সাতক্ষীরায় বুশরা হাসপাতালে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় লিখিত ডাইরি

চেক ও মানি রসিদ জিম্মি করে এক কোটি টাকা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

শেখ কামরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় বুশরা হাসপাতালে ভাঙচুর, ৫০ লাখ টাকার চেক ও মানি রসিদ আটকে রেখে এক কোটি টাকা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুশরা গ্রুপ লিমিটেডের প্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আব্দুল্যাহ আল মামুন সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল তিনটার দিকে রফিকুল ইসলাম কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে বুশরা হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের কেবিন ভাঙচুর করেন। এ সময় আব্দুল্যাহ আল মামুনকে গালিগালাজ, অপমান-অপদস্থ এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি আবারও ভাঙচুর করা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুরের (দিঘিরপাড়) বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৪৮) প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে বুশরা গ্রুপের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন করে আসছেন। পূর্বের আমানত হিসাব বন্ধ করে ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি তিনি তাঁর ছেলের নামে এমপিডিআর (মাসিক মুনাফাভিত্তিক আমানত) প্রকল্পে ৫০ লাখ টাকা জমা রাখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে গত ১৪ জুন সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৫১৭৮ নম্বর সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে ৩৫ দশমিক ৭২ শতক জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। জমি কেনাবেচার আগে বায়না ও আর্থিক লেনদেনের অংশ হিসেবে জামিনদার বা গ্যারান্টার হিসেবে আব্দুল্যাহ আল মামুনের যমুনা ব্যাংক, সাতক্ষীরা শাখার একটি চেক দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের আমানত-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও চেক ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রফিকুল ইসলাম সেগুলো ফেরত না দিয়ে এক কোটি টাকা দাবি করতে থাকেন। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর কোনো বকেয়া আর্থিক লেনদেন না থাকলেও বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ২৭ অক্টোবর জমির মূল্য ও পাওনা সমন্বয়ের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কার্যক্রম চলাকালে রফিকুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে অবস্থান করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সরকারি রাজস্ব পরিশোধ ও জমি রেজিস্ট্রির কাজে বাধা দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। এ সময় ফরহা আল মাসুদ ও মোহা. ইয়াছিন আলীসহ স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চেক ও মানি রসিদ ফেরত পেতে ব্যর্থ হওয়া এবং নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে আব্দুল্যাহ আল মামুন থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। শুনেছি, রফিকুল ইসলাম বুশরা গ্রুপের কাছে টাকা পাবে।”

অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *