সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে র্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় শহরের ঐতিহাসিক শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মশারফের সভাপতিত্বে ও শহর সেক্রেটারী খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য, পৌর জামায়াতের আমীর জাহিদুল ইসলাম। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রাথী শহিদ হাসান। সমাবেশে অন্যান্যোর মধ্যে মাওলঅনা আব্দুস সবুর, এড. আবু তালেব, আব্দুর রহিম, মাওলানা আমিনুর রহমান, জিয়াউর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া কর্মসূচিতে জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, ওলামায়ে কেরাম এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বক্তারা শহীদ আবু সাঈদের আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা তিনি ধারণ করেছিলেন, তা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাঁর আত্মত্যাগ থেকে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বানও জানান বক্তারা। সমাবেশ শেষে একই স্থান থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে পুলিশের সামনে দাঁড়ান। পরে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা ও সেই সময়ের ভিডিওচিত্র দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করে।
আবু সাইদ বিশ্বাস
সাতক্ষীরা
১৬/৭/২৬
ক্রাইম বার্তা