অনিয়ম- দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির মধ্যদিয়ে সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে ৬ পদে প্রার্থী চূড়ান্ত

স্টাফ রিপোটার: অনিয়ম- দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনুদান নিয়ে ডাঃ এম আর খান শিশু হাসপাতালে ৬টি পদে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নিয়োগ বোর্ড। গতাকাল ১৬ মাচর্ প্রকাশিত তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায় বিগত প্রথম ও তৃতীয় নিয়োগে চূড়ান্ত তালিকায় ৬ জনের মধ্যে ৬ জনই একই ব্যক্তি। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় নিয়োগে ৬ জনের মধ্যে ৫জনই একই ব্যক্তি। ফলে নিয়োগটি ছিল একটি সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করা বলে অভিযোগ উঠেছে। বিতর্ক সৃষ্টি হয় প্রশাসনিক পদ নিয়ে। এই পদে চুক্তি ভিত্তিক প্রার্থী (দ্বিতীয় বার) নিয়োগ দিতে না পারায় ঐ নিয়োগ ও বাতিল করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অর্থাৎ তাকে বাদ দিয়ে তৃতীয় নিয়োগ বোর্ডের আয়োজন করা হয়।
গত ১৪ মার্চ তৃতীয় নিয়োগ বোর্ডে ডাঃ এম আর খান শিশু হাসপাতালের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষায় আবেদনকারীদের নিম্নবর্ণিত পদে চূড়ান্ত করা হয়। তারা হলেন, মিজ তনু দত্ত, স্টাফ নার্স প্রথম (প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত) স্টাফ নার্স দ্বিতীয় (অপেক্ষমান), রাফিদ খান, মিজ স্মৃতি সরকার, প্যাথলজি টেকনোলজিষ্ট প্রথম (প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত), আসিফ ইকবাল, ডাক্তার সহকারী (পুরুষ) প্রথম (প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত), সৈকত মজুমদার, ডাক্তার সহকারী (পুরুষ) দ্বিতীয় (অপেক্ষমান), মিজ শামীমা আক্তার শান্তা, ডাক্তার সহকারী (মহিলা), প্রথম (প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত), মিজ তাছনীম খান, ডাক্তার সহকারী (মহিলা), দ্বিতীয় (অপেক্ষমান), মিজ শান্তা সরদার, ডাক্তার সহকারী (মহিলা), তৃতীয় (অপেক্ষমান), মিজ মোছাঃ মিনারা আক্তার, ডাক্তার সহকারী (মহিলা), চতুর্থ (অপেক্ষমান), সজীব বাবু নাইটগার্ড, প্রথম (প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত)। এর আগে গত ০৮/০৩/২৬ ইং তারিখে দ্বিতীয় নিয়োগে বোর্ডে ডাঃ এম আর খান শিশু হাসপাতালের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য মৌখিক পরীক্ষায় আবেদনকারীদের নিম্নবর্ণিত পদে চূড়ান্ত করা হয়। তারা হলেন, মেডিকেল অফিসার (গাইনী), ডাঃ তনিমা রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, অমুসলিম নার্স স্মৃতি সরকার ও তনু দত্ত, প্যাথলজি টেকনোলজিষ্ট রাফিদ খান ও ডাক্তার সহকারী, শামীমা আক্তার শান্তা ও সৈকত মজুমদার এবং নাইট গার্ড পদে সজীব বাবুকে নিয়োগে চূড়ান্ত করা হয়। এছাড়া প্রথম নিয়োগে যাদেরকে চূড়ান্ত করা হয় তারাও একই ব্যক্তি। অভিযোগ উঠে জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ এম আর খান শিশু হাসপাতাল সাতক্ষীরায় স্বজনপ্রীতি ও অনুদানের নামে ৬ পদে পরীক্ষার পূর্বেই প্রার্থী নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি তাদের বেতন দেয়া সংক্রান্ত রেজুলেশনে শিশু হাসপাতালের সভাপতি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক স্বাক্ষর না করে বিধি মোতাবেক নিয়োগ দানের আদেশ দিলে শুরু হয় বিপত্তি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডাঃ এম আর খান শিশু হাসপাতাল, সাতক্ষীরায় সম্প্রতি ৬টি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে অনেকেই এই ৬ পদে আবেদন করে। কিন্তু কোন নিয়োগ পরীক্ষা না নিয়ে কৌশলে শিশু হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদকের শ্যালিকার ছেলেসহ নির্দিষ্ট ৬ জনকে নিয়োগ দান করা হয়। তারা হলেন কনসালটেন্ট তনিমা রহমান তমা, সিস্টার পদে স্মৃতি, প্যাথলজিতে রাফিন, এসিসট্যান্ট পদে শওকত মজুমদার ও শান্তা, নাইট গার্ড পদে সজীব। তাদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের জন্য অনুদানের নামে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা আদায় করা হয় যা প্রতিষ্ঠানের কোন নথিতে লিপিবদ্ধ নেই বলে অভিযোগ চাউর হয়। গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তারা সবাই জয়েন করে। ইতোমধ্যেই জানুয়ারি মাসের বেতন ভাতা তাদের প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ফেব্রয়ারি মাসের বেতন শীট দেয়ার জন্য তাদের রেজুলেশনে স্বাক্ষর করার জন্য প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি জেলা প্রাশাসক সাতক্ষীরা’র নিকট গেলে তিনি বেতন দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পুনরায় ফেয়ার নিয়োগ নেওয়ার আদেশ দেন।
সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পালের নেতৃত্বে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার, শিশু হাসপাতাল প্রতিনিধি ডাঃ অসিত কুমার স্বর্ণকার, ডাঃ আরমান বাসার, শিশু হাসপাতালের সচিব এম. জামান খান। ঐ নিয়োগ বোর্ডে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমান প্রথম হয়। ফলে বিপর্যয় বাঁধে সেখানে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি শরীফ আসিফ রহমান জানান জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় গতকাল পুনরায় লিখিত ও মৌখিল পরীক্ষার মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে এই নিয়োগ সম্পন্ন করার হয়েছে। মেধার ভিত্তিতে প্রাথীদের চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

 

 

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *