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য দামও না পাওয়ায় সাতক্ষীরায় ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন না কৃষকরা। যদিও খাদ্যশস্যটির আবাদ বাড়াতে চলতি মৌসুমে প্রায় ৯০ লাখ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে কৃষকদের। ২০২৪ সালে যেখানে আবাদ হয়ে ছিল ২৭২ হেক্টর জমিতে সেখানে চলতি ২০২৬ সালে আবাদ হয়েছে ২৫৮ হেক্টর জমিতে। কৃষক বলছেন, ভুট্টা মাড়াইয়ের জন্য আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি নেই। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বাজার ব্যবস্থাপনা তৈরি না হওয়ায় এ ফসল চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। উৎপাদিত ভুট্টা বিক্রিতেও সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা। কখনো কখনো হয়রানির শিকারও হতে হয়। সব মিলিয়ে কৃষক অন্যান্য ফসলের প্রতি আগ্রহ দেখালেও ভুট্টা চাষে তেমন সাড়া দেন না।
তবে ভুট্টা চাষ হ্রাস পাওয়ার এ ধারাকে সামান্য হিসেবেই দেখছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, মাছ ও গো-খাদ্য হিসেবে কেবল ভুট্টা বিক্রি হয় সাতক্ষীরায়। জেলায় বছরে প্রায় পাঁচ-সাড়ে পাঁচ হাজার টন ভুট্টার চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে চলতি বছর উৎপাদন হতে পারে ২ হাজার ২৫০ টন। বাকিটা আমদানি করতে হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায় চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলাতে ভুট্টার লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ২৫৮ হেক্টর জমিতে। সদরে আবাদ হয়েছে ৪০ হেক্টর, কলারোয়াতে ৩৩ হেক্টর, তালাতে ১৫৮ হেক্টর, দেবহাটাতে ১ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৯ হেক্টর, আশাশুনিতে ৭ হেক্টর ও শ্যামনগরে ১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে।
সাতক্ষীরার সুলতানপুরের ভুট্টা মাড়াই মিল মেসার্স ক্যাফে ফ্লাওয়ারের স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে যে ভুট্টা উৎপাদন হয়, এর গুণগত মান খুব ভালো হয় না। খেত থেকে সংগ্রহের পর মেশিনের সাহায্যে মোচা থেকে ভুট্টা ছাড়াতে হয়। সাতক্ষীরায় ভুট্টা মাড়াইয়ের জন্য আধুনিক যন্ত্র না থাকায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা কোনো রকম হাত দিয়ে ভুট্টা ছাড়ায়, যার একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে মান যেমন ভালো হয় না, তেমন শুকানো হয় কম। ফলে অন্যান্য এলাকার তুলনায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভুট্টার দাম কেজিতে ৫-৬ টাকা কম থাকে। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষক ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কম।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলার সাত উপজেলায় ২৫৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছে। ভুট্টা চাষ বাড়াতে ৬৪০ জন চাষীকে প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। প্রণোদনা দিয়েও উল্লেখযোগ্য আবাদ বাড়ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্রমান্বয়ে বাড়বে। এছাড়া ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশি। এতে প্রায় ১১ভাগ আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে প্রয়াজনীয় অ্যামিনো এসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমাণে আছে। এছাড়া হলদে রংয়ের ভুট্টা দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ থাকে।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *