একটি মহল জুজুবুড়ির ভয় দেখাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি মহল জুজুবুড়ির ভয় দেখিয়ে দেশের অগ্রযাত্রাকে ঠেকিয়ে রাখতে চায়। তারা একাত্তরে, ছিয়ানব্বইয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল। এখনও একই কাজ করতে চাইছে। বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীরা তাদের কাজ করবে, আমরা দেশ গড়ার কাজ করবো। জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। বায়বীয় টিকিট বিক্রেতাদের ওপর আস্থা রাখেনি। সুতরাং আমাদের কাজ দেশকে এগিয়ে নেওয়া। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।

তারেক রহমান সোমবার বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী আকাশপথে সকালে যশোর পৌঁছে সোজা চলে যান শার্শা উপজেলার উলাশীতে। সেখানে শহীদ জিয়ার স্মৃতিধন্য উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। পরে তিনি যশোর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-সংলগ্ন ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর করেন।

জনসভায় বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীরা বলে, আমরা নাকি স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলিয়েছি। দেশের সব মানুষ মিলে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিতাড়িত করেছে। আমরা তাদের আর ১৭৩ দিন হরতালের সুযোগ দেবো না। বরং মানুষ খুনে জড়িতদের বিচার হতে হবে। কিন্তু নির্বাচনের আগে কেউ কেউ বলেছিল, ‘আমরা তাদের মাফ করে দিলাম।’

তিনি বলেন, ‘সেই বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীরা দেখেছে, মানুষ শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়ার বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছে। এই ম্যান্ডেট কারও কারও পছন্দ নয়। তাই তারা এখন ঢাকা থেকে দূরে গিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে মিটিং করেছেন। জনগণ ঘিরে ফেললে তারা কোনো জবাব দিতে পারেনি।’

প্রধানমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছে। তাই এখন আমাদের দায়িত্ব দেশ গড়া। মানুষ যদি আপনাদের ম্যান্ডেট দেয় তো আপনারা দায়িত্ব নিয়ে দেশ চালাবেন।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি। সুতরাং আমরা এই সনদ বাস্তবায়ন করবো। বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে কোনো লাভ হবে না।’

বাংলাদেশের মানুষ শান্তি, ‘সম্প্রীতি চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নও দেখতে চায়। তাই আমাদের এখন কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় অনেক দেশ আমাদের মতোই ছিল। তারা দীর্ঘ পরিশ্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। আমরা কোনো টিকিট বিক্রি করতে চাই না। আমরা কাজ করতে চাই। বিএনপি সরকার সেই কাজগুলোই করবে, যে কাজে মানুষ উপকৃত হয়।’

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন দ্রুততার সাথে শুরু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের অর্ধেকই হলো নারী। এই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না করে দেশ এগিয়ে নেওয়া যাবে না। তাই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যে আমরা পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে কোটি নারীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে যাবে।’

তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষিত করতে বেগম খালেদা জিয়া সরকার দুই দফায় ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত লেখাপড়া ফ্রি করে দিয়েছিল। এবার সরকার মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত লেখাপড়া ফ্রি করে দেবে। ভালো রেজাল্ট করতে পারলে তারা উপবৃত্তিও পাবে।

‘রান্না করতে গিয়ে প্রতিদিন মা-বোনদের যুদ্ধ করতে হয়’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এবার ‘এলপিজি কার্ড’ সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে করে রান্নার জন্য নারীদের আর দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মসজিদ-মাদরাসা, মন্দিরসহ অন্যান্য উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, গুরুদের সম্মানির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে তা চালু করা হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদাসলে মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সরকার গঠনের দশ দিনের মাথায় আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি। এর ফলে ১২ লাখ কৃষক প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে। ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।’

কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল বন্ধ কলকারখানা চালু করার। কয়েক মাসের মধ্যে আমরা সেই কাজ শুরু করবো। এতে কর্মহীন হয়ে পড়া এবং শিক্ষিত অনেক তরুণ-তরুণী কাজ পাবে। বিদেশেও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।’

যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তৃব্য রাখেন, দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু প্রমুখ। এসময় মঞ্চে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে খালে কোদাল চালিয়ে দেশজুড়ে ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, সাড়ে চার দশক পর সেই খালে কোদাল চালালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার দুপুর ১২টায় যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশীকে সেই ‘জিয়া খাল’ পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, এমপি, স্থানীয় নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উলাশী খাল পুনঃখনন উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক ও স্থানীয় জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, এই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার চাষিরা ফসলের ক্ষেতে আবার সেচ সুবিধা পাবেন। ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে এগিয়ে যাবে।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *