সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, “মামলা বাণিজ্য কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। একটি মামলায় ইচ্ছামতো নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করে পরে বাদী এসে এফিডেভিটের মাধ্যমে বলবে তার কোনো অভিযোগ নেই-এ ধরনের প্রবণতা সমাজ ও বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।”
রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১২টায় নিজ আদালতে একটি মামলার শুনানিকালে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি মামলাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা না করে। এ ধরনের কর্মকান্ড বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে এবং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যদিও এ ধরনের ব্যক্তির সংখ্যা খুব বেশি নয়, তারপরও সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আরও বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আদালতের মূল লক্ষ্য। তাই নিরপরাধ ব্যক্তিদের অযথা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার সুযোগ কোনোভাবেই দেওয়া যাবে না।
এ সময় আদালতে উপস্থিত কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, গত বছরের জুলাই-পরবর্তী সময়ে মামলা বাণিজ্যের প্রবণতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা আগের তুলনায় কমে এলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তারা বলেন, আইনজীবী সমাজও এ ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হোক-এটাই প্রত্যাশা করে।
আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের মতে, বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত ও আইনজীবী-উভয় পক্ষেরই পেশাগত সততা, নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের এ পর্যবেক্ষণ বিচারাঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্রাইম বার্তা