সাতক্ষীরার সাধু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মহাদেব চন্দ্র সাধুরর প্রতারণায় দুই ব্যবসায়ী খুয়ালেন ১৯ কোটি টাকা

ক্রাইমবাতা রিপোট ঃ.সাতক্ষীরামেসার্স সাধু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর প্রতারণার শিকার হয়ে দুই ব্যবসায়ী খুইয়েছেন ১৯ কোটি টাকা। ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতনের ১৫ কোটি টাকা এবং মানিকগঞ্জের ব্যবসায়ী লিটন কুমার আইজের ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
জানা গেছে, ডিও ব্যবসার আড়ালে এই টাকা হাতিয়ে নেয় মাহাদেব সাহা। টাকা পরিশোধ না করে উল্টো মামলা করে হয়রানির করা হচ্ছে ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতন ও লিটন কুমার আইজকে। মামলার হয়রানি থেকে বাঁচাতে ও জীবনের নিরাপত্তা এবং প্রতারক মাহাদেব সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে
সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাহাবার এগ্রোর স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন রতন ও রাধিকা ডাল মিল অ্যান্ড ওয়েল কোম্পানির মালিক লিটন কুমার আইজ।
সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল হোসেন রতন দাবি করেন, প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, পাবনা, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যবসায়িক লেনদেনের নামে প্রতারণা, চেক ডিজঅনার, নারী ধর্ষণ, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১৬টির বেশি মামলা রয়েছে। তারপর ভিন্ন কৌশলে ব্যবসার নামে প্রতারণা করে উল্টো ব্যবসায়ীদের নামে মামলা দিয়ে র্দীঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে। মহাদেব চন্দ্র সাধু ও তার ভাগিনাসহ ১৫ -১৬ জনের একটি চক্র এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত।
লিখিত অভিযোগে ইসমাইল হোসেন রতন জানান, ২০২৫ সালে চট্টগামের জনৈক ব্যবসায়ী ওয়াহেদ মাহমুদের মাধ্যমে টেলিফোনে পরিচয় হয় প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর সঙ্গে। মাহদেব চন্দ্র সাধু নিজেকে খুলনার ডুমুরিয়ার প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী জয়দেব সাহার নাম ব্যবহার করে মিথ্যা পরিচয় দেন।
পরে জয়দেব সাহা নামে আমার কাছ থেকে ভুট্টা নেয়ার মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেন। ভুট্টার পাশাপাশি মুসর ডাল, সরিষাসহ বিভিন্ন পণ্যের ডিও ক্রয়-বিক্রয় শুরু করেন। পরে বিভিন্ন কৌশলে এক থেকে দেড় বছরে প্রায় ১৫ কেটি টাকার পণ্য নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি চুয়াডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন কথিত জয়দেব সাহা। পরে ওই থানায় গিয়ে প্রথমে জানতে পারি সে জয়দেব সাহা নয়, তার আসল নাম মহাদেব চন্দ্র সাহা। শুধু আমার সঙ্গে নয়, দেশের আরও অনেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাহা।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট প্রতারক মহাদেব সাহা ও তার সহযোগীদের আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করি। মামলার পর মহাদেব সাহা ও তার সহযোগীরা আদালতে অপরাধ স্বীকার করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করবে মর্মে আদালত থেকে জামিন নেন; কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মধ্যে টাকা পরিশোধ না করে উল্টো নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মহাদেব সাহা ও তার ভাগিনা শুভ সাহা অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাতক্ষীরা থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ আমাকে (ইসমাইল হোসেন রতন) গ্রেফতার করে। ১০ দিনের জেল খেটে ১৭ মার্চ জামিন পান। ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা সদর থানায় আমার বিরুদ্ধে আরও একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
ইসমাইল অভিযোগ করেন, প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধু বর্তমানে টাকা যাতে আমাকে পরিশোধ করতে না হয় এজন্য আমাকে এবং আমার পরিবারকে চিরতরে মেরে ফেলার জন্য চক্রান্ত করছে। এ অবস্থায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান প্রশাসনের কাছে। এ সময় তার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাহাবার এগ্রোর কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, রাধিকা ডাল অ্যান্ড ওয়েল মিলের মালিক লিটন কুমার আইজ, আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নাহিদ, বালু লাল চক্রবতীসহ অনেকে।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *