সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা জবাব জামায়াতের

সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা জবাব জামায়াতের

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:   সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিগত জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তাঁর এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

শনিবার কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের সিংহলাল বাজারে এলজিইডির একটি সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাবিবুল ইসলাম হাবিব নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট কেটে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহা. ইজ্জত উল্লাহকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে। হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরও অভিযোগ করেন, প্রতিটি ব্যালটে ২০০ থেকে ৩০০ ভোট দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের এজেন্ট বানিয়ে ভোট কাটা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া মুড়ির প্যাকেট ও বাদামের মধ্যে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি রাতের আঁধারে দরিদ্র মানুষের মধ্যে টাকা বিতরণ করে ভোটে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেন তিনি।

হাবিবুল ইসলাম হাবিবের এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান। ১০ আগস্ট গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা জরুরি। প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ছাড়া কোনো উদ্দেশ্য পূরণ করে না। মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান বলেন, অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান একজন ‘মজলুম জননেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা’। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অতীতের একটি ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে কাউকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া ও নৈতিকভাবে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র। জনগণের সমর্থন হারানোর আশঙ্কা থেকেই একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাওলানা কামারুজ্জামান বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করে জনগণের সমর্থন অর্জন বা পরিবর্তন করা যায় না। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তবতা ও কাজের মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করার পর এর জবাব দিয়েছেন অধ্যক্ষ বিপু। তিনি দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। বরং একজন ব্যক্তিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার সাক্ষী হিসেবে তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে তাঁর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসত্য তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন মিথ্যাচার, অপপ্রচার কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্রহননের পর্যায়ে না যায় সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; তবে গঠনমূলক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা উচিত। জামায়াতে ইসলামী ও এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি।

 

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *