নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা।।
সাতক্ষীরার নদ-নদী ও নৌ-খালগুলোর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং নাব্যতা রক্ষায় অবৈধ নেট -পাটা ও বাঁধ অপসারণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। জলবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল উন্মুক্ত করে প্রবাহ সৃষ্টির লক্ষ্যে শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়কের পাশে মাছের ঘের ও খালের অবৈধ নেট পাটা এবং বাঁধ অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ মইনুল ইসলাম, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত, সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজা, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি, জেলা মৎস্য পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বাবলা প্রমূখ।
জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, সাতক্ষীরার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং চলতি বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নদী-খাল উন্মুক্ত করে প্রবাহ সৃষ্টি করতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে নদী-খাল-বিলে দেওয়া অবৈধ নেট -পাটা ও বাঁধ অপসারণের কাজ শুরু করা হলো।
জেলা প্রশাসক অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সারাদেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। এটি শুধু এক বা দুই দিনের কোনো সাময়িক বিষয় নয়, একে আমাদের নিয়মিত জীবনচর্চার অংশ বানিয়ে নিতে হবে। কতিপয় ঘের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে যে, তারা চিংড়ি চাষের জন্য খালের স্বাভাবিক গতিপথ আটকে লাখো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, রোববার (১৯ জুলাই) এর মধ্যে যদি স্বেচ্ছায় অবৈধ দখলদার বা ঘের মালিকরা স্ব স্ব উদ্যোগে তাদের ঘেরের নেট-পাটা ও বাঁধ অপসারণ করে না নেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে জেল-জরিমানাও করা হতে পারে।
তিনি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করার জন্য সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কে নির্দেশনা দেন। সরকারের এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণকে এব্যাপারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি এই মহতী উদ্যোগে প্রশাসনের পাশাপাশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। বিশেষ করে বিডি ক্লিন সাতক্ষীরা, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) সাতক্ষীরা এবং সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবীরা খালের ময়লা-আবর্জনা ও নেট-পাটা অপসারণে সরাসরি অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কঠোর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত ও পুনরায় যাচাইয়ের ভিত্তিতে জেলার নদী-খালের অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন ও উচ্ছেদ পরিকল্পনা পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জেলার প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদী-কপোতাক্ষ, ইছামতি নদী, বেতনা নদী এবং বিভিন্ন সংযোগ নৌ-খাল দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভূমিগ্রাসীদের অবৈধ দখলে রয়েছে। নদী অববাহিকার সরকারি জমি গ্রাস করে দখলদাররা গড়ে তুলেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী টিনের ঘর, বিশাল সীমানা প্রাচীর, বাণিজ্যিক মাছের ঘের, পুকুর, আমবাগান ও ফসলি জমি। এমনকি কিছু কিছু মৌজায় নদীর বুক চিরে গড়ে তোলা হয়েছে পরিবেশ বিধ্বংসী বাণিজ্যিক ইটভাটা এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানার শেড বা ছাউনি।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা শহর ও এর আশপাশ একালার জলাবদ্ধতা নিরসণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে এই উচ্ছেদ অভিযান যেন নিয়মিত ব্যপ্তির মাধ্যমে স্থায়ী রূপ পায়, সেই দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ।
ক্রাইম বার্তা