সিটি নির্বাচনে তরুণ প্রার্থী দিয়ে চমক দেখাতে চায় জামায়াতে ইসলামী

স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন কৌশলে মাঠ গোছাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির লক্ষ্য, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে তরুণ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি সম্পন্ন এবং সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতাদের প্রার্থী করে ভোটারদের সামনে নতুন বার্তা তুলে ধরা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্বের ইতিবাচক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে ভূমিকা রাখা তরুণ নেতা এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে মনোনয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের মতে, দেশের বড় একটি ভোটার শ্রেণি এখন তরুণ। তাদের প্রত্যাশা, নগর জীবনের বাস্তব সমস্যা এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনী কৌশল সাজানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ প্রশাসন গড়ার প্রতিশ্রুতিকেও প্রচারণার অন্যতম প্রধান বিষয় করা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে সক্রিয়, পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং জনসম্পৃক্ত নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা, আধুনিক নির্বাচনী কৌশল এবং নগর সমস্যাকেন্দ্রিক ইশতেহার তৈরির কাজও চলছে।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জে মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, গাজীপুরে ড. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান, সিলেটে ড. আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপু, চট্টগ্রামে মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, বরিশালে মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, রংপুরে এ টি এম আজম খান এবং খুলনায় মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ সিটির জন্যও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রাজশাহী, কুমিল্লা, বগুড়া ও কয়েকটি সিটির বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় সামাজিক, জনকল্যাণমূলক ও গণসংযোগ কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন তারা।

জানা গেছে, শুধু সিটি করপোরেশন নয়, দেশের ৩৩১টি পৌরসভা, অধিকাংশ উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদেও সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দল প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ৯টি সিটি করপোরেশনে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি সিটিগুলোর প্রস্তাবনা হাতে এলে পর্যায়ক্রমে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অধিকাংশ প্রার্থীই তরুণ এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে দলটির প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হলে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নেবে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনা হবে।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *