আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক ও বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ কয়েকজন বিচারক বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি করে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের পাশাপাশি আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণসংক্রান্ত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক ও বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ কয়েকজন বিচারক অর্থনৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত না হলেও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি করে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন এবং আইনের শাসনকে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন।
বিচারপতি খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রধান বিচারপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ১৭ মে তারিখে ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসর গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে তত্ত্বাবাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সর্ম্পকিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করা হয়। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই সকালে তাকে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত আছেন।
অন্যদিকে, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, তারা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন। আমরা সেটি মেরামতের কাজ করছি। এই মেরামত প্রক্রিয়ায় একটু সময় লাগবে। সেই সময়টুকু আমরা আপনাদের কাছ থেকে আশা করি। তার আগে আমাদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখার অনুরোধ করছি।
সরকারের মূল উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার দেশের মানুষের সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী প্রতিশোধের পথে না হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধপরায়ণ এখনো হইনি; হতে চাই না।
মন্ত্রী বলেন, দেশের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিশোধের পথে না যাওয়ার নীতিই সরকার অনুসরণ করছে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদেরও প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল বাশার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, বিজিবি ও র্যাবের অধিনায়কসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, আইনজীবী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এর আগে সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে জেলা ও দায়রা জজ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় আদালতকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংকটের কথা শোনেন এবং সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
ক্রাইম বার্তা